September 24, 2018

৮ সন্দেহভাজনের তিনজন সপরিবারে ‘উধাও’

ঢাকাঃ দীর্ঘদিন ধরে ‘নিখোঁজ’ থাকা দুই নারীসহ আটজনের মধ্যে তিনজনই সপরিবারে ‘উধাও’ হয়েছেন। স্বজনরা ধারণা করছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো জঙ্গি আস্তানায় রয়েছেন।

মঙ্গলবার গোয়েন্দারা ওই আটজনের বিষয়ে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন। স্বজনরা তাদের ফিরে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন। এরইমধ্যে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই আটজনের মধ্যে ডা. আরাফাত আল আজাদ ওরফে তুষার ও তাহমিদ রহমান সাফির বক্তব্য দিয়ে গত মাসে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়।

নিখোঁজ তালিকায় থাকা এ কে এম তুরকিউর রহমান সপরিবারে উধাও হয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। বগুড়ার তুরকিউরের সঙ্গে তার স্ত্রী রিদিতা রাহিলা ইকবালা ও এক বছরের মেয়ে রুমাইসা বিনতে তাকিও রয়েছে। গত বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে তারা ‘নিখোঁজ’।

সূত্র জানায়, তুরকিউর অস্টেলিয়ায় পড়ালেখা করেন। ওই সময়ে তিনি উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়েন। পরে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করেন। সন্তানের বয়স এক বছর হলে তারা ওমরাহ করার কথা বলে তুরস্কে পাড়ি জমান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিখোঁজ থাকা সহোদর দুই বোনের মধ্যে সায়মা আক্তার মুক্তা স্বামী শিফুল হক সুজনের সঙ্গে উধাও হন। ওই সময় তিনি সন্তানসম্ভবা ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছয় বছরের ছেলে আমান শেখ, চার বছরের রোমানও ছিল। যুদ্ধকবলিত মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে গিয়ে মুক্তা অপর সন্তানের জন্ম দেন। তার নাম রাখা হয় ওসমান। তারা ওই দেশেই বসবাস করছেন বলে স্বজনরা সন্দেহ করছেন। মুক্তার বোন রাবেয়া আক্তার টুম্পাও তাদের সঙ্গে চলে যান।

‘নিখোঁজ’ সাইমুন হাছিব মোনাজের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. মুসা। মোনাজের স্ত্রীর নাম মিশু। ঢাকার বনানীতে তাদের বাসা। তবে তার বাবা মোহাম্মদ মুসা দাবি করেছেন, তার ছেলে নিখোঁজ নয়। তিনি ফোনে সমকালকে জানান, তার ছেলে মালয়েশিয়ায় পড়তে গেছে। সেখানে তিনি নিয়মিত টাকাও পাঠাচ্ছেন।

‘নিখোঁজ’ ডা. তুষার ২০০৭ সালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিটি ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্তচিকিৎসায় ডিগ্রি নেন। ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর তিনি নিখোঁজ হন। এর পরদিন স্বজনরা রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তুষার মডেল নায়লা নাইমের সাবেক স্বামী বলেও জানা গেছে। নিখোঁজের পর তুষার ‘আবু খালিদ আল বাঙালি’ নাম ধারণ করেন বলে সূত্রগুলো বলছে। নিখোঁজদের নিয়ে প্রকাশ করা র‌্যাবের ৬৮ জনের হালনাগাদ তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছেন তিনি।

অন্যজন তাহমিদ রহমান সাফি সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাইফুর রহমানের ছেলে। তাদের বাসা রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার ৮/এ নম্বর রোডে। বুধবার তার বিষয়ে জানতে ওই বাসায় গেলেও কেউ মূল ফটক খোলেননি। একটি সূত্র জানায়, সাফি গত বছরের এপ্রিলে নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনরা খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর আগে তিনি ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিখোঁজের পর তিনি ‘আবু ইছা আল বাঙালি’ নাম ধারণ করেন।

গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলার পর আইএসের বরাত দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। এতে তিন তরুণকে বাংলায় কথা বলতে দেখা যায়। প্রায় ছয় মিনিটের ওই ভিডিওতে দেশে আরও জঙ্গি হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। খ্রিস্ট্রান, ইহুদি, ক্রুসেডার ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে এই ‘জিহাদ’ চলবে বলে উল্লেখ করে তিন তরুণ। তাদের দুজন ছিলেন এই ডা. তুষার ও সাফি। অন্যজন তৌসিফও র‌্যাবের প্রকাশিত নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন।সমকাল

Related posts