September 24, 2018

৫ যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম, অফিস ভাংচুর

জাহিদুর রহমান
ঝিনাইদহ থেকেঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আসাননগর গ্রামে আভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে যুবলীগের ৫ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইদহ ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতরা হলেন, আসাননগর গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছেলে যুবলীগ কর্মী মফিজ উদ্দীন, আবুল কাসেমের ছেলে শরিফুল ইসলাম, আনারুদ্দীনের ছেলে নুর ইসলাম, মজনুর রহমান ও আত্তাপ উদ্দীনের ছেলে মতিয়ার রহমান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মফিজ উদ্দীন জানান, আসাননগর গ্রামে বঙ্গবন্ধু যুব উন্নয়ন নামে একটি ক্লাব আছে। ক্লাবটি উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জে এম রাশিদুল আলম। মফিজ অভিযোগ করেন, এই ক্লাবের দখল নিতে একই গ্রামের রেজাউল তরফদারের ছেলে শুকুর আলীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন বুধবার হামলা চালায়।
এ সময় ক্লাবের মধ্যে থাকা যুবলীগের ৬/৭ জন কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। ভাংচুর করা হয় সাইনবোর্ড ও বঙ্গবন্ধুর ছবি। শুকুর আলী ছাড়াও হামলায় অংশ নেয় মনসাদের ছেলে আলীম, খলিলের ছেলে আফান, রমজানের ছেলে আবুল কাসেম, কলিম উদ্দীনের ছেলে স্বপন ও ইংজের আলীর ছেলে নয়নসহ ১০/১২ জন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার জানান, মারামারির বিষয়টি দলীয় ভাবে মিটিয়ে ফেলার কারণে মামলা হয়নি।

তবে আহতদের অভিযোগ দলীয় নেতারা চাপ দিয়ে থানার মধ্যে বসেই বিষয়টি মেটাতে বাধ্য করেছেন। ফলে এই মতবিরোধ থেকে আসাননগর গ্রামে যে কোন সময় অঘটন ঘটতে পারে বলে দলীয় কর্মীরা আশংকা করছে।

আরও খবর………।।

শৈলকুপায় শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান মারুফ এখন চাঁদাবাজ !

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৩৩ নং পুরাতন বাখরবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান মারুফ দীর্ঘদিন বাজার ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, শিক্ষক নেতা মাহাবুবুর রহমান মারুফের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ চুরিসহ মালামাল আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
৬নং সারুটিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তার ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় প্রভাববিস্তারসহ আইনের থোরাইকেয়ার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন অযুহাতে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সার্বক্ষনিক রাজনীতি চর্চায় ব্যস্ত থাকা শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান মারুফ এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাতলাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বহু টাকার গাছ চুরির অপরাধে তাকে তাৎক্ষনিক বদলী করা হয় কিন্তু প্রভাব খাঁটিয়ে নিজ গ্রামের স্কুলেই থেকে যায় ওই শিক্ষক।

বড়–রিয়া গ্রামের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, মারুফ মাস্টারের রাজনৈতিক সহযোগিতা না করার অপরাধে তাকে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।

গ্রাম্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে বৃত্তিপাড়ার আমির বিশ্বাসের ছেলে জমিন হোসেনের হালের গরু বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা আদায় করে নিয়েছে মারুফ মাস্টার।

সারুটিয়া ইউনিয়নের হাটঘাট, বালুমহল, স্ট্যাটারী, ফুটপাত দখলসহ সালিশী ব্যবসা তার অন্যতম আয়ের উৎস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানী জানান, মারুফ মাস্টারের আদেশমত দল না করলে তাকেই গুনতে হয় মাসিক মাসোহারা অথবা রাখতে হয় দোকান বন্ধ। তার দাবি না মানায় এখনো বাড়িছাড়া রয়েছে অনেক মানুষ।

এলাকা ছাড়া ভুলুন্দিয়া গ্রামের শামছুল ইসলাম বলেন, নামমাত্র শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারই তার বর্তমান পেশা এবং মানুষের হয়রানি করে অর্থহাতানো তার নিয়মিত রুটিন। দালালখ্যাত এ মারুফ মাস্টারের খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে চরবাখরবা গ্রামের মাজহারুল ইসলাম। তাকেও চাঁদা দিতে হয়েছে ৪ লাখ টাকা

থানা পুলিশ দিয়ে মানুষকে হয়রানি, চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়, সালিশী রায় পক্ষে করে দেওয়ার দালালী কর্মই যেন তার নেশাপেশা।

সচেতন মহলের প্রশ্ন রাতের আঁধারে কোটিপতি বনে যাওয়া রাজনৈতিক সুবিধাভোগি মারুফ মাস্টারের এ শক্তির উৎস কোথায় ?

অবিলম্বে এ শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী ভুক্তভোগীদের।
এ ব্যাপারে শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান মারফ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আপনাদের কাছে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।

ঝিনাইদহে বিদ্যুৎবিহীন ভুতুড়ে ডাউটিয়া গ্রাম দেখার কেউ নেই !

ঝিনাইদহের শৈলকুপার ৮নং ধলহরাচন্দ্রের ৫নং ওয়ার্ডের বিদ্যুৎবিহীন আর কাচাযুক্ত রাস্তার ভুতুড়ে এই ডাউটিয়া গ্রামের সাধারন জনতা। জনপ্রতিনিধির নিয়মিত পরিবর্তন হয়, কিন্তু পরিবর্তন হয় না এই ডাউটিয়া গ্রামের অচলবস্থা।

গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষের ধ্বর্য্যের সীমা ছাড়িয়ে এখন নির্বিকার। অন্ধকারে থাকতে থাকতে আর কাচাযুক্ত রাস্তায় চলতে চলতে মানুষ আজ ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। দেখবে কে এসব সমস্যা কারা করবে এসবের সমাধান। যেনো এই ডাউটিয়া গ্রামের সাধারন জনতার দেখার কেউ নেই।

যুগ যুগ ধরে গ্রামের অবস্থা অপরিবর্তীত থাকলেও কার্যকরের কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে , উক্ত ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কুশবাড়িয়া গ্রাম সহ প্রায় প্রতিটি গ্রামে পাকা রাস্তা এবং বিদ্যুৎ রয়েছে। অথচ একই ইউনিয়নের হওয়াতেও ডাউটিয়া গ্রামে বিদ্যুৎ নেই।

এ নিয়ে রয়েছে গ্রামের মানুষের ক্ষোভ। তারা বলেন , কত মানুষের কাছে ধরণা দিয়েছি , কত মানুষকে অনুরোধ করেছি। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের আশ্বাস কোন কাজে লাগেনি। সংসদ সদস্য আব্দুল হাই সাহেবের কাছে ২/৩ বার দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে।

ডাউটিয়া গ্রামের মুরব্বী মহিউদ্দীন মৃধা সাংবাদিককে জানান , এলাকার নতুন নতুন গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলেও , এ গ্রামটি অন্ধকারেই থেকে গেল। বিদ্যুৎ এবং রাস্তার জন্য আমি নিজে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে-সংসদ সদস্য আব্দুল হাই সাহেবের কাছে কয়েকবার দরখাস্ত জমা দিয়েছি। তিনি শত আশ্বাস দিয়েছেন , আশা করি তার আশ্বাসের বাস্তবায়ন হবে।
এ ব্যাপারে ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের বিখ্যাত চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, অতিদ্রুত ডাউটিয়া গ্রামে বিদ্যুৎ এবং পাকা রাস্তা বাস্তবায়ন করা হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts