November 20, 2018

৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট; অনুসন্ধান করছে দুদক!

গত বছরেই ৩ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই নন-ফান্ডেড অংশ হিসেবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ৯টি শাখা থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদকের একটি অনুসন্ধান টিম।

আর এই সব টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে। ব্যাংকটির নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে শতাধিক কোম্পানি ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। এসব টাকার সন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিমও গঠন করেছে কমিশন।

দুদক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক থেকে ওই শাখা থেকে প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নুরুজ্জামান, সিনিয়র অফিসার বাহার আলী হালদার, কবির আহমেদ, অফিসার বিমল কৃষ্ণ দাস এই বিপুল পরিমান টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগে বলা আছে।

তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। পরে তদন্তভার দুদকে এলে বিবাদী পক্ষ থেকে রিট করায় দীর্ঘদিন এই তদন্ত কাজ বন্ধ ছিল।

তবে প্রায় ছয় বছর পর অভিযোগটি তদন্তের ব্যাপারে কোনো বাধা না থাকায় আবার নতুন করে তদন্তে নেমেছে দুদক।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আসামিদের অবস্থান ও ঋণ সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর এসব তথ্য আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব তদন্ত শেষে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব লোপাট ও আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চার্জশিটকালে প্রায় অর্ধশত মামলার সংখ্যাও হতে পারে। তাই তদন্তে শেষেই আপনাদের এ ব্যপারে সঠিক তথ্য দেয়া হবে।’

এদিকে দুদকে আসা এ মামলা ১৫ পৃষ্ঠার এজহার সূত্রে জানা যায়, উপরোল্লিখিত কর্মকর্তাদের ওপর বিশ্বাস করে ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বহু প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের দায়িত্ব দেয়। ধনী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাক টু ব্যাক এলসির আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বও দেয়া হয় তাদের। কিন্তু তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওইসব প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্নধারদের যোগসাজশে এলসি ইস্যু, এলসি মূল্য ও সময় বৃদ্ধি করা, পিসি ঋণ ও টিএডি বিতরণ, ফোর্সড লোন সৃষ্টিসহ বহু জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করেছে।

তারা ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের ভিত্তিতে বিধি লঙ্ঘন করে এলসি ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মার্জিন আদায় না করে কোন কোন ক্ষেত্রে আংশিক আদায় করে শত শত কোটি টাকা লোপাট করে।

মেসার্স কে এসস নীট কম্পোজিট, মেসার্স কে এমএস ডিজাইন ওয়ার, মেসার্স কাদের নীট ওয়্যার, মেসার্স রুপসী নীট ওয়্যার ও রুপসী ফ্রেবিক্স কমপ্লেক্সসহ বহু প্রতিষ্ঠানকে ভাউচার প্রস্তুতি ছাড়াই শাখার ‘মার্জিনাল ডিপোজিট হিসাবে’ কৃত্রিম ডেবিট/ক্রেডিটে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

এছাড়াও শাহিল নীট ওয়্যার লিমিটেড, বারলিন নীট ওয়্যার, টিউনিক স্টাইল ওয়্যার, খাজা এ্যাটায়ার্স, মারস ফ্যাশন, রানস এ্যাপারেলস লিমিটেড , সিয়াম নীট এয়্যারস, ফ্রিডম পার্টি লি:, ফেইম টেক্সটাইল লিমিডেট, এসএফ নীট ওয়্যার, কুমুদিনী ফার্মাসহ এই রকম শতাধিক গ্রাহক প্রতিষ্ঠানকে এলসি স্থাপনের পূর্বে অনুমোদিত মার্জিন গ্রহণ না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মার্জিন বাবদ টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts