November 16, 2018

৫ জানুয়ারি কি হবে সেটা সময়ই বলে দিবে?

ঢাকাঃ  আবারো মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তাদের অবস্থান। দিনটিকে কেন্দ্র করে বড় দুই দলই শক্তভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায়। এরই মধ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে থাকছে কর্মসূচি।

৫ জানুয়ারি বিএনপির পক্ষ থেকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এরআগে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে না দেওয়ায় ৯২ দিন হরতাল-অবরোধ পালন করে বিএনপি। এ সময় পেট্রোল বোমা, বাসে আগুন ও অন্যান্য সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে শনিবার দুপুরে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘আগামী ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি অনুমতি মিলবে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি বিএনপির জনসভার অনুমতি দিয়ে সরকার দেশের গণতন্ত্রকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালাতে অবদান রাখবে।’

একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলা শহরেও ওইদিন সমাবেশ করবে বিএনপি।

এদিকে আগামী মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য বিএনপির পক্ষে ডিএমপিতে আবেদন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একটি দেশে সভা-সমাবেশ করা সকল রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। এখানে কে অনুমতি দিল কে দিল না সেটা বিষয় নয়। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সেদিক থেকে আমরা দেশে যে কোনো ধরনের সমাবেশ করার অধিকার রাখি।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে সভা-সমাবেশ করার জন্য অনুমতি নিতে হয়।’

৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি না দিলে কি করবে দলটি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশ করবে এটাই আসল কথা। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। গণতন্ত্রের বন্ধ জানালা তারা খুলে দেবে। আর তা না হলে পরবর্তীতে কি হবে সেটা সময়েই বলে দিবে।’

উদাহরণ হিসেবে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘ইতিহাস কথা বলে। সেই পাকিস্তান, ব্রিটিশ আমল থেকে দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করতে কোনো ধরনের অনুমতি নিতে হয়নি। অথচ দুঃখের বিষয় এখন সামান্য কোনো আলোচনা সভা করার জন্যও সরকারের অনুমতি নিতে হয়।’

এর মাধ্যমে একটা জিনিস স্পষ্ট সরকার সভা-সমাবেশকে ভয় পায়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এর চাইতে লজ্জাকর বিষয় আর কি হতে পারে যোগ করেন মাহাবুব।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিতে গত বছরের মতো এ বছরেও কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে কী সেই সব কর্মসূচি তা এখনো গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আগামী ৫ জানুয়ারি অবশ্যই আমাদের কর্মসূচি থাকবে।’

এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তারা (বিএনপি) গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে থেকে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করবে ততক্ষণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আমরা তাদের সকল ধরনের সহায়তা করব।’

তবে, তারা (বিএনপি) যদি অতীতের মতো জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির মতো কোনো কিছু করে তাহলে এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই প্রবীণ নেতা।

৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কী ধরনের কর্মসূচি রয়েছে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি আপনাদের পরবর্তীতে জানানো হবে।’

এরআগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে লাগাতার হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেই আন্দোলন কর্মসূচি চলে ৯২ দিন। পরে অবশ্য আন্দোলন থেকে পিছু হটে বিএনপি।

পরবর্তীতে নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এ অবস্থা থেকে এখন পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। সর্বশেষ বছর শেষে বিএনপির সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় দলটি। এর মাধ্যমে তারা সকল রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পৌর নির্বাচনের ফল শাসক শিবিরের অনুকূলে যায়।

যদিও পৌর নির্বাচনের পরের দিন ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts