September 22, 2018

৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

552
হাসান মুকুল,চট্টগ্রামঃ   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উন্নয়নের মহাসড়কে চট্টগ্রামের যে যাত্রা শুরু হয়েছে সেই যাত্রায় চতুর্থবারের মত চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।কাল শনিবার তিনি প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের ৬টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন ও নির্মিত প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

এরমধ্যে রয়েছে, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার টাইগারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন, ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প ও ১৭২ কোটি টাকার বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত লুপ রোডের নির্মাণকাজ উদ্বোধন, ৪৫ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও ৫৮ কোটি টাকার কদমতলী ওভারপাস এবং অনন্যা আবাসিক এলাকায় দেশের সবচেয়ে উঁচু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন।

বৃহস্পতিবার নগরীর জিইসি মোড়স্থ ওয়েল পার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রামে উন্নয়নের মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত সাত বছরে এক দিনের জন্যেও চট্টগ্রামের উন্নয়ন বন্ধ ছিল না। যেটা দৃশ্যমান সেটি অস্বীকারের উপায় নেই। এটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। উন্নয়ন হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া। একবার উন্নয়ন বন্ধ হলে অনেকদিন ফাইল চাপা পড়ে থাকে। কিন্তু আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে একের পর এক প্রকল্প আমি হাতে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীও চট্টগ্রামের উন্নয়নে সব প্রকল্প পাশ করেছেন। ২০০৯ সালের পর থেকে শুধু চট্টগ্রামের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করতে চারবার চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী।’

আবদুচ ছালাম বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালী বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিবেকের দংশন থেকে, যন্ত্রণা থেকে অ্যাভিনিউ ও ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে টাকার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। তাই এ প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা আমার মুখ দিয়ে কখনোই বের হবে না। শুধু এটুকু বলবো, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি দেশের সেরা ভাস্কর, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের নিয়ে যাতে ম্যুরালে সামান্যতম ত্রুটিও না হয়।’

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম মহানগরীকে পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ভাগ করেছে একটি রেলওয়ে ওভারপাস। ৫-৭ টন ধারণক্ষমতার যানবাহন চলাচলের উপযোগী ওই ওভারপাসটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ভারী যানবাহন, লরি উঠলে কাঁপতে থাকে। এটি কোনো সময়ে কলাপস করলে পুরো চট্টগ্রাম অচল হয়ে পড়বে। তাই এটি ভেঙে না পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আমি বিকল্প একটি পথের চিন্তা করেছি। সেটি হচ্ছে কদমতলী ওভারপাস। মিরসরাই-সীতাকুণ্ডসহ নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি হয়েছে আশীর্বাদ। যেটি আগে অনুধাবন করতে না পারলেও ওই অঞ্চলের মানুষগুলো ফ্লাইওভারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে বুঝতে পারছেন।’

আবদুচ ছালাম আরো বলেন, ‘অনেক সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ একসাথে শুরুর পর অনেকে বলাবলি করছিলেন, সিডিএ চেয়ারম্যান পাগল হয়ে গেছেন। কিন্তু কাজগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আরাম, আয়েশ, ঘুম, ব্যবসা, বাণিজ্যকে হারাম করে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেছি। যে ডিটি রোড কখনো সম্প্রসারণ হবে মানুষ কল্পনা করেনি সেটি আমি বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছি। দেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে লালখান বাজার থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। যেটি চালু হলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মানুষ শহরের এই মাথা থেকে ওই মাথায় যাতায়ত করতে পারবে।’

টাকার যোগান প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘বন্দরের হাজার হাজার কোটি টাকা রয়েছে। সেই টাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঋণ হিসেবে বন্দর আমাদের টাকা দেবে। সরকারের প্রধান যেখানে একটি সিদ্ধান্ত দেন সেখানে অন্য কারো কিছুই করার থাকেনা। তবে পরবর্তীতে টোল আদায়ের মাধ্যমে সেই ঋণের টাকা আমরা শোধ করব।’

আবদুচ ছালাম আরো বলেন, ‘উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে ৬৫ লাখ নগরবাসী আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, নগর পুলিশ, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, সওজ, পিডিবিসহ প্রতিটি সংস্থা সহযোগিতা করেছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এ সময় চউকের বোর্ড সদস্য ইউনুছ গণি চৌধুরী, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, টিপু সুলতান ও হাসান মুরাদ বিপ্লব, সচিব তাহেরা ফেরদৌস, উপসচিব অমল গুহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts