September 24, 2018

৫মাসের শিশু পেল পিতার পরিচয়, নির্যাতিত পেল স্বামীর ঘর

অজয় কুন্ডু,
মাদারীপুর থেকেঃ
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় মাদারীপুর শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের ৫ মাসের এক শিশু পেল তার পিতৃ পরিচয়। তথ্য গোপন করে বিয়ে করতে গেলে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ের আসর থেকে লম্পট বর আঃ জলিলকে আটক পুলিশ। এর ফলে নির্যাতিত মেয়েটি পেল স্বামীর পরিচয়। আর নববধূ সজ্জিত আরেক মেয়ে রক্ষা পায় বড় ধরনের প্রতারনা থেকে। শুক্রবার বিকেলে পাঁচ্চর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চা ল্যের সৃষ্ঠি হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের গোয়ালকান্দা গ্রামের পিতৃহীন একটি মেয়ের সাথে প্রায় দেড় বছর আগে একই এলাকার মৃত করিম মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রী আব্দুল জলিলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের রেশ ধরে এক সময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে মেয়েটি। মেয়েটি আঃ জলিলকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরার বিষয়টি জানিয়ে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু প্রতারক আ. জলিল আজ কাল করে ধীরে ধীরে মেয়েটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পায়তারা করে। এলাকায়ও বিষয়টি জানাজানি হয়ে পরায় মেয়ে ও তার পরিবার লজ্জায় এলাকায় মুখ দেখাতে বিব্রত বোধ করে।

মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পাঁচ্চর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী দেলোয়ার হাওলাদারকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ছেলে ও তার পরিবারকে মেয়েটির সাথে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু ধর্মীয় রীতিতে অন্তঃসত্বা অবস্থায় বিয়ে করা যায়না বলে সন্তান প্রসবের অপেক্ষায় থাকে মেয়েটির পরিবার। এরপর গত প্রায় ৫ মাস আগে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় অসহায় মেয়েটি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন মেয়েটিকে জলিলের বিয়ে করার কথা। কিন্তু তখন থেকে পালিয়ে বেড়ায় জলিল। গত বুধবার জলিল ফরিদপুরের ভাংগা উপজেলার কালামৃধা গ্রামের একটি মেয়েকে গোপনে বিয়ে করার জন্য বর বেশে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পাঁচ্চর ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হাওলাদার রাতেই শিবচর থানার ওসি জাকির হোসেনকে জানায়।

ওসির নির্দেশক্রমে শিবচর থানার এএসআই ইমরান ও এএসআই আকরামের নেতৃর্ত্বে পুলিশের একটি দল ও ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় কালামৃধা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সেই বিয়ের আসর থেকে জলিলকে আটক করে। পরে আজ শুক্রবার বিকেলে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউপি দেয়ারম্যানের পাঁচ্চর কার্যালয়ে আঃ জলিলের সাথে মেয়েটির বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। আর এই বিয়ের কারনেই ৫ মাসের ছোট্র শিশু পেল তার পিতৃ পরিচয়। অসহায় মেয়েটি পেল স্বামীর সংসার।মেয়েটি বলে, অন্তঃসত্বা হওয়ার পর থেকে লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। আজ এই বিয়ের কারনে আমি পেলাম স্বামী ও সংসার আর আমার সন্তান পেল তার পিতৃ পরিচয় ।

পাঁচ্চর ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, এলাকার এমন একটি ঘটনা জানার পর থেকে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম বিয়ের মাধ্যমে এই লজ্জাকর সমস্যার সমাধান করবো। আজ ছেলে-মেয়ে দুটির বিয়ে সম্পন্ন করাতে পেরে খুব ভাল লাগছে ।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, পাঁচ্চর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী দেলোয়ার হাওলাদার বিষয়টি জানানো পরে কালামৃধার বিয়ের আসর থেকে জলিলকে আটক করা হয়। পরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বিয়ে হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts