September 23, 2018

৫ জানুয়ারি ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপের আভাস!

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু’বছর পূর্তিতে ৫ জানুয়ারি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। ‘সংবিধান সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর ১৮টি স্থান এবং সারা দেশের সব জেলা-উপজেলায় একযোগে সমাবেশ ও র‌্যালি করবে। অন্যদিকে বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে। ফলে নতুন বছরের শুরুতে দেশের রাজনীতিতে মিলছে উত্তাপের আভাস। একই সঙ্গে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে জনমনেও।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ফোনে বলেন, তার দল ৫ জানুয়ারি ‘সংবিধান সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করবে। এ জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর ১৮টি স্থান এবং দেশের সব জেলায় সমাবেশ ও র‌্যালি করা হবে। হানিফ বলেন, সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আওয়ামী লীগ ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বরাবর আবেদন করেছে।

এদিকে ৫ জানুয়ারির সমাবেশ সফল করতে শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা হয়। সভা শেষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, অনুমতি পাবেন। এ জনসভা সফল করে গণতন্ত্রকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালাতে সরকার অবদান রাখবে। ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের জেলা কমিটিকেও এ কর্মসূচি পালনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগরের ১৮টি স্থানে সমাবেশ ও র‌্যালি।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে সমাবেশ হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এসব কর্মসূচি পালিত হবে। দলটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওইদিন ঢাকায় দুপুর আড়াইটা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও রাজধানীর ১৭টি স্পটে নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।
বিএনপির জনসভায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে।

জনসভার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে জানতে শনিবার বিকালে দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপি কার্যালয়ে যায়। এ সময় ডিএমপির পক্ষ থেকে তাদের আরও দু-একদিন অপেক্ষা করার অনুরোধ করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে জনসভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়।

তবে সমাবেশের অনুমতি না মিললেও গত বছরের মতো কঠোর অবস্থানে বিএনপি যাবে না বলে জানা গেছে। দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, এবার হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই। পৌরসভা নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়মের’ পর অনেকেই হরতাল দেয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সে চিন্তা থেকে সরে আসে দলটি।

বিএনপি সূত্র জানায়, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মসূচিতে গেলে আবারও নেতাকর্মীদের হয় জেলে যেতে হবে, নয়তো পালিয়ে বেড়াতে হবে। এ কারণে বিএনপি কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না। জনসভা করার অনুমতি না মিললে বিকল্প কর্মসূচি হিসেবে সংবাদ সম্মেলন অথবা ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের সব জেলা ও মহানগরেও জনসভা বা আলোচনা সভা কর্মসূচি পালন করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে এ কর্মসূচি ঘিরে ক্ষমতাসীন দল বা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে সাধ্যমতো কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে।

এদিকে সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। দলটির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, ডিএমপিতে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি না দেয়ার কোনো কারণ নেই।

‘একই দিন বিএনপিও সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে’- উল্লেখ করলে তিনি বলেন, সেটা ডিএমপির বিবেচ্য বিষয়।

৫ জানুয়ারির কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ আজ বিকাল ৩টায় দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে যৌথসভা করবে বলেও জানান তিনি। এখন পর্যন্ত কোনো বিকল্প কর্মসূচির কথা পরিকল্পনায় নেই বলেও তিনি জানান।

বিএনপির কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে শনিবার রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচির নামে বিএনপি কোনো বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে দেশের জনগণ অতীতের মতো জবাব দেবে।’ তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি পালনের নামে তারা যদি সন্ত্রাস-নাশকতা করার স্বপ্ন দেখেন তাহলে অতীতের মতো এবারও দেশের জনগণ তাদের সে স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, বিকল্প কর্মসূচির কথা না ভাবলেও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হবে। আজ থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগ, রাজধানী ঢাকার সব সংসদ সদস্য ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গেও যৌথসভা করা হবে।

শনিবার সকালের যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন করা হয়েছে। প্রায় সব কটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই যে নির্বাচন হয়েছিল, সে নির্বাচনের পর একটা প্রহসনমূলক নাটকের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছিল। সে সরকার এখনও আছে। এটাকে আমরা গণতন্ত্র হত্যা দিবস বলে চিহ্নিত করেছিলাম।’

দুই দলের সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, আওয়ামী লীগের আবেদন পেয়েছেন। কিন্তু বিএনপির আবেদন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি বলে দাবি করেন তিনি। সেটা এলে বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

২০১৪ ও ২০১৫ পরপর দুই বছর ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংস পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে খালেদা জিয়াকে সমাবেশ করতে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর গত বছরের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে আওয়ামী লীগ ‘সংবিধান সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উল্লেখ করে রাজধানীর ১৬টি স্থানে কর্মসূচি পালনের এবং বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে না দেয়ায় টানা তিন মাসের বেশি সময় অবরোধ পালন করে দলটি। এ সময় পেট্রলবোমা মেরে গাড়িতে আগুন দেয়াসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মসূচিতে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।যুগান্তর

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts