September 21, 2018

৭ কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট

4

নারায়ণগঞ্জ শহরে হঠাৎ করেই যানজটের বিষয়টি সামনে ও আলোচনায় চলে এসেছে। ইতোমধ্যে শহরের যানজট নিরসনে ফুটপাত উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চাচ্ছে প্রশাসন। এদিকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যানজটের ৭ কারণ। তারা বলছেন, এসব ৭ কারণ আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে সমাধান করলেই শহরকে যানজট মুক্ত রাখা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কারণ এসব কারণের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারও জড়িত।
বহুতল ভবনের নিচে পার্কিং ব্যবস্থা নেই
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনগুলোতে কোন ধরণের পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে গাড়িগুলো রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা হয়। এছাড়া অনেক বিপনী বিতান ও মার্কেটগুলোতেও প্রায় সময়ে প্রচুর গাড়ি পার্কিং করে থাকে। অন্যদিকে শহরের উকিলপাড়া এলাকাতে রয়েছে প্রচুর হোসিয়ারী কারখানা। এ কারণে ওই কারখানাগুলোর সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে মালামাল লোড আনলোডের জন্য গাড়ি পার্কিং করে রাখার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
৩২ বার রেল ক্রসিং
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রতিদিন ১৬টি ট্রেন দুইবার করে আপডাউন মানে ৩২ বার চলাচল করে। শহরের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনটি হলো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন। শহরের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে যেতে তিনটি রেল ক্রসিং অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে চাষাঢ়া রেল ক্রসিং যেটা নারায়ণগঞ্জ-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অবস্থিত, দ্বিতীয়টি বঙ্গবন্ধু সড়কের ২নং রেল গেট ও তৃতীয়টি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এক নং রেল গেট।
৩২ বার ট্রেন চলাচল করার কারণে ৫মিনিট করে ক্রসিং হিসাব করলে ১৬০ মিনিট যান বন্ধ থাকতে হয়। আর এ ক্রসিং এর কারণে পুরো শহরে দেখা দেয় যানজট। যেহেতু তিনটি ক্রসিং শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে সেহেতু রেল স্টেশন চাষাঢ়া নিয়ে গেলে এ সমস্যা দূর হবে।
ফুটপাতে চলতে বাধ্য
অনেকেই ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হন। এছাড়া ফুটপাতের অনেক গাড়িও রাস্তার পাশে বিশেষ করে ভ্যানগাড়ি পার্কি রাখার কারণে রিকশা চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। রাস্তার পাশে হকার বসে থাকার কারণেও সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে।
রিকশার আধিক্য
এমনিতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত রিকশা রয়েছে ১০ হাজারের মত। ছোট এ শহরে আবার শহরতলীর তথা ইউনিয়ন পরিষদের রিকশা আসার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়া রিকশা আধিক্য কমানো প্রয়োজন।
অবৈধ স্ট্যান্ড
দীর্ঘদিন ধরেই চাষাঢ়া পৌর সুপার মার্কেটের (নিচ তলায় সুগন্ধা বেকারী) সামনের সড়কটি ভ্রাম্যমান ফল ব্যবসায়ী, সিএনজি চালিত বেবীট্যাক্সি, টেম্পুর দখলে ছিল। চাষাঢ়ায় পৌর সুপার মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিং নিষেধ সম্বলিত সাইনবোর্ড দীর্ঘদিন পূর্বে লাগানো হলেও সেটাকে তোয়াক্কা করেনি কেউই। অপরদিকে চাষাঢ়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের প্রবেশমুখে পশ্চিমপাশে বাধন, আল্লাহভরসা সহ লোকাল বাসগুলো সবসময়ই যাত্রী নেয়ার জন্য দাড়িয়ে থাকে। এর সঙ্গে টেম্পু, বেবীট্যাক্সি ও রিকশাতো রয়েছে। লিংক রোডের পূর্বপাশে রাইফেল ক্লাবের প্রবেশপথের একটু আগে পেট্রোল পাম্পের সামনে দাড়িয়ে থাকে টেম্পু ও বেবীট্যাক্সি। যেগুলা লিংক রোডে যাত্রী পরিবহন করে। এদের কারণে যানজট সৃষ্টি হলে যার প্রভাব পড়ে এবিসি স্কুল পর্যন্ত। চাষাঢ়া রেললাইন এর ঠিক সামনেই আনন্দ পরিবহনের কাউন্টারটি যানজটের অন্যতম একটি কারণ।
গাড়ি চালকদের আইন না মানা
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চাষাঢ়ায় জিয়া হলে সামনে ঢাকা থেকে আসা গণপরিহনগুলো রাস্তার মাঝে থামিয়ে যাত্রী নামায় প্রায় সময়েই। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দিনের বেলায় ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রায় সময়ে সে নির্দেশনা মানা হয় না।
কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর
শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি চাষাঢ়ার দিকে নিয়ে আসলে শহরের যানজট অনেকাংশ কমে যাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাস টার্মিনাল এলাকা থেকেই মূলত যানজটের সৃষ্টি। এছাড়া বাসগুলো শহরের প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

Related posts