September 20, 2018

৫ ইউপিতে ধানের শীষের প্রার্থী সঙ্কট!


রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জঃ  কয়েকদিন আগেও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রতীক পেতে বিএনপির বিবদমান দু’টি গ্রুপ কেন্দ্রে দু’টি তালিকা পাঠিয়েছিল তবে সম্প্রতি বন্দরের ৫টি ইউপির মধ্যে ৩টি ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যানদের জাতীয় পার্টিতে যোগদানের পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেনা। এতে করে সদর উপজেলার ন্যায় বন্দর উপজেলাতেও ধানের শীষের প্রার্থী সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ৬ষ্ঠ পর্যায়ের তফসিল ঘোষণারর আগে থেকেই বন্দরের ৫ ইউনিয়নে দু’জন করে বিএনপির প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। একটি গ্রুপের প্রার্থীরা হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার সমর্থনপুষ্ট বন্দর থানা বিএনপির একটি অংশের মনোনীত যার সভাপতি হিসেবে হাজী নুরুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম ভূইয়া হিরন রয়েছেন। অপর গ্রুপের প্রার্থীরা হচ্ছের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালামের অনুসারীরা। বন্দর থানা বিএনপির ওই পাল্টা কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় এমপির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। এদিকে দু’টি গ্রুপ থেকেই ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।

অ্যাডভোকেট তৈমুর সমর্থক প্রার্থীরা হলেন মদনপুর ইউনিয়নে মাজাহারুল ইসলাম ভূইয়া হিরন, কলাগাছিয়ায় বুলবুল আহাম্মদ, বন্দর ইউনিয়নে পারভেজ খান, ধামগড় ইউনিয়নে মাসুদ রানা। সাবেক এমপি কালাম সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন, মদনপুর ইউনিয়নে রুহুল আমিন, ধামগড় ইউনিয়নে আব্দুল মতিন, মুছাপুর ইউনিয়নে রিয়াজুল, বন্দরে ইউনিয়নে আরিফ মোল্লা অথবা অ্যাডভোকেট আনিছুজ্জামান মোল্লা, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন শিশির।

তবে সম্প্রতি বন্দরের ৩টি ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যানদের ও একটিতে সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যানের ছেলে সমর্থন দেয় স্থানীয় জাতীয় পার্টি। গত ৪ মে ঢাকার বনানী এলাকায় অবস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাস ভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে উপস্থিত হয়ে এইচ এম এরশাদের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা হলেন কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন এবং ধামগড় ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান আয়নাল হকের ছেলে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন প্রমুখ। এর আগে বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যানদেরকে মনোনীত করার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান। ৪টিতে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী দেয়া হলেও মদনপুরে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি।

এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যানদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান ও স্থানীয় এমপির সমর্থনের কারণে ৫টি ইউনিয়নেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেনা বলে জানা গেছে। এদের অনেকেই ভয়ে আবার অনেকে চাপের কারণে প্রার্থী হতে চাইছেন না বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী মাজাহারুল ইসলাম হিরন জানান, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগামী ৮ মে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন।

বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির একাংশের সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল জানান, বিএনপির অনেকেই শুরুতে আগ্রহ দেখালেও এখন অনেকেই নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছে। তারা দু’টি ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থী দিচ্ছেন। একটি হচ্ছে মদনপুর ইউনিয়নে মাজাহারুল ইসলাম হিরন ও অপরটি হচ্ছে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে মহিউদ্দিন শিশির।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আগে যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছা পোষণ করেছিল তাদের সবার কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। যদি তারা কেউ প্রার্থী না হয় তাহলে দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ভয়তো সরকারী দল দেখাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাতো নতুন কিছু না। আর আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে ধরনের কথা বলে সেগুলো গন্ডমুর্খের মতো শোনা যায়। বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশ সত্বেও আমরা নির্বাচন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দেয়ার জন্য। প্রতিকূল পরিবেশ সত্বেও আমরা বসে নেই।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৬ মে ২০১৬

Related posts