November 17, 2018

৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাধার উদ্বোধনের পরদিনই কিনা বন্ধ!


ঢাকাঃ  নেত্রকোনাবাসীর পানীয় জলের অভাব দূরকরণে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি `উচ্চ জলাধার` ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পরদিন থেকেই জলাধার দুইটিতে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

পৌরবাসীর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্ব অবহেলা এবং ঠিকাদারের অধিক মুনাফা লাভের আশায় শিডিউল অনুয়ায়ী যথাযথভাবে নির্মাণ কাজ না করা কিংবা নির্মাণে ত্রুটি থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ২৪ ঘণ্টা পানীয় জলের সরবরাহের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার জোর দাবি জানিয়ে আসছিল পৌরবাসী। আর এরই প্রেক্ষিতে পৌর কর্তৃপক্ষ ২০১১-২০১২ অর্থ-বছরে মাঝারি শহর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেক্টর (জিওবি-এডিবি) প্রকল্পের আওতায় দুইটি পানির ওভার হেড ট্যাংকি (উচ্চ জলাধার) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

পৌরবাসীর ২৪ ঘণ্টা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর যৌথভাবে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাচাই করে জেলা শহরের মোক্তারপাড়ায় এবং সাতপাই কলেজ রোডে দুইটি পানির ওভার হেড ট্যাংকি (উচ্চ জলাধার) নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে। প্রায় ছয় লাখ ৮০ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুইটি উচ্চ জলাধার নির্মাণের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের জানুয়ারি মাসে দুইটি ওভার হেড ট্যাংকির নির্মাণ কাজ শেষ হলে পৌর মেয়র প্রশান্ত কুমার রায় ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক ঘটা করে দুইটি ওভার হেড ট্যাংকির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই রহস্যজনক কারণে জলাধার দুটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে পৌরবাসীর আগের মতোই দিনে মাত্র দুই বার নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ করা হয়। কোনো কারণে বিদ্যুৎ না থাকলে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পৌরবাসীর পানির জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল জানান, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য পৌর নাগরিকগণ নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছেন। ট্যাক্সের টাকায় দুইটি ওভার হেড ট্যাংকি নির্মিত হলেও উদ্বোধনের পরদিন থেকেই কি কারণে বন্ধ রয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

পানি সরবরাহ শাখার প্রকৌশলী নৃপেন্দ্র চন্দ্র সরকার জানান, গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে জলাধার দুটি পূর্ণ করতে সময় লাগে আট ঘণ্টা, কিন্তু জলাধার দুইটি থেকে পানি ছাড়া হলে তা ঘণ্টা খানেকের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। পুনরায় ট্যাংকি দুইটিতে নতুন করে পানি পূর্ণ করে চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য জলাধার দুইটিতে পানি তোলা এবং তা থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুন্নবী জানান, এই মুহূর্তে আরো দুটি গভীর নলকূপ বসাতে হবে এবং আরো দুইটি উচ্চ জলাধার নির্মাণ করতে হবে। তাহলেই সার্বক্ষণিক জলাধার দুইটি চালু রাখা সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেও পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৪ মে ২০১৬

Related posts