September 19, 2018

৯ উপজেলায় ২৫ হাজার বাক্স মৌমাছি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত

রুহুল আমিন,চলনবিল প্রতিনিধি: হেমন্ত আর শীতের সন্ধিক্ষণে চলনবিলের মাঠে মাঠে ঝলসে উঠেছে সরিষার ফুল। দিগন্তব্যাপী হলদে ফুলের রাজ্যে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটছে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি। নিবিড় সরিষা চাষের জন্য বিখ্যাত চলনবিল মধু সংগ্রহে একটি সম্ভাবনাসময় স্পট হিসেবে দেশের মৌখামারিদের নিকট পরিচিত হয়ে উঠেছে। ৯ উপজেলার সাড়ে ৫৪ হাজার হেক্টর সরিষার ক্ষেতে অন্তত ২৫ হাজার বাকস মৌমাছি মধু সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সমূহ সূত্রে জানা যায়।

কৃষি অফিসের প্রাপ্ত তথ্য মতে চলনবিলে নিবিড় সরিষা চাষ হয়ে থাকে। বিলের নিচু অ লে বন্যা মৌসুমে কোন আবাদ না থাকায় পানি নিষ্কাশনের পরই সরিষার আবাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে কৃষকরা। বন্যার পানি নামতে বিলম্ব হলেই সরিষার আবাদ পিছিয়ে যায়। এমনকি অনেক সময় ভন্ডুন হয়ে পড়ে সরিষার আবাদ। চলনবিল আগাম বন্যার অ ল হিসেবে প্রধান ফসল ইরি-বোরো’র আবাদ করতে হয় আগাম এবং দ্রুত। এ বছর সু্যঁতি জাল এবং নানা প্রতিরোধ সৃষ্টি করে পানি আটকিয়ে মাছ ধরার কারণে তাড়াশ উপজেলার পশ্চিম অ ল, সিংড়া, আত্রাই, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুরা উপজেলার অনেক কৃষকই সরিষার আবাদ করতে পারেনি। এতদসত্বেও ৯ উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে ৫৪ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর জমিতে। তন্মদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও তাড়াশ উপজেলার সরিষার আবাদে অর্জিত সাফল্য ৪০ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর। পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুর উপজেলায় সরিষার চাষ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৫শ হেক্টর, নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়ায় ৫ হাজার হেক্টর। নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এ বছর সরিষার আবাদ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। বন্যার পানি নিষ্কাশনে বিলম্বের কারণে সরিষার আবাদ হ্রাস হয়েছে বলে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান।

এ বছর সরিষা চাষের পর থেকেই বৃষ্টিপাত নেই। কৃষক অধিক ফলনের তাগিদে সরিষার ক্ষেত্রে সেচ কাজ সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও রোগ-বালাই প্রতিরোধে কীটনাশক, ফলন বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন প্রয়োগ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে ফলন বৃদ্ধির জন্য যা যা করা দরকার চলনবিলের শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিক ও অশিক্ষিত চাষীরা সবকিছুই করছেন। ভাল ফলন পাওয়ার আশায় এখন উন্মুখ হয়ে আছেন ৯ উপজেলার কৃষকরা।

এদিকে ক্ষেতে সরিষা ফুল ফোঁটার আগেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অ ল থেকে মৌখামারিরা মধু সংগ্রহের জন্য ছুটে এসেছে চলনবিলে। তাদের সুবিধা মত স্পটে মৌমাছির বাকস স্থাপন করে আস্তানা করেছে। মৌখামারিদের অধিকাংশই দক্ষিন বাংলার সাতক্ষিরা, বাগেরহাট ও খুলনার। পূর্বের নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ’র, ময়মনসিংহের এবং সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের মৌখামারিরা মৌমাছির বাকস নিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য চলনবিলের মাঠে অবস্থান করছে। ৯ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫ শতাধিক খামারি অন্তত ২৫ হাজার মৌমাছির বাকস সেট করেছে।

তন্মধ্যে শাহজাদপুর উপজেলায় মৌমাছির বাকসের সংখ্যা ৭ হাজার বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান। ফলন বৃদ্ধির জন্য তিনি স্থানীয় ও বাহিরের খামারিদের শাহজাদপুরের সরিষার মাঠে আসতে উৎসাহিত করেছেন। উল্লাপাড়ার বিলের নি¤œ অ লের ৫টি ইউনিয়নের সরিষার ক্ষেতে অন্তত ৫টি স্পটে ৪ হাজার বাকস সেট করে মধু সংগ্রহের কাজ চলছে। তাড়াশ উপজেলার মাকড়শন মাঠের খামারি ইয়াছিন আলীর বাড়ী সাতক্ষিরার শ্যামনগর। সে জানায়, চলনবিল এখন মধু সংগ্রহের জন্য তাদের নিকট পরিচিত নাম। তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে জানান, কতটি খামার এবং কতটি মৌমাছির বাকস মাঠে মাঠে রয়েছে তা এই মূহুর্তে তার জানা নেই। গুরুদাসপুর, সিংড়া, আত্রাই, চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুর উপজেলাতেও মৌখামারিরা মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। নিবিড় সরিষা চাষের জন্য বিখ্যাত চলনবিলের দিগন্তরাজি মাঠের পর মাঠে মধু সংগ্রহ মৌখামারিদের নিকট আর অপরিচিত নয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts