November 14, 2018

৫ জানুয়ারিঃ সংঘাত নয় কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি

ঢাকাঃ বিএনপি আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উদযাপনে সমাবেশ করার অনুমতি না পেলেও ঠিক এই মুহূর্তে আর কোন ধরনের সংঘাত বা আন্দোলনে যাবে না বলে জানিয়েছে দলটির দলীয় সূত্র।

এর পরিবর্তে নিজেকে পুনরায় সংগঠিত করতে প্রস্তুতি নেবে বিএনপি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বচানকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মনোবল শক্তিশালী করতে কাজ করবে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি আশু নির্বাচন গ্রহণে সরকারকে চাপ দিতে কূটনৈতিক পর্যায়ে লবি শুরু করবে দলটি।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি একটি সফল পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গ্রহণে সরকারের ব্যর্থতাকে কাজে লাগাবে।

বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা ডেইলি স্টারকে বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় ‘মাস্টার প্লান’ প্রস্তুত করতে তিনটি গ্রুপ কাজ করছে।

এর মধ্যে ‘কূটনৈতিক গ্রুপে’র নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মইন খান, ‘প্রাতিষ্ঠানিক গ্রুপে’র নেতৃত্বে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ‘বুদ্ধিজীবী গ্রুপে’র নেতৃত্বে রয়েছেন খালেদার উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির একজন সহকারী প্রচার সম্পাদক জানান, দলের যে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় টিমগুলো ৩০ ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের সহায়তা করার জন্য গঠন করা হয়েছিল বিএনপির হাইকমান্ড তাদের নির্দেশনা দিয়েছে। তারা যেন এবছরের মাঝামাঝি সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম শুরু করে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপির পরিকল্পনা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল শনিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উদযাপনে বিএনপি সমাবশে করবে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, বিএনপির জেলা শাখাগুলো আলোচনা সভা করার মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করবে।

শনিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সমাবেশের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে যান।

এ প্রতিনিধিদলের সদস্য মাসুদ আহমেদ তালুকদার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘একজন ডিএমপি কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন, তারা সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য ইস্যু মূল্যায়ন করে যত  দ্রুত সম্ভব লিখিতভাবে জানাবেন।’

বিএনপির এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘যদি সরকার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা বিশাল সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছি। আমরা সরকারকে দেখাতে চাই, বিএনপির এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।’

দলীয় সূত্র আরও জানায়, সমাবেশের অনুমতি পাওয়া না গেলে বিএনপি রাজধানীতে ঘরোয়া কর্মসূচি পালন করতে পারে এবং  দেশের অন্যান্য জায়গায় দলের থানা শাখাগুলো সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে।

যাইহোক, ফখরুল ব্রিফিংয়ে বলেন, তারা আশা করছেন কর্তৃপক্ষ সমাবেশ সফল করতে এবং গণতন্ত্র সমুন্নত করতে সহযোগিতা করবে।

বিএনপি গত সবছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা মিছিল করার পরিকল্পনা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেত্রীকে তার গুলশান কার্যালয়ে ৩ জানুয়ারি থেকে অবরুদ্ধ এবং নয়াপল্টন কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখার কারণে এ কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে আমরা মূলত শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। এখন আমরা আমাদের শক্তি ফিরে পেয়েছি। আমরা পরিস্থিতির বাইরে গিয়ে সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে চাই এবং একটি আশু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে চাপ দিতে চাই।

অনুবাদ করেছেন মমিনুল ইসলাম।
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts