November 17, 2018

৫ আদেশ আটকানো গেল না কেন?

ঢাকাঃ  বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে সুইফটের বার্তা ব্যবহার করে যে ৩৫টি আদেশ পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে ৩০টি আদেশ আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (নিউইয়র্ক ফেড)। বাকি পাঁচটি আদেশ কাজে লাগিয়েই ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে মোট ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকা চুরি করা হয়। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফেডের কাছ জানতে চাইবে ৩০টি আদেশ আটকানো সম্ভব হলে, পাঁচটি আদেশ কেন আটকানো গেল না? বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এ ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক ফেড তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

নিউইয়র্ক ফেড ও আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক মাধ্যম সুইফটের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে। বৈঠকে এসব বিষয়ই তুলে ধরা হবে। গভর্নর ফজলে কবিরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বদরুল হক খান, ইনফরমেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার দেবদুলাল রায় ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব।

১০ মে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে ত্রিপক্ষীয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, বাসেল বৈঠকে অংশ নেবেন নিউইয়র্ক ফেডের সভাপতি বা প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডাডলি।

রিজার্ভ চুরি হওয়ার পর নিউইয়র্ক ফেড ও সুইফটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি চালাচালি হলেও এটাই প্রথম কোনো সভা। সভায় যোগ দিতে গভর্নরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আজ রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করবে। ১২ মে দেশে ফিরে গভর্নরের অফিস করার কথা রয়েছে।

এদিকে, সভার জন্য প্রস্তুতি নিতে গতকাল শনিবারও অফিস করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সভায় কী কী বিষয় উত্থাপন করা হবে ইতিমধ্যে তা তৈরি করা হয়েছে। আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আইনি বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে ফেডের দায়িত্ব কী ছিল, ফেড তা পুরোপুরি মেনেছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া রিজার্ভ জমা রাখার আগে সম্পাদিত চুক্তি মেনে অর্থ স্থানান্তরের আদেশ বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তা-ও দেখা হচ্ছে। সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙেই অর্থ চুরি করা হয়েছে—এই দাবিও তুলবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ফেড ও সুইফটের যে দায়িত্ব ছিল তা কতটা লঙ্ঘিত হয়েছে, সেটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সভায় এসব বিষয়ই তুলে ধরা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। ফেড ও সুইফট দায় স্বীকার না করলে প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য আইনজীবীও সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, রিজার্ভের অর্থ চুরি ও অর্থ আদায়—এ দুটিই মূল আলোচনার বিষয় হবে। এর পাশাপাশি আইনি বিষয় খতিয়ে দেখতে একজন আইনজীবীও সঙ্গে যাচ্ছেন।প্রথমআলো

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৮ মে ২০১৬

Related posts