November 19, 2018

৩ মাসে হারিয়েছে ২৮ লাখ গ্রাহক!

ঢাকাঃ  বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধন শুরুর পর ৩ মাসে ২৮ লাখের বেশি গ্রাহক হারিয়েছে বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো।

গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত বিটিআরসির মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে দেশে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের হাতে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক ছিল। ধারাবাহিকভাবে কমে মার্চে তা ১৩ কোটি ৮ লাখ ৮১ হাজারে নেমে এসেছে। জানুয়ারির শেষে দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার। ফেব্রুয়ারির শেষে ছিল ১৩ কোটি ১০ লাখ ৮৫ হাজার। মোবাইল ফোন অপারেটররা বলে আসছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন শুরু হওয়ায় তাদের গ্রাহক সংখ্যায় এ প্রভাব পড়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির বলেন, বর্তমানে একটি ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গ্রাহক সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করবে বলে আমরা আশা করছি।

১৬ ডিসেম্বর বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ার পর আঙুলের ছাপ না দিয়ে নতুন সিম কেনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি চলছে পুরনো সিমের পুনঃনিবন্ধন।

১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ কোটি ৪৫ লাখ সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত হয়েছে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। বিটিআরসির হিসাবে, গত ডিসেম্বরে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার, যা মার্চে ৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজারে নেমে এসেছে। ৩ মাসে তাদের চার লাখ গ্রাহক কমেছে। বাংলালিংকের গ্রাহক সংখ্যা এই সময়ে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৫ হাজার থেকে প্রায় ৯ লাখ কমে ৩ কোটি ১৯ লাখ হয়েছে। এই ৩ মাসে রবিও প্রায় সমান গ্রাহক হারিয়েছে।

ডিসেম্বরের ২ কোটি ৮৩ লাখ ১৭ হাজার থেকে কমে মার্চে তাদের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার। ডিসেম্বরে এয়ারটেলের গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার। তা ৬ লাখ কমে মার্চে ১ কোটি ১ লাখ ৬১ হাজার হয়েছে। একই সময়ে সিটিসেলের গ্রাহক ১০ লাখ থেকে ২ লাখ কমে ৮ লাখে নেমে এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক। বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শুরুর পর টেলিটকের গ্রাহক ৪১ লাখ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪২ লাখ ৫৪ হাজার হয়েছে। অপারেটরগুলোর দেয়া সিম বিক্রির তথ্য থেকে বিটিআরসি এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts