September 23, 2018

মা ইলিশ রক্ষায় আজ থেকে পদ্মা-মেঘনার ৫ অভয়াশ্রমে ২২দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ

11এ কে আজাদ, চাঁদপুর : জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আজ ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২দিন নদীতে মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২২দিনের এ অভিযানে এসব এলাকায় মাছ আহরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন সম্পূণরূূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত চাঁদপুর জেলা ট্রাস্কফোর্স ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। গত কয়েক বছর জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় ইলিশের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের কয়েকটি অভয়াশ্রমের মধ্যে চাঁদপুরের ১শ’ কিলোমিটার এলাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে ধরা হয়। ইতমধ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সভা, সমাবেশসহ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের নিয়ে সচেতনতা মূলক মতবিনিময়সহ এলাকায়-এলাকায় মাইকিং এবং পোস্টারিং করা হচ্ছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকের আয়োজনে জেলা ট্রাস্কফোর্স কমিটির বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সভা গুলোতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেছেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু হবে। বিগত বছর গুলোর চাইতে এ বছর আরোও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। মা ইলিশ রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার এই ইলিশের নামেই চাঁদপুরকে ব্যান্ডিং জেলা হিসাবে ঘোষণা করেছে। যদি আমরা চাঁদপুরবাসী মা ইলিশ রক্ষা করতে না পারি। তাহলে আমাদের ইলিশের নামের ব্যান্ডিং জেলার কোনো মূল্য থাকবে না। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, যে সকল এলাকাগুলোতে জেলেরা বেশি নদীতে নামে সেই সকল এলাকাগুলো কে চিহ্নিত করে প্রশাসনের নজরধারী বাড়ানো হবে। কোনো জেলে নদীতে নামতে পারবে না। যদি কোনো জেলে মাছ ধরতে নদীতে যায়, তাহলে তাদের সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। যে সকল অসাধু জেলেদের জেল হবে, তারা জামিন পাবে না এবং জব্দ করা জাল ও নৌকা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে। মা ইলিশ রক্ষায় পুলিশ, চেয়ারম্যান, মেম্বার যেই হোক। কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সুধু তাই নয় যাদের প্ররোচনায় জেলেরা মাছ ধরতে যাবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। চর এলাকায় কিছু কিছু স্থানে অসাধু জেলেরা কারেন্ট জাল ফেলার চেষ্টা করে। সে স্থানগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং অভায়াশ্রম চলাকালিন সময়ে নদীতে মাছ ধরার নৌকাগুলোকে জব্দ করে আইনাগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া অভায়াশ্রম চলাকালীন সময়ে যদি কোন বরফ কল মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। জেলা মৎস কর্মকর্তা একা একা কাজ করলে হবে না মৎস কর্মকর্তারা ম্যাজিস্টেটদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সর্বপরি মা ইলিশ রক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল।

Related posts