November 20, 2018

দুই মেয়রের ছয় মাস >>দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই

                                                       আনিসুল হক, সাঈদ খোকন

ছয় মাস পার করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র। এ সময়ে কাগজে-কলমে অনেক পরিকল্পনা, উদ্যোগ নেয়ার খবর থাকলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি নগরবাসীর। সড়কের বেহাল দশা কমার বদলে দিনকে দিন আরো বেড়েছে। রাস্তা খুঁড়ে রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। রাস্তা থেকে ময়লার ডাস্টবিন সরেনি একটিও, বরং পরিধি আরো বেড়েছে। রাস্তা-ফুটপাথের দখলবাজরা আগের চেয়েও বেপরোয়া। বর্ষাকালের জলাবদ্ধতার রেশ গ্রীষ্মকালেও দেখা মিলছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি বেড়েছে কয়েক গুণ। মেয়ররা ছয় মাসের মধ্যে প্রায় এক মাসই দেশের বাইরে কাটিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছেন। বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছেন। বর্তমানে তা দৃশ্যমান না হলেও অদূর ভবিষ্যতে এর সুফল পাবে নগরবাসী।

ডিএনসিসি: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের পর ৬ মে মেয়র হিসেবে শপথ নেন। ১৪ মে প্রথম বোর্ড সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এ ব্যবসায়ী নেতা। নির্বাচনের আগে তিনি ‘আমরা ঢাকা’ শিরোনাম দিয়ে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আলোকিত ও মানবিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ‘সমস্যা চিহ্নিত, এবার সমাধানযাত্রা’ স্লোগান দিয়ে নিরাপদ স্বাস্থ্যকর ঢাকা, সচল ঢাকা, মানবিক উন্নয়নের ঢাকা, স্মার্ট ও ডিজিটাল ঢাকা, অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসিত ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ছিল তার। তিনি মশকমুক্ত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ, স্মার্ট কার্ড প্রদান, ফরমালিনমুক্ত ও নিরাপদ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, মাদক ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ, সড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, স্কুলে হেলথ প্রোগ্রাম চালু, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টার করাসহ বিভিন্ন স্বপ্ন দেখান।

দায়িত্ব নেয়ার পর ছয় মাস পার হয়েছে। পরিচ্ছন্ন-সবুজ-আলোকিত ও মানবিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র হলেও এখনো নগরজীবনে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিশাল প্রত্যাশার বিপরীতে কাজ বুঝে নেয়া ও প্রকল্প গ্রহণ করতেই সময় পার করেছেন মেয়র। এক্ষেত্রে তার তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। তবে বাস্তবে মানুষ এখনো কোনো সুফল পায়নি, বরং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এর ঢেউ এখনো দেখা যায় কোথাও কোথাও। শীতকাল চলে এলেও উত্তর সিটির অনেক সড়কে এখনো পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

অভিজাত এলাকা নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন গঠিত হলেও ডাস্টবিনের যন্ত্রণা তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। নাকে রুমাল দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বারীধারা এলাকায় ভেতরে সমিতির উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করলেও তা ফেলা হচ্ছে নতুনবাজারের অদূরে মূল সড়কে। বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে সব সময় এখানে ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। দুর্গন্ধে চলা যায় না। তবে ডিএনসিসি বেশ কয়েকটি স্থানে মিনি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ করেছে। এর কয়েকটি রয়েছে রাস্তার গা ঘেঁষে। তা ছাড়া এগুলোও খোলা জায়গায় হওয়ায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মশকমুক্ত করার জন্য গত অর্থবছরে ২০০টি হস্তচালিত স্প্রে মেশিন ও ১০০টি ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। এ বছর আরো ১০০টি ফগার মেশিন, ১০০টি স্প্রে মেশিন এবং চারটি হুইল ব্যরো মেশিন কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তারপরও নগরীতে মশার উৎপাত কমেনি এতটুকুও, বরং ডেঙ্গুর উপদ্রব এ বছর বিগত কয়েক বছরের থেকে বেশি হয়েছে। মেয়র ফরমালিনমুক্ত খাবার উপহার দিতে বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি।

ব্যবসায়ীরা আগের মতোই তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফুটপাথ হকারমুক্ত করতে বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কাছে চরম অসহায় হয়ে এখন এ কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। কোরবানির পশুহাটের সিন্ডিকেটও ভাঙতে পারেননি তিনি। মাদক ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ, স্কুলে হেলথ প্রোগ্রাম চালু, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টার করার কথা থাকলেও তার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিলবোর্ড অপসারণে অভিযান চালানো হলেও উল্টো নিজেরাই বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়ক থেকে অবৈধ পার্কিং সরাতে মেয়র অনড়। কিন্তু গত ৮ নভেম্বর অভিযান চালাতে গিয়েও সফলতা ছাড়াই ফিরে গেছেন। কাওরানবাজারের অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে আলটিমেটাম দিয়েছেন, কিন্তু এখনো সরেনি তারা।

আনিসুল হক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পরই সরকারের সহযোগিতা পান। উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া ২০০ কোটি টাকা একনেক সভায় চূড়ান্ত করা হয়। তিনি গত অর্থবছরের ৮০৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার বাজেটের স্থলে নতুন বছরে তার দ্বিগুণ ১৬০১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বাজেট দেয়ার সাহস দেখান। অবশ্য এর মধ্যে সরকারি অনুদান ও বিদেশী সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে ৬১১ কোটি টাকা আয় হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তার।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-বারীধারা ও বনানী এলাকার রাস্তা-ফুটপাথ ও ড্রেন উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা, উত্তরা এলাকার উন্নয়নে ১২০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য এলাকার উন্নয়নে আরো ১৬০ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএনসিসি। এ জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। টেন্ডারের পর ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

মেয়র আনিসুল হক জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি, কাউন্সিলরগণ এবং ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য সাতরাস্তা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২২টি পয়েন্টে ইউ-লুপ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তেজগাঁও রাস্তার ওপর থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এবং কাওরানবাজার থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ঢাকাকে গ্রিন ও কিন করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৮০ ভাগ বিলবোর্ড ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে, ডিসেম্বর মাস নাগাদ শতভাগ বিলবোর্ড অপসারণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, রাস্তার ওপর যাতে ময়লার স্তূপ না থাকে সে জন্য ৭২ টি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শতাধিক সিসিক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, আরো ৮০০ ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ১৬৯ জন কর্মচারীকে আন্তঃবদলি করে কাজে গতি আনার চেষ্টা করেছেন। বাজার মনিটরিং, এলাকার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে অনেক কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে অতি শিগগিরই জনগণ এর সুফল পাবে। তবে জলজট সমস্যার সমাধান তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ডিএসসিসি: গত ৬ মে দুই মেয়র শপথ নিলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন কাজ শুরু করেন ১৭ মে থেকে। চরম আর্থিক সঙ্কটে থাকা ডিএসসিসির মেয়রের দায়িত্বে বসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে হিমশিম খেতে থাকেন তিনি। প্র্রতিদিনই শত শত মানুষ এলাকার সমস্যা নিয়ে নগরভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। নির্বাচনের আগে নগরসমস্যা সমাধানে ইশতেহারে পাঁচটি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সাঈদ খোকন। এরমধ্যে ১. যানজট নিরসন, ২. দূষণমুক্ত, নাব্য ও নিরাপদ বুড়িগঙ্গা, ৩. পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করা, ৪. পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর মহানগরী এবং ৫. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং নাগরিকজনের নিরাপদ জীবন।

কিন্তু এর কোনোটিই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। যানজট এখন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে মেয়র পুলিশের সাথে বসে এর সমাধান করার কয়েক দফা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এ জন্য তিনি ফুটপাথ দখলমুক্ত করার চেষ্টা করলেও দখলদারদের কাছে পরাস্ত হয়েছেন। সকালে হকার সরালে বিকেলেই আবার বসে পড়ছে। কারণ এর সাথে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিশাল অঙ্কের চাঁদাবাজির ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক নেতা হয়ে তাদের চটাতে চান না মেয়র। এ জন্য তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তারপরও মেয়র গত ১২ নভেম্বর ‘কিন গুলিস্তান’ গড়ার প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন। আগামী সাত কার্যদিবসের পর হকারদের নতুন জায়গায় স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন ফুটপাথ ও রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না। চাঁদাবাজি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র। বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে মেয়র আন্তরিক। এ জন্য প্রকল্প গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এটি শুরু হতে এখনো অনেক সময় লাগবে। ফলে এর সুফল পেতেও ধৈর্য ধরতে হবে নগরবাসীকে।

পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস মেয়রের দায়িত্ব না হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারতেন। কিন্তু ওয়াসার ওপর দায় চাপিয়ে তিনি দায়িত্ব এড়াতে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসাও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বর্ষাকালে মূল সড়কেও পানি জমে যায়। আর মেয়র হাঁটু পানিতে নেমে মানুষের সহমর্মিতা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মেয়রের কাছে নগরবাসীর মূল দাবি রাস্তার উন্নয়ন হলেও ডিএসসির প্রতিটি সড়কই এখন ভাঙাচোরা। যে সড়কেই যাওয়া হয় সেখানেই ছোট বড় অসংখ্য গর্তে ভরা। তিনি এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছেন। তবে তাদের চাহিদা ছিল আরো ১০০ কোটি টাকা বেশি। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা কাটছাঁট করতে হয়েছে। টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা পেলেও এখনো সড়কে হাত দিতে পারেনি ডিএসসিসি। আগামী মাসে কাজ শুরু হওয়ার আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। ফলে দক্ষিণের ১৬৯কিলোমিটার ভাঙাচোরা সড়কের বেহাল দশা থেকে মুক্তি পেতে এখনো অপেক্ষা করতে হবে নগরবাসীকে। মেয়র সড়ক বাতি জ্বালাতে উদ্যোগ নিলেও এখনো অনেক এলাকায় রাত হলেই অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।

নগরীতে বর্জ্য একটি বড় সমস্যা। রাজধানীর প্রতিটি সড়কের মাঝে বড় বড় কনটেইনার বসিয়ে রাখা হয়েছে। বেশির ভাগ রাস্তাজুড়েই পরিচ্ছন্নকর্মীরা ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন। এতে দুর্গন্ধে চলা দায় হয়ে পড়ে। এডিপির একটি প্রকল্পে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে তাও করতে পারেননি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। পান্থকুঞ্জ ও হাজারিবাগে দু’টি স্টেশন নির্মাণকালে মামলার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে মেয়রকে তেমন কোনো উদ্যোগ নিতেও দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে ১০ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে দু’টি কমিটি গঠন করা হলেও তাদের কাজের ফলাফলও শূন্য। তিনি বাড়ি বাড়ি ময়লা ফেলার ব্যাগ দেয়ার ঘোষণা দিলেও খুব কম লোকই তা পেয়েছে। মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে।

মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছেন, প্রথমে আর্থিক সঙ্কট দূর করতে তাকে প্রধানমন্ত্রী থেকে বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশী দাতা সংস্থার প্রতিনিধির সাথেও বৈঠক করেছেন। তারা বিভিন্ন প্রকল্প দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার দু-একটি পেয়েছেনও। সরকারের আড়াই শ’ কোটি টাকার পাশাপাশি আরো ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাওয়া গেছে। এগুলোর কিছু শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। রাস্তার পাশে খাবার বিক্রেতাদের মধ্যে ১০০টি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গাড়ি উপহার দিয়েছেন। রমজানে বাজারমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং ও খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় ভবনধস ঝুঁকিমুক্ত করতে দিনরাত ছুটে গেছেন মেয়র। এলাকার হাতছাড়া ও বেদখল হয়ে থাকা খেলার মাঠগুলো নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে তৎপর হয়েছেন। ইতোমধ্যে পুরান ঢাকার ধুপখোলা মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে। মাঠগুলোকে জনগণের কাছে ছেড়ে দেয়াই তারল্য। পাবলিক টয়লেটের সমস্যা সমাধানে রাজধানীর পেট্রল পাম্পগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। সর্বোপরি দুর্নীতি রোধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি করা হয়েছে। গুলিস্তানসহ অন্যান্য রাস্তা ও ফুটপাথের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে। মেয়র সাঈদ এ ক্ষেত্রে জনগণের আরো সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উৎসঃ   নয়া দিগন্ত

গ্লোবাল নিউজ ২

Related posts