November 14, 2018

৫ বছরেও সমাধান হয়নি, ফেরৎ যাচ্ছে বরাদ্দের অর্থ


এ কে আজাদ,চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ  প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশের প্রত্যেক জেলা সদরে ন্যয় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-আইসিইউ) ও হৃদরোগে আক্রান্তদের পরিচর্যা কেন্দ্র (করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ) স্থাপন করার কথা থাকলেও সেটা প্রতিশ্রুতিই থেকে যাচ্ছে। চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জন্য ৫বছর পূর্বে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ভুমি সমস্যার অজুহাতে চলতি বছরের জুন মাসে ফেরৎ যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চাঁদপুরে চিকিৎসা সেবায় এমন অভাবনীয় সাফল্য বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার পরও যদি এটি ঠুনকো অজুহাতে হাতছাড়া হয়ে যায় তাহলে এর চেয়ে দুঃখ চাঁদপুরবাসীর জন্য আর কিছুই হতে পারে না।

এ সংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, আইসিইউ ও সিসিও স্থাপনের জন্য সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে সদর কোর্টে সম্পত্তি নিয়ে মামলা রিভিউ অবস্থায় রয়েছে। মামলাটির নিয়মিত তারিখ ছিলো ২ এপ্রিল ২০১৬। এ তারিখেও কোন সমাধান হয়নি। মামলাটির সমাধান হলেই আর কোন ধরনের জটিলতা থাকবে না। আর এ বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক। তিনি চাঁদপুরবাসীর চিকিৎসাঙ্গনের জন্য বড় ধরনের এই কাজটি করে দিতে পারেন। জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাঙ্গন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। এটি নামকরণ ২৫০ শয্যা হলেও এটির অবকাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমোদনসহ সব কিছুই এখনো ২শ’ শয্যা হিসেবেই রয়েছে। ২শ’ শয্যার এই হাসপাতালটিকে আড়াইশ’ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৫০ শয্যার অবকাঠামোসহ সিসিইউ ও আইসিইউ স্থাপনের জন্যে ৬ তলা বিশিষ্ট একটি পৃথক ভবন নির্মাণ করতে ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এইচএনপিএসপি তথা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর উন্নয়ন প্রোগ্রামের আওতায় ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর চাঁদপুরের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখিত অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন হয়। এ সংক্রান্ত পত্রটি ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের হস্তগত হয়। এরপর থেকে গনপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন হয়। পরে আবার সমস্যা দাঁড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়ে। সেটিও পরিবেশ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়। এটি স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর চিঠি পাঠান। চাঁদপুর পৌরসভা থেকেও কোন আপত্তি নেই। আইসিইউ ও সিসিও স্থাপনের জন্য যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হলেও সর্বশেষ ভুমি সমস্যায় এটি আর আলোর মুখ দেখছে না। উল্লেখ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবস্থানগত কারণে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালটি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার চিকিৎসা সেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর এমনকি মুন্সীগঞ্জ থেকেও চাঁদপুরের এ হাসপাতালে  রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গুরুত্বের বিবেচনায় এ হাসপাতালে সিসিইউ (করনারী কেয়ার ইউনিট) তথা হার্টের পরিচর্যা কেন্দ্র ও আইসিইউ (ইনটেনসি কেয়ার ইউনিট) তথা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন খুবই জরুরি। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সিসিইউ ও আইসিইউ না থাকায় হার্টের রোগীদের ঢাকা রেফার করেন চিকিৎসকরা। এমন হার্টের রোগী অনেকই ঢাকা নেয়ার পথে মারা যান। যদি চাঁদপুরে এ ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হার্টের রোগীদের চিকিৎসা এখানেই হতো। এই বিষয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরাকির জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ কুমার দত্ত জানান, মূলত ভূমি সমস্যার কারণেই এটি স্থাপন করা সম্ভাব হচ্ছে না। আমরা আইসিইউ ও সিসিও স্থাপনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কাজটি শেষ হয়েও মামলা জটিলতায় আবারো আটকে গেল।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts