September 23, 2018

‘৮৬-র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি ছিলাম না’

534

‘১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আমি রাজি ছিলাম না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দলের সাবেক নেতা ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজনের চাপে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। নির্বাচন নিয়ে এমন সিদ্ধান্তহীনতার ঘটনা আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রথম ছিল।’ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় শেখ হাসিনা এমন স্মৃতিচারণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দেওয়ানি মামলা পরিহার এবং আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভার নিয়মিত এ বৈঠকে খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, মূলত পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ’৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা ওঠে। এইচএম এরশাদের শাসনামলে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত ও সমালোচিত জাতীয় সংসদের এ নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায় বিএনপি। তৎকালীন প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ওই সময় এইচএম এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছিল। বৈঠকে শেখ হাসিনা জানান, চট্টগ্রামে এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে তার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। তাই ওই জনসভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা না দিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। পরে ঢাকায় ফিরে এলে ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজন নেতা তাকে প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকেন। তারা বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। আবার নির্বাচনের দিন ওই ড. কামাল হোসেনই কিছু দুর্বল দিক তুলে ধরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার জন্য আবার চাপ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতার যে গুণাবলী থাকা উচিত তা তার (ড. কামাল হোসেন) কমতি ছিল। শেখ হাসিনা আরেকটি নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, তিনি (ড. কামাল হোসেন) ঢাকায় নির্বাচন করছেন। তার স্ত্রী নির্বাচনের দিন মানিকগঞ্জে এবং কন্যা আরেক জেলায় গেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। এ যখন অবস্থা তখন ওই নেতা নির্বাচনে জয়ী হবেন কীভাবে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের সাবেক এ নেতা বর্তমানে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন- এমন আরও কিছু বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার বিষয়ে ওই নেতার আগ্রহ এবং ওই সময় তাকে (ড. কামাল হোসেন) সমর্থনকারী আরও কয়েকজন নেতার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন শেখ হাসিনা।

মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ : সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থার মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সচিব পর্যায়ে ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি’ এবং একজন সিনিয়র মন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘আপিল কমিটি’ গঠন করা হবে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর পরস্পরের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিরোধ পরিহার ও আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলো বা মন্ত্রণালয়গুলোকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির কাছে যেতে হবে। কমিটি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে তা সিনিয়র মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আপিল কমিটিতে পেশ করা হবে। এই কমিটি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

শফিউল আলম বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের (সমন্বয়) নেতৃত্বে ৫ জন সদস্য থাকবেন। এতে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি এবং বিবদমান দুই মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব বা প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সমন্বয়) সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন। কমিটি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্য কোনো সদস্যকে কো-অপ্ট বা বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সিনিয়র মন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের আপিল কমিটির সদস্য হবেন আইনমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব বা প্রধানমন্ত্রীর সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। প্রয়োজনে এ কমিটি আরও সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫ অনুমোদন : মন্ত্রিসভার বৈঠকে পূর্ববর্তী ‘বঙ্গবন্ধু সেতু আইনের’ স্বীকৃতি দিয়ে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ আইনের অধীনে সেতু কর্তৃপক্ষ সেতু, টানেল, টোল রোড, এক্সপ্রেস ওয়ে, এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে, দেড় হাজার মিটার বা বেশি দীর্ঘ রিং রোড নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। কর্তৃপক্ষের অধীন স্থাপনা বা স্থাপনার অংশবিশেষ ব্যবহারকারী সংস্থা, পরিবহন ও ব্যক্তির কাছ থেকে টোল বা ফি আদায় করার কর্তৃত্ব এ সেতু কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। এ কর্তৃপক্ষের কার্য পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি বোর্ড থাকবে। বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান হবেন সেতু বিভাগের সচিব। সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালনা, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন নির্বাহী পরিচালক থাকবেন। বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে সেতু কর্তৃপক্ষ তহবিলের অংশবিশেষ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা সেতু কর্তৃপক্ষের কোনো সীমানা প্রাচীর, কোনো নোটিশ ও ট্রাফিক সাইন নষ্ট করা হলে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং কর্তৃপক্ষের কোনো আদেশ ও নোটিশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। তিনি সোমবার সকালে নগরীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মন্ত্রিসভা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান ও নৌপরিবহন সচিব শফিক আলম মেহেদীকে জনপ্রশাসনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts