November 16, 2018

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার জামিনে আদালতে আ.লীগ এম.পির সুপারিশ

received_1858361864233833

নিজেস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওয়ে একটি নাশকতার মামলা থেকে এক বিএনপি নেতার জামিনের জন্য আদালতে সুপারিশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

সুপারিশপত্রে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ দবিরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের’ প্যাডে স্বাক্ষর করে সুপারিশটি করেছেন।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার আমগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আমগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। এছাড়াও সে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বাড়ি আমগাঁও ইউনিয়নের ভেটনা গ্রামে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখর কুমার রায় বলেন, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী আসামী রফিকুল ইসলামের পক্ষে জামিন চেয়ে তাঁর আইনজীবী ঠাকুরগাঁও জেলা দায়রা ও জজ আদালতে সাংসদ দবিরুল ইসলামের একটি সুপারিশপত্র দাখিল করেন।
received_1858361880900498

সুপারিশপত্রে বলা হয়, “রফিকুল ইসলামকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। তিনি আমার নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি বর্তমানে ২ নম্বর আমগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। আমার জানামতে, তিনি কোন সমাজ বা রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপের সাথে জড়িত নহে।”

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামান সাংসদ দবিরুল ইসলামের সুপারশিপত্রটি সঠিক আছে কিনা তা খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখর কুমার রায়।

ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম সহ অন্য তিনজন আসামী ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখর কুমার রায় বলেন, সাংসদ দবিরুল ইসলামের মুঠোফোনে দুইবার যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু তার ফোন বন্ধ ছিল। যে ধারায় মামলা হয়েছে এটার সাজা মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরিপুর থানার এসআই ভুষণ চন্দ্র বর্মন বলেন, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদে জানা যায় বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ৩০-৩৫ জন লোকজন ‘অন্তর্ঘাত মূলক কর্মকান্ড’ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকতাকে জানানো হয়। এরপর উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী সকাল ৭টার দিকে হরিপুর থানার এসআই রেজাউল আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠককারীরা পালানোর সময় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান ওরফে ডাবলু, শফিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

এরপর বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বাড়ি তল্লাশী করে লোহার রড, হাতুরি, পেট্রোলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুষণ চন্দ্র বর্মন বলেন, আটককৃত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করে জানায়, ৩০-৩৫ মিলে তারা গোপন বৈঠক করছিল। বৈঠকে উপস্থিত সকলের সহযোগিতায় হরিপুর উপজেলায় বিভিন্ন যানবাহন, কামারপুকুর এলাকায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘অন্তর্ঘাত মূলক কর্মকান্ড’ সংঘটন করত। এতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের মাঝে ভীতি সৃষ্টি হত।

ঐদিনই হরিপুর থানার এসআই রেজাউল আলম বাদী হয়ে হরিপুর থানায় ‘বিশেষ মতা আইন ১৯৭৪ এর ১৫ (১) (ক) ধারায়’ একটি মামলা দায়ের করে।

পরে আটককৃত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামসহ ৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি আমরা তদন্ত করছি; সেই সাথে বৈঠকে উপস্থিত আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুষণ চন্দ্র বর্মন।

আমগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম আমার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সে হরিপুর উপজেলা বিএনপির ৯৫ নম্বর সদস্য। আমি শুনেছি পুলিশ তাকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। সে নাকি বাড়িতে ৩০-৩৫ জন লোক নিয়ে গোপন বৈঠিক করছিল।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাংসদ আলহাজ দবিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নয়; এজন্য সুপারিশ করেছি। পুলিশ যদি এখন তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দেয় তাহলে তো কিছুই করার নাই।

রফিকুল ইসলাম বিএনপি নেতা এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ দবিরুল বলেন, রফিকুল ইসলাম জাতীয় পার্টি করে, সে বিএনপি করে না। আর জাতীয় পার্টির লোকজন আমাদের পইে মহাজোটে কাজ করে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর সাংসদ দবিরুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির শামসুজ্জামান দুলালকে ‘সন্ত্রাস বিরোধী মামলা’ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার বরাবর সুপারিশ করেছিল। এ সংবাদ বিভিন্নি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

Related posts