November 19, 2018

৫ম শ্রেণির বন্ধুদের কবলে প্রাণে রক্ষা পেল রায়হান

৫ম শ্রেণির ছাত্র রায়হান

তোফায়েল হোসেন জাকিরর,গাইবান্ধা থেকে: সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করছে। কোচিং ছুটি হলো। কোচিং শেষে বাড়ী ফিরছিল ৫ম শ্রেণির ছাত্র রায়হান (১১)। এদিকে রায়হানকে হত্যার অপেক্ষা পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে ছিল অপর ৯ বন্ধু। সবাই চলতি প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) পরীক্ষার্থী ও একই স্কুলের ছাত্র।

রায়হান পায়ে হেটে সাদুল্যাপুরের জামুডাঙ্গা ব্রীজ নামক স্থানে পৌঁছিলে ওই ৯ বন্ধু তাকে সু-কৌশলে ডেকে ঘাঘট নদীর নির্জন তীরে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে কোন কথা নয়, সবাই মিলে রায়হানের বুকে, পেটে, মাথায় উপর্যপরি কিল, ঘুষি মারতে শুরু করে। এ সময় রায়হান জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর রায়হানকে মৃত্যু নিশ্চত করতে ঘাঘট নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনাও আটে। তো রাখে আল্লাহা মারে কে!কিন্তু তাদের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ নিতে পারেনি। সেই সময় স্থানীয় এক মহিলা ছালেমা বেওয়া ওই স্থানের পাশ দিয়ে চাচ্ছিলেন। তিনি ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। পরে ওরা ৯ জনের মধ্যে আট জনেই পালিয়ে যায়। জনতার হাতে ধরে পড়ে আশা মিয়া (১২) নামের ছেলেটি। ধৃত আশা মিয়া জামুডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাসার এর ছেলে।

পরে নির্যাতনকারী আশাকে ও নির্যাতিত শিশু রায়হানকে একত্রিক করে সাদুল্যাপুরের কোচিকন্ঠ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সভাপতি ও জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সাদুল্যাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গা ব্রীজ এলাকার ঘাঘট নদীর তীরে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে নানা ভয়-ভীতি বিরাজ করছে। নির্যাতিত শিশু রায়হান দামোদরপুর ইউনিয়নের মরুয়াদহ গ্রামের আব্দুল ওহাব আলীর ছেলে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জামালপুর ইউনিয়নের (ইউ,পি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রেজা জানান, যেহেতু বৃহস্পতিবার তাদের পরীক্ষা আছে। সেহেতু আগামী ৩০ নভেম্বর পিএসসি পরীক্ষা শেষে দশ জনের অভিভাবককে ডেকে বিষয়টি মিমাংসা করা হবে।

নির্যাতিত রায়হানের বাবা মো. আব্দুল ওহাব জানান, তার সন্তানকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তারা নদীর তীরে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারপিট করেছে। তিনি এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবীসহ তার সন্তানের নিরাপত্তার দাবী জানান।

এবিয়ে রায়হানের বড় ভাই ফজলে রাব্বী বৃহস্পতিবার বিকালে সাদুল্যাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts