November 15, 2018

৪০ মিনিট পরও বুঝতে পারছিলাম না, কী করা উচিত!


স্পোর্টস ডেস্ক:  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের মহারণে শেষ দৃশ্যের নায়ক কিন্তু স্যামুয়েলস নন, নায়কের ভূমিকায় ছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯ রান। বেন স্টোকসের করা সেই ওভারের প্রথম চার বলে চার ছক্কায় ব্রেথওয়েট দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। ক্যারিবিয়ানরা জিতে নেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মুকুট।

একদিকে ক্যারিবিয়ানদের বুনো উল্লাস,যুব বিশ্বকাপের পর ওইদিনই বিকেলে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় এবং রাতে গেইল-স্যামিদের বিশ্বজয়ে নাচে-গানে মুখরিত কলকাতার ইডেন গার্ডেনস সেই সাথে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

অন্যদিকে বেন স্টোকসের দুই হাত মাথায় দিয়ে চোখে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে বিহ্বল বসে থাকা। নির্বাক দৃষ্টিতে কোথায় যেন হারিয়ে যাওয়া। ব্রেথওয়েটের সেই বিদ্ধংসী চার ছয়ের পর কেমন লেগেছিল স্টোকসের? ওই মুহূর্তে আসলে কী ভেবেছিলেন? দুঃস্বপ্নের পাঁচ দিন পর ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই রাতের কথা সবিস্তারে জানিয়েছেন স্টোকস।

বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, এই মাত্র আমি বিশ্বকাপটা হারিয়ে ফেললাম। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। আরও অনেক সময় লেগেছিল পায়ের নিচের মাটি ফিরে পেতে। মনে হচ্ছিল, বুঝি আর দাঁড়াতে পারব না। ধরণি দ্বিধা হও—এই কথাই মনে হচ্ছিল। ভালো কিছুই মাথায় আসছিল না। একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া যেটাকে বলে।’

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে রানার্সআপের পুরষ্কার ও পদক নিয়েছেন। যদিও সেসময় বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলো না ভেতরে কতটা ভেঙে পড়েছিলেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার চল্লিশ মিনিট পর পর্যন্ত বুঝতেই পারছিলেন না তার কি করা উচিৎ।

বললেন, ‘ম্যাচের পর ৪০ মিনিট পর্যন্ত বুঝতে পারছিলাম না, আমার কী করা উচিত। আমাকে মাঠে ফিরে নিজের পদকটা নিতে হয়েছে। বক্তৃতা শুনতে হয়েছে। আমি জানতাম, সব ক্যামেরা আমার দিকে তাক করা। অবশ্যই আমি ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু ক্যামেরায় সেটা দেখাতে চাইনি।’

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সতীর্থ ক্রিস জর্ডান ছুটে এসেছিলেন স্টোকসের কাছে। পরে বাকিরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। ম্যাচ শেষে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ইন মর্গ্যানও জানিয়েছিলেন, পুরো দল স্টোকসের সঙ্গেই আছে। যদিও স্টোকসের মন মেনে নিতে পারছিল না।

বললেন, ‘সবাই আমাকে বলছিল, এটা কিছু না। সব ঠিক হয়ে যাবে। ওরা এর চেয়ে বেশি আর কী-বা বলতে পারত? কিন্তু আমার মন তো মানছিল না। ওই রাতে কেউ আর কোনো কথা বলছিল না। আমি ওই দিন ভালো করলেই উল্টো সবাই এর চেয়ে বেশি মজা করত।’

ফাইনালের আগে সেমিফাইনালেই অধিনায়ক মর্গ্যানের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন দলকে জিতিয়ে।  যদিও ফাইনালে সেটা আর হলো না। তবে স্টোকসের মতে ফাইনালের চেয়ে সেমিফাইনালেই বেশি স্নায়ুচাপে ছিলেন।

বললেন, ‘আমি মর্গ্যানকে তখনই বলেছি, আমি আসলে ফাইনালের চেয়ে সেমিফাইনালেই বেশি স্নায়ুচাপে ছিলাম। হয়তো সেমিফাইনালে ভালো করার পরেই বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু ওই ওভারের পর সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।’

তবে স্টোকস জানেন, এখানেই শেষ নয়। পূর্বসূরি স্টুয়ার্ট ব্রড যেমন যুবরাজের কাছ থেকে পর পর ছয়টি ছক্কা খাওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। স্টোকসও তাই এই ওভারকেই নিচ্ছেন প্রেরণা হিসেবে, ‘এই ওভারটা আরও অনেক দিন আমার মনে থাকবে। আমাকে নিশ্চিত করতে হবে, এ রকম কিছু যাতে না হয়। আর খারাপ সময়ই তো আপনার আসল পরীক্ষা।’আর সেই পরীক্ষায় স্টোকস একা নন, পাশে পাবেন পুরো ইংল্যান্ড দলকেই।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts