September 18, 2018

৫ সন্তানকে বাঁচাতে দেশ ছেড়েও রক্ষা হয়নি তাঁদের

12 Apr, 2016 তুরস্কে আশ্রিত অভিবাসী ও শরণার্থীদের মধ্যে নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘শিশু নিখোঁজ’। তুরস্কে আসার পথে শরণার্থী শিবির থেকে বহু শিশু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। অধিকাংশ শিশুরই এখন পর্যন্ত কোন খবর পাওয়া যায়নি। এই সূত্র ধরে তুরস্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শরণার্থী শিশুদের নিখোঁজ এবং সন্ধানে উদাসীনতার অভিযোগ ওঠেছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আশ্রিত দাভুত পরিবারও প্রায় দেড় বছর ধরে খুঁজছে তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে।

ইস্তাম্বুলে দেড় বছর ধরে বসবাসরত দাভুত পরিবারের সুখ শান্তি ছুটি নিয়েছে অনেক আগেই। যুদ্ধের কবল থেকে ৫ সন্তানকে বাঁচাতে আলেপ্পো ছেড়ে তুরস্কে আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি এই পরিবারের। তাদের ৯ বছর বয়সী মেয়ে বতুল আশ্রয় শিবির থেকে হারিয়ে যায়। তাকে আদৌ ফিরে পাবেন কিনা, এমন অনিশ্চিয়তা তাড়া করে বেড়ায় গোটা পরিবারটিকে। পরিবারটির প্রত্যেকেই অধীর হয়ে আছে মেয়েটির জন্য। একজন বলছে, ‘আমি আমার মেয়েকে চাই। এর জন্য যদি সিরিয়ায় ফিরে যেতে হয় তাও যাব। কিন্তু মেয়েকে না পাওয়া পর্যন্ত এক চুলও নড়বো না।’

দেড় বছর আগে বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করার সময় নিখোঁজ হয় বতুল। এরপর আশেপাশে কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে দাভুত পরিবার পুলিশে খবর দেয়। তাদের দাবি, বতুলকে কেউ অপহরণ করেছে এবং সে এখনো বেঁচে আছে। দীর্ঘদিনেও বতুলের সন্ধানে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবারটি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সন্তানের অপেক্ষায় আতঙ্কগ্রস্থ এই পরিবারটি শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়। তুরস্কের স্থানীয় একটি নিউজ চ্যানেল এই খবরটিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খবরটি প্রচার করলেও কোন লাভ হয়নি। উপরন্তু বতুলকে হারানোর ভয় ক্রমেই দীর্ঘ হয়ে বাসা বাঁধতে থাকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভেতরে।

পরিবারটির একজন বলেন, ‘তুরস্কে এসেছিলাম পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকার জন্য। এমন কিছু হবে জানলে চিন্তাও করতাম না। আমার ছেলেমেয়েরা এখন বাইরে খেলতে চায়না, ভয় পায়। এই বুঝি তাদের কেউ অপহরণ করব!’

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ও এতিম সিরীয় শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে আন্তর্জাতিক শরণার্থী অধিকার সংস্থা। সংস্থাটির মতে, তুরস্কে আশ্রিত শরণার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত কয়টি শিশু নিখোঁজ রয়েছে তার কোন জরিপ না হলেও এ সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।
আন্তর্জাতিক শরণার্থী অধিকার সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে তুরস্কে যে হারে অভিবাসী প্রবেশ করছে তাদের শৃঙ্খলায় রাখতে বিশেষত শিশুদের নিরাপত্তায় নিয়মনীতিগুলো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছি। তুরস্কে এখন পর্যন্ত অসংখ্য শিশু রয়েছে, যাদের পরিবারের কোন খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি।’

মেয়েকে হারিয়ে বাবা আহমেত দাভুত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও তাকে খুঁজতে হাল ছাড়েননি তিনি। মেয়েকে খুঁজে পাবেন এমন আত্মবিশ্বাস থেকে প্রতিটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি অলিগলিতে ছুটে যান তিনি। দেড় বছরের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে একদিন নিশ্চয়ই কেউ তার মেয়ের খোঁজ দেবে এমন আশায় বুক বেঁধেছেন তিনি।

Related posts