November 14, 2018

৫ খুনঃ শান্ত ও সুমাইয়ার খুনীদের ফাঁসির দাবি সহপাঠী-শিক্ষকদের

214

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  ‘এবছরে মাত্র ৫ থেকে ৬ দিন ক্লাস করেছে। এর মধ্যে ক্লাস টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেখানেও ভালো উত্তর দেয়। যদিও সেই পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য নাম্বার থাকে না। নতুন ছাত্ররা সাধারণত পরীক্ষায় অংশ না নিলেও শান্ত অংশ নিয়েছিল। ওর মাঝে পড়ালেখার ব্যাপক ইচ্ছা ছিল সেটা বোঝা গেছে। প্রতিদিন সকালে ঠিক সময়ে স্কুলে পৌছেছে। একদিনও দেরী করেনি। তবে ওই দিন শনিবার শান্ত স্কুলে আসেনি।

আবেগ আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন একই পরিবারের পাঁচ জনকে হত্যার ঘটনায় নিহত শান্তের (১০) শ্রেনী শিক্ষিকা ইয়াকুত জাহান। ৫ খুনের ঘটনায় নিহত দুই ভাই বোনই শহরের ১নং বাবুরাইল এলাকার মোবারক শাহ্ রোডের ১৮ ও ১৯ নং বাবুরাইল বালক/বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। যার মধ্যে মো. শান্ত (১০) তৃতীয় শ্রেনীতে ও সুমাইয়া (৫) শিশু শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছিল। তাদের শোকে শোকাবহ পরিবেশ ছিল স্কুলটিতে। মেধাবী ও নিস্পাপ দুই শিশুকে যেসকল নরপশু নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসির দাবি করেছে সহপাঠী ও শিক্ষকরা।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি নিহত সুমাইয়া ওই স্কুলে ভর্তি হয়। এর মাত্র দুইদিন পর ৬ জানুয়ারি ভর্তি হয় মো. শান্ত। ওই ঘটনায় নিহতের মা তাসলিমা বেগম নিজেই দুই ভাইবোনকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। এছাড়াও যে ক’দিন স্কুলে আসেন তাও মায়ের সঙ্গেই। তবে যে দিনটিতে মো. শান্ত ও সুমাইয়া নিহত হয়েছে ওই দিনটিতে তারা স্কুলে আসেনি।

শান্ত’র সহপাঠী হাসান, কালামসহ অন্যরা বলেন, শান্ত অল্প কিছুদিন ক্লাস করলেও সে ছিল খুবই শান্ত প্রকৃতির। এমন একটা ছেলেকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে আমরা তাদের ফাঁসি চাই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাহিদা আহমেদ বলেন, ছেলেটা ভালো ও ভদ্র ছিলো। পরীক্ষার খাতা গুলো দেখেছি। হাতের লেখাও অনেক ভালো ছিল। যে ক’দিন স্কুলের এসেছে সময় মত এসেছে। কারো সঙ্গে কোন খারাপ আচরণ করতেও দেখিনি।

সাহিদা আহমেদ জানান, গত ১ জানুয়ারি সরকার অনুষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন। তবে যারা নতুন স্কুলের ভর্তি হয়েছে তাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় বই দেয়ার সময় ছিল গত রোববার (১৭ জানুয়ারি)। আশে পাশের কয়েকটি স্কুলের বই গুলো এ স্কুলে আসার কারণে শনিবার সব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রেখে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। ওইদিন স্কুলেরও আসেনি শান্ত। এছাড়াও শিশু শ্রেণীর ক্লাস শুরু হওয়ার তারিখ ছিল রোববার (১৭ জানুয়ারি)। এ দিনে তাদের দুই ভাইবোনকে বই দেয়া হতো।

সাহিদা আহমেদ আরো বলেন, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। পশুরূপী কিছু লোক তাদেরকে চিরতরে না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা খুনীদের ফাঁসি চাই। নতুন বই না থাকার পরও পড়ালেখার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিলো শান্তর। যে ক’দিন স্কুলর আসলো প্রত্যেক দিন খাতা ও পেন্সিল নিয়ে এসেছে।’ তিনি তার দুই শিক্ষার্থীসহ এমন নিমর্ম হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে বলেন, সকল ধরনের মৃত্যু দু:খজনক। তবে সব থেকে বেশি দু:খজনক এ ধরনের হত্যাকা- কখনো কাম্য নয়। দ্রুত অপরাধীদের শাস্তি দাবি করছি।

প্রসঙ্গত গত শনিবার রাতে বাবুরাইল এলাকা থেকে তাসলিমা, তার ছেলে শান্ত ও মেয়ে সুমাইয়া, ভাই মোরশেদুল ওরফে মোশারফ ও জা লামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদেরকে মাথায় ভোতা অস্ত্রের আঘাতে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকরা।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts