December 17, 2018

৮০ বছরের বৃদ্ধাকে নিজ জমি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা

jomi_dokhol

নূরুল আমীন সিকদার, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। পোলাপাইন বিদেশে থাকে। সন্ত্রাসীরা আমার জমি কাইড়া নিতে চায়। প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। একের পর এক মিথ্যা মামলায় দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। আমি বাঁচতে চাই। বাঁচার জন্য আইনের আশ্রয় নেই। গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার ভিটি বাঘুন গ্রামের আঁশি বছরের বৃদ্ধা শরীফুল ইসলাম রতন মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন।

গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার বাঘুন গ্রামের শরীফুল ইসলাম রতন মিয়া (৮০) কে নিজ জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভেযোগ রয়েছে। এ ব্যাপরে সন্ত্রাসীদের থাবা থেকে বাঁচতে আইনি সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানাধীন ভিটি বাঘুন গ্রামের রাথুরা মৌজাস্থিত এলাকায় ধানী জমি ক্রয় করে একই গ্রামের মৃত- করিম নেওয়াজ খান এর ছেলে শরীফুল ইসলাম খাঁন রতন মিয়া তাঁর নিজ জমিতে ফলফলাদি করে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে।
গত ১২ জানুয়ারি সকালে উপজেলার রাথুরা গ্রামের মৃত-হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫), মো: খোকন (৪২), শিশু খাঁ (৩৫) (৩৫), মৃত আরব আলীর ছেলে সরুজ মিয়া (৪০) সহ আরও ৩/৪ জন সন্ত্রাসী শরীফুল ইসলাম রতন মিয়ার জমি জোর পূর্বক ভোগ দখল করার উদ্দেশ্যে জমিতে নামিয়া ধানের জমিতে চারা রোপন করে। এতে বাঁধা দিলে আসামীগন গালি গালাজসহ মারধর করিতে উদ্যত হইলে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। সন্ত্রাসীরা যে কেনো মূল্যে জমি জোর পূর্বক ভোগ দখল করিবে বলে জানায়। প্রাণ নাশ করিবে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। বিষয়টি নিয়ে রতন মিয়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানানো হয়। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, গাজীপুরে সি আর মো: নং ১০৭/১৫ মোকদ্দমা দায়ের হয়।

বাদী শরীফুল ইসলাম রতন মিয়া আর জানান, নিজ সম্পত্তির মাঝে ৩ টি পুকুর খনন করে রক্ষনা বেক্ষনের সুবিধার জন্য আনোয়ার গংদের সাথে মাছ চাষ করার জন্য অঙ্গীকার নামা হয়। আনোয়ার গং অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও শর্ত পূরুণ করেনি এবং পুকুরের দখল ছাড়ে নাই। এমনকি দুর্দান্ত আসামীগণ পুকুর পাড়ের মধ্যে আম, কাঁঠাল, জাম, পিয়ারা, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি গাছ হইতে দুই লাখ টাকার ফল মেহার নিয়া ক্ষতি সাধন করে এবং ফল ফলাদি ও বাঁশ সহ গাছের ডালপালা কাটিয়া বহু টাকার মালামাল চুরি করিয়া নিয়া যায়। ইহাতে অপূরুণীয় ক্ষতি হয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো: শরীফুল ইসলাম তোরন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বাক্ষর সংযুক্ত সালিশের রায়ে উল্লেখ করেন, সালিশ সভায় বিবাদী আনোয়ার গং উপস্থিত না হওয়ায় এটাই প্রতিয়মান হয় যে, বিবাদীদ্বয় আইন অমান্যকারী, প্রতারক, সকলে শান্তি বিনষ্টকারী ও পরধন লোভী লোক।

বিবাদী আনোয়ার হোসেন এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
কালিগঞ্জ থানার অফিচার্জ ইনচার্জ (ও সি ) মো: মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।

Related posts