September 22, 2018

৭ খুনের মামলার জেরা: তারেক সাঈদসহ ৩জন হাতকড়া ছাড়াই আদালতে

নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের মামলা

রফিকুল ইসলাম রফিকঃ নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলার মধ্যে একটি মামলার বাদী ডা. বিজয় কুমার পালের জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যির জন্য ১৪ মার্চ নির্ধারন করছে অঅদালত। আগামী ১০ মার্চ অপর মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির অসমাপ্ত জেরা করার জন্য নির্ধারিত আছে। এ সময় মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামী আদালতে উপস্থিত ছিল।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে ৭ খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামীকে হাজির করা হয়। বেলা ১১ টায় পরে সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার মেয়ের জামাতা মামলার বাদী বিজয় কুমার পালকে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা জেলা শুরু করেন। ২৯ ফেব্রুয়ারী উপস্থিত ২৩ এবং পলাতক ১২ আসামীর মধ্যে ২২ জন আসামীর আইনজীবী বাদীকে জেরা করেন। আজ ১৩ জন আসামীর পক্ষে জেলা করার কথা থাকলেও ১১ জনের পক্ষে আইনজীবীরা জেরা করেন। আসামী নুর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ সাঈদের আইনজীবীরা আদালতকে জানান তার মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন করেছেন এবং দুপুর দুইটায় আদেশ দিবেন। আদালত বিকেল তিনটা পর্যন্ত সময় দিয়ে মুলতবি করেন। বিকেল তিনটায় আদালতের কার্য্যক্রম শুরু হলে ওই আইনজীবীরা উচ্চ আদালতের কোন আদেশ দেখাতে ব্যর্থ হলে এবং বাদীকে জেরা করতে অসম্মতি জানায়। পরে আদালত বাদী সাক্ষ্য ও জেরা শেষ করে পরবর্তী সাক্ষ্যির জন্য ১৪ মার্চ নির্ধারন করেন।

ইচ্ছাকৃতভাবে সময় প্রার্থনা করে মামলার বিচার কার্য বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে বাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরীচূত লে. কর্ণেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদের পক্ষে আইনজীবীরা বার বার সময়ের আবেদন করেন। আদালত তা না মঞ্জুর করে পরবর্তী সাক্ষ্যির দিন ধার্য্য করেন।

সট: সাখাওয়াত হোসেন, মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ( বাকী সংবাদ ভিডিওর নীচে) 

সাক্ষ্য গ্রহন ও জেরা শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে মামলার বাদী ডা. বিজয় কুমার পাল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবী করে বলেন, মামলাটি দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি তারেক সাঈদ, এমএম রানা ও মেজর আরিফকে হাতকড়া ছাড়াই আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারী ৭ খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারন করেন ২৫ ফেব্রুয়ারী। তবে র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামীর অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য শুরু হয়। পলাতক ১২ আসামীর পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের খরচে ৫ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রফিকুল ইসলাম রফিক,

সিনিয়র রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ।

Related posts