November 19, 2018

৪৩ জন নারীর মাছ যুদ্ধ!


জাহিদুর রহমান,
ঝিনাইদহ থেকেঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলাকান্দর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে শিরিষকাঠ খাল। এ খালে বছরে পানি থাকে ৬ মাস। গ্রামটি দিয়ে অতিক্রম করার সময় চোখে পড়বে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। গ্রামের ৪৩ জন নারী মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের ৪৩ জন নারী নিজেরাই লেগে পড়েছেন মাছ চাষে। স্বপ্ন দেখেন তারা নিজেরা মাছ চাষ করে খাবেন এবং অতিরিক্ত মাছ বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ করবেন। গত ৪ বছর ধরে শিরিষকাঠ খালে এভাবে মাছ চাষ করেন। নিজেরাই মাছের খাবার দেওয়া, দেখা শোনা এমনকি মাছ ধরার কাজটি নিজেরাই করেন। ইতিমধ্যে তাদের গড়ে তোলা দোয়েল  ও কোয়েল সমবায় সমিতিতে  মাছ বিক্রির কয়েক লক্ষ টাকা সঞ্চয় করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নিয়ামতপুর ইউণিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে শিরিষকাঠ খাল। খালটির সঙ্গে মল্লিকপুর, কামালহাট, দৌলতপুর, বলরামপুর, মহেশ্বরচাদা, হরিগোবিন্দপুর গ্রামের মাঝখানের বিস্তর মাঠ ও টায়াখালী বিলের সাঙ্গে রয়েছে খালের সংযোগ। আর বলাকান্দর গ্রামের মধ্যে দিয়ে যে অংশ গিয়েছে তার নাম শিরিষকাঠ খাল।

আরও জানা যায়, বলাকান্দর গ্রামের ২টি নারী সমিতি আছে। একটির নাম দোয়েল মহিলা সমবায় সমিতি অপরটি কোয়েল মহিলা সমবায় সমিতি। দুটি সমিতির প্রায় ৪৩জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রতি সপ্তাহে চাদা জমা দিয়ে থাকেন। তারা একদিন উদ্যোগ হন কিভাবে শিরিষকাঠ খালে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। উভয় সমিতির সদস্যরা একদিন মিটিংয়ে বসেন। তার পর কোন পুরুষের সহযোগিতা ছাড়াই তারা  সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালের দুপাড় পরিস্কার পরিচ্ছন করেন।

এর পর তার প্রাথমিক অবস্থায় বেশ কিছু মাছের পোনা ছাড়েন পরীক্ষামুলক ভাবে। সেটা ২০১৩ সালের কথা। সে বার তারা যে টাকার মাছ ছেড়েছিল তার চেয়ে প্রায় ৩ গুন টাকার মাছ আহরন করে। এর পর তারা আর থেমে থাকেনি। প্রতিবছর  গ্রামের ঐ খালে তারা রুই, কাতল, সিলভারকাপ, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ শুরু করে। গত ২০১৫ সালে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। এবার ২০১৬ সালেও লক্ষাধিক টাকার মাছ বিক্রি করেছেন।

দোয়ের মহিলা সমিতির সভানেত্রী হাজেরা খাতুন জানান, তারা প্রায় ৪ বছর ধরে এই খালে মাছ চাষ করছেন। তিনি জানান, প্রথমে একটি সমস্যা হচ্ছিল মেয়েরা খালে নেমে মাছ চাষ করবে ? পরে যখন সকল সদস্যই চাষকৃত মাছ হাতে পেলো এবং বেশ কিছু টাকা স য় হলো তখন থেকে উদ্যোম আরো বেড়ে গেছে।

কোয়েল মহিলা সমিতির সভানেত্রী আজিজা বেগম জানান, তাদের খুব ভাল লাগছে। গ্রামের মধ্যে প্রবাহিত পরিত্যক্ত খালকে তারা পরিস্কার করে মাছ চাষ করছে। আর যারা মাছ চাষ করছে তারা সকলেই নারী। বাড়ির অন্য কাজ শেষ করে এই খালে মাছের পেছনে তারা সময় দিচ্ছে।

তিনি আরো জানান, শিরিষকাঠ খালে বছরে ৬ মাস পানি থাকে। যদি সরকার এটিকে  খনন করে সংস্কার করে ১২মাস পানি থাকার ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে তারা এখানে ১২মাস মাছ চাষ করতে পারতো।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দ: শরিফা আক্তার জানান,  তিনি নিজে ঐ গ্রামে মাঝে মাঝে যান এবং খালে  যে সব নারীরা মাছ চাষ  করেন তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এবার মৎস অধিদপ্তরের সহযোগিতায় শিরিষকাঠ খালে বেশ কিছু মাছের পোনা দেওয়া হয়। যার মালিক পরবর্তীতে  দুটি সমিতির মহিলা সদস্যরাই পান। মাছ আহরনের দিন তিনি তাদের সাথেই ছিলেন।

ঝিনাইদহের আরও খবর।

রামপ্রসাদ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পথে!

এই সুন্দর ফল ,সুন্দর ফুল ,মিঠা নদীর পানি-খোদা তোমার মেহের বাণী, আর সেই মেহেরবাণী ও সুন্দর পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিতে চলেছে ঝিনাইদহের রামপ্রসা (১৯)।

ঝিনাইদহের সদর থানার হামদহ এলাকার আলহেরা পাড়ার কা নপুর গ্রামের ঠাকার দাসের ছেলে রামপ্রসাদ দাস জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে চির বিদায় নেিত চলেছেন এই সুন্দর পৃথিবী থেকে। রাম প্রসাদের মামা দিলীপ কুমার ও গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন,আজ থেকে প্রায় ১৯ বছর আগে রাম প্রসাদের জন্মের পর পরই তার বাবা ঠাকুর ভারতে পাড়ি জমায়। সেই থেকে আজ অবধি সংসারের সাথে সংগ্রাম করে চলেছেন তার জনম দুঃখিনী মা। মায়ের পরের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে চলছে রামপ্রসাদদের ছোট্ট সংসার।

সাথে সাথে জিবন বাচার তাগিদে ৮/৯ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন সেলুনে কাজ করে চলেছে ছোট্ট ছেলে রাম প্রসাদ। কিন্তু বীধির বীধান খন্ডাবে কে ? গত ২ বছর পুর্বে পারফেক্ট জেন্টস পার্লার এন্ড সেলুনে কর্মরত অবস্থায় রামপ্রসাদের মাজার ভিতরে ব্যাথা করতে শুরু করে। এমত অবস্থায় ঝিনাইদহের সদর হাসপাতালে হাড় ও শিরা বিশেষগ্গ ডাঃ শাহাবুল করিমের দায়িত্বে ২ মাস ভর্তি থাকা অবস্থায় ঝিনাইদহ,যশোর,কুষ্টিয়ার বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে রাম প্রসাদের মাজা ও বাম পার্শ্বের পায়ের ভিতরে ক্যালসিয়াম সুকিয়ে যাচ্ছে। এই ২ মাসের ভিতরে সে সম্পুর্ন পঙ্গু হয়ে গিয়েছে।

পঙ্গু হবার করনে রামপ্রসাদের হাটাচলা সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই ১৯ বছরের টগবগে যুবক রামপ্রসাদের ঝিনাইদহের সদর হাসপাতালের ডাক্তার সমস্ত পরীক্ষা নীরিক্ষার যাচায় বাচায় করে রামপ্রসাদকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সরেজমিনে সাংবাদিক জাহিদুর রহমান ও ক্যামেরাম্যান আমির হোসেন কে সাথে নিয়ে রামপ্রসাদের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে পরের জমিতে খড়কুটোর একটি ছোট্ট বাড়িতে সে ও তার মা বসবাস করে-ঝড়ঝাপটায় বসবাসের অযোগ্য।

জনম দুঃখিনী মায়ের একমাত্র সন্তান পঙ্গু রামপ্রসাদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে মা বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে। রামপ্রসাদের গ্রামবাসীরা তার চিকিৎসার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করেছেন দেশের হৃদয়বাদ ব্যাক্তি বর্গের নিকটে। আরো জানাগেছে, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করার সত্ত্বেও অর্থের অভাবে সেখানে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছে না। এমন কি ২/১ শত টাকা খরচা করে ঔষধ কিনে খাবে সেই ক্ষমতাও তার নাই।

মানুষ মানুষের জন্য জিবন জিবনের জন্য একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু, এই বিখ্যাত গানের কলিটির কথা মনে করে শুধু মাত্র বেঁচে থাকার জন্য দেশের হৃদয়বান ব্যাক্তিবর্গের নিকটে তার ছোট্ট ২টি হাত বাড়িয়েছেন অভাগা রাম প্রসাদ। যদি কোন সুহৃদয়বান ব্যাক্তিবর্গ রামপ্রসাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে চান, তাহলে নিচে রামপ্রসাদের মায়ের বিকাশ নাম্বার ও একাউন্ট নাম্বার দেয়া হল, যোগাযোগ করে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারেন।

বিকাশ নাম্বার- ০১৭৫৮ ৬১২৩৮৮
ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার-চায়না খাতুন,একাউন্ট নং-৫৮৭৪,অগ্রনী ব্যাংক,হামদহ শাখা,ঝিনাইদহ সদর. ঝিনাইদহ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ রামপ্রসাদের বাবা তাদের ছেড়ে ভারতে চলে যাবার পরে রামপ্রসাদের মা ইসলাম ধর্মগ্রহন করে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৬ মে ২০১৬

Related posts