September 21, 2018

৪ তলা ভবন হেলে পড়েছে ৫তলার উপর, ভবনটি সীলগালা

রফিকুল ইসলাম,নারায়ণগঞ্জঃ   নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগে এলাকায় একটি চার তলা ভবন হেলে পড়েছে পাশের ৫ তলা ভবনের উপর। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভবনের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের ভবনটি ঝুকিপুর্ণ ঘোষণা করে তালাবন্ধ করে দিয়েছে। সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকালে শহরের পশ্চিম দেওভোগের এলাকার প্রয়াত ফিরোজ মিয়ার মালিকানাধীন ৪ তলা ভবনটির উপর দিকের অংশ পাশের কামাল হোসেনের মালিকানাধীন ৫ তলা ভবনের উপর হেলে পড়ে। এতে হেলা পড়া ৪ তলা ভবন ও পাশের  ৫ তলা ভবনের বাসিন্দ দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজন বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে ভবনটিকে দেখে হেলে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ভবনের বাসিন্দারের অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করে দ্রুত ভবনের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ভবনের বাসিন্দারা তাৎক্ষণিভাবে কোথায় যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভবনের থাকেন। পরে দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ মনিরুজ্জামান ও নগর পরিকল্পনাবিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ভবনটি তালাবন্ধ করে দেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, সম্প্রতি ভূমিকম্পের কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা জানান, ভবনটির মাঝ দিয়ে দুই ফুটের ফাঁকা জায়গা ছিল।  কিন্তু ৪ তলা ভবনটি হেলে পড়ায় উপরের দিকে পাশের ৫তলা ভবনটির সঙ্গে লেগে গেছে। যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।  এ কারণে আমরা আতঙ্কে আছি।

এদিকে পাশের ৫ তলা ভবনের মালিক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ৪ তলা ভবনটি তার ভবনের উপর হেলে পড়ায় তিনি ওই ভবনের মালিকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ৫ তলা ভবনের উপর ৪ তলা ভবনটি হেলে পড়ায় আমার ভবনটিও ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হেলে পড়া চার তলা ভবনটি পুকুরের মধ্যে তৈরী করা হয়েছে। আর ওই ভবনটি আগে ছোট ছিল, পরে তা আরো উপরের দিকে বর্ধিত করা হয়েছে। এই কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দীন মনি জানান, ৪ তলা ভবনটি পাশের ৫ তলা ভবনের দিকে উপরের অংশ হেলে পড়েছে। এই ভবনটি বসবাসের জন্য মোটের নিরাপদ নয়। আমরা আশা করবো ভবন বিশেষজ্ঞ যারা তারা বিষয়টি দেখবেন এবং ভবনটি বসবাসের উপযোগী কী না তারা শতভাগ নিশ্চিত করবেন। একটি ভবন থেকে আরেকটি ভবন থেকে তিন ফুট দুরত্ব থাকার কথা। কিন্তু এখানে তা নেই, মিলেগেছে পাশের ভবনের উপর।  ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়া বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  ভবনটি যেহেতু নিজের পায়ের উপর দাড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, আমরা মনে করছি, পরবর্তীতে ছোট কোন ভূমিকম্প হলে এই ভবনটি টিকবে না।

জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ভবনটি হেলে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই ভবনে বসবাস করা নিরাপদ নয়। আমরা ওই ভবনের বাসিন্দাদের এবং ঝুকিপূর্ণভাবে আশপাশে যাতে কেউ না তাকে তাদেরকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা চাইবো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যাতে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট্র প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে। মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো: মঈনুল ইসলাম জানান, হেলে পড়া ৪ তলা ভবনটি আনুমানিক ১৯৯৫ সালে ফারজানা আক্তার স্বপ্না আড়াই শতাংশ জমির উপর তৈরী করেন। ভবনটি নির্মাণে সিটি কর্পোরেশন থেকে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। ভবনটির কোন নকশাও পাওয়া যায়নি। ভবনটি হেলে পড়ায় আমরা ওই ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে তালা বন্ধ করে দিয়েছি ভবনটি। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষার পর ভবনটির বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে তিনি জানান।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts