September 22, 2018

৬ বন্ধু মিলে কৌশলে কিশোরীকে গণধর্ষণঃ আটক ১

20150427104251_images

জাকিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকেঃ সিরাজগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক এতিম কিশোরীকে (১৪) রাতভর গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রেমিক ও তার পাঁচ বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় ওই কিশোরীকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে পালাক্রমে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী যমুনা নদীর বালু চরে এ গণধষর্ণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়রা ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা সকালে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ধর্ষিতা কিশোরী জানায়, একই গ্রামের পাশের বাড়ির বাবলু হোসেনের মেয়ে বান্ধবি শিরিনা খাতুনের সাথে অটো ভ্যান চালক রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো।

ইতিমধ্যে শিরিনার বিয়ে হয়ে গেলেও শিরিনাকে মাঝে মধ্যে মোবাইলে কল দিতো রাসেল। শিরিনা রাসেলকে আর ফোন দিতে নিষেধ করলে শর্ত দিয়ে রাসেল অন্য কোন মেয়ের নম্বর চায়। ১৮ এপ্রিল সোমবার শিরিনা ধর্ষনের শিকার কিশোরীর সাথে কথা বলে রাসেলকে তার নম্বরটি দেয়। তারপর থেকে রাসেল ও জোৎস্নার সাথে মাঝে মধ্যেই কথা হতো। বুধবার রাত ৮টার দিকে রাসেল জোৎস্নাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল করে পার্শ্ববর্তী বালু চরে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে রাসেল তার বন্ধু সোহেল, রাজ্জাক, নাজমুল ও নুরুসহ ৬জনকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর রাতভর ৬বন্ধু মিলে জোরপূর্বক তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। রাত সাড়ে তিনটার দিকে ভাটপিয়ারী গ্রামের আলতাফ কসাইয়ের ছেলে মমিন কসাই লোকজনের আনাগোনা টের পেয়ে এগিয়ে গেলে একটি ভ্যান ফেলে রেখে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।

ওই ভ্যানের সাথে রাসেলের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা ছিলো। মমিন কসাই তাকে ফোন দিয়ে ডেকে এনে আটকে রাখে এবং ওই ওয়ার্ডের মেম্বর আমিরকে ফোন দিয়ে ডেকে আনলে তিনি রাসেলকে বিশেষ কৌশলে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার ব্যাপারে ওই মেম্বরের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে এলাকাবাসী ভাটপিয়ারী বালুর চর থেকে ধর্ষিতা কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক নুরুল ইসলাম জানান, মেয়েটির উপর ওই ৬ বন্ধু মিলে পাশবিক নির্যাতন করেছে। পুলিশ এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামী সোহেলের বড় ভাই এনামুল হককে আটক করেছে। প্রেমিকসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের আটক করতে ওই এলাকায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সদর হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্টার ডা. আঞ্জুমান আরা বকুল জানান, মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

জাকিরুল ইসলাম
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

Related posts