September 20, 2018

৩৬৫টি পূজা মন্দিরে পুলিশের নজরদারী<<দেশে বিদেশে তোলপাড়!


জাহিদুর রহমান
ঝিনাইদহ থেকেঃ
ঝিনাইদহে পুরোহিত হত্যার পর দেশে বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জেলার ৩৬৫টি পূজা মন্দিরে পুলিশের বিশেষ নজরদারী চলছে। পুরোহিতদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্দির, গীর্জা ও উপাসনালয়ের পুরোহিতদের নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখছে পুলিশ।

এ সব তথ্য জানিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ। তিনি আরো জানান, পুরোহিতদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ পালাক্রমে ডিউটি করছে। মন্দিরের কর্মকর্তাদের কাছে পুলিশের মোবাইল নাম্বার দিয়ে যে কোন সময় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব মিডিয়ায় ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যার খবর ফলাও করে প্রচার হওয়ার পর সরকার ও বিরোধীদলের প্রভাবশালী নেতা এবং মন্ত্রীরা আসছেন অজপাড়া গাঁ খ্যাত কোরাতিপাড়া গ্রামে। পুলিশ পুরোহিত হত্যার মামলা নিয়ে টেনশনে আছে। হিমশিম খাচ্ছেন খুনিদের গ্রেফতার ও মামলাটি তদন্ত নিয়ে। ঘটনার পরদিন গত বুধবার (৮ জুন) ভারতীয় দুতাবাসের দুই কর্মকর্তা ফাস্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) রাজেশ উকাইয়া ও কনসুলার রমাকান্ত গুপ্ত ঘুরে গেছেন কোরতিপাড়া গ্রাম। তারা এসে সমবেদনা জানিয়ে পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

সরকারের মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ গত শুক্রবার পুরোহিতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে মহিষের ভাগাড় রাস্তাটি পাকা করে আনন্দ গোপালের নামে নাম করণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিন হিন্দু বৈদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঝিনাইদহ জেলা নেতারা পুরোহিতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে হত্যার বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধূরী শনিবার পুরোহিতের বাড়িতে আসেন সমবেদনা জানাতে।
তিনি এ সময় বলেন, রাজনৈতিক ভাবে দোষারোপ না করে ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তা না হলে দেশে একের পর এক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ খুন হতে থাকলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হবে।

এ ছাড়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, কেন্দ্রীয় পুজা উদযাপন পরিষদের নেতা বাবু কনক কান্তি দাস, ঝিনাইদহ জেলা হিন্দু বৈদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুবীর কুমার সমাদ্দারসহ সরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্নি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন সর্বক্ষন নিহত পুরোহিতের পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

সর্বশেষ পুলিশের পক্ষ থেকে পুরোহিত হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধারের দাবী করা হলেও নিহতর পরিবার এ নিয়ে সন্তষ্ট নয়। তারা দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চান। নিহত আনন্দ গোপালের স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলী, ছেলে অরুন গাঙ্গুলী, সিন্ধু গাঙ্গুলী, মেয়ে রিনা গাঙ্গুলী, মিনা গাঙ্গুলী ও আর্চনা গাঙ্গুলীসহ পরিবারের সদস্যরা সোমবার জানান, খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা শান্তি পাচ্ছেন না। স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলী কান্না ভেজা কন্ঠে জানান, সরকারী সহায়তা আর মন্ত্রী এমপিদের আশ্বাস দিয়ে আমাদের কি হবে ? যদি স্বামী হত্যার খুনিরা গ্রেফতার না হয়।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষারভাগাড় বিলে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ওরফে নন্দকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আনন্দ গোপাল সদর উপজেলার কোরতিপাড়া গ্রামের মৃত সত্য গোপালের ছেলে। এ হত্যাকান্ডের পর আইএস এর নামে দায় স্বীকার করা হয়।

ঝিনাইদহের আরো খবর…………।

ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক ৩৩

ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গী ও জামাত-শিবিরের ৮ নেতাকর্মীসহ ৩৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে শাহিনুর রহমান শাহিন (২৮) নামে এক জঙ্গীকে আটক করা হয়। শাহিন ওই উপজেলার বুজরুক মুন্দিয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। সে জঙ্গী সংগঠন আল্লাহর দলের সদস্য বলে জানা গেছে।

এছাড়া, শৈলকুপা থেকে ইউনুস আলী (৩৭) নামে এক জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ইউনুচ ওই উপজেলার দেবীনগর গ্রামের জাইবার আলীর ছেলে।

তিনি জানান, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞিসাবাদ শেষে সোমবার বিকালে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ অভিযানে ৪ দিনে আটক ১৬৪!

ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গী ও জামাত-শিবিরের ৮ নেতাকর্মীসহ ৩৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়।

এ নিয়ে গত চার দিনে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা থেকে ১৬৪ জনকে আটক করা হলো। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে শাহিনুর রহমান শাহিন (২৮) নামে এক জঙ্গীকে আটক করা হয়। শাহিন ওই উপজেলার বুজরুক মুন্দিয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। সে জঙ্গী সংগঠন আল্লাহর দলের সদস্য বলে জানা গেছে। এছাড়া, শৈলকুপা থেকে ইউনুস আলী (৩৭) নামে এক জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ইউনুচ ওই উপজেলার দেবীনগর গ্রামের জাইবার আলীর ছেলে।

এছাড়াও, এ অভিযানে জেলার অন্যান্য স্থান থেকে ৮ জামায়াত শিবিরসহ বিভিন্ন মামলার আরো ৩১ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে সদর উপজেলার ১১ জন, কালীগঞ্জের ৭ জন, মহেশপুরের ৬ জন, শৈলকুপার ৪ জন, কোটচাঁদপুরের ৩ জন ও হরিণাকুন্ডুর ২ জন রয়েছে। তিনি জানান, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞিসাবাদ শেষে সোমবার বিকালে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

নিহত পুরোহিতের বাড়িতে ন্যাপ নেতৃবৃন্দ !

ন্যাপ সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য সোমবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোরাতিপাড়া গ্রামে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীর বাড়িতে যান। তিনি পুরোহিতের পরিবারবর্গকে শান্তনা দিয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর এর ট্রাষ্ট্রি তারেক আলী, ন্যাপ নেতা হাফিজ ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, সহ-সভাপতি তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দার, ন্যাপ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, লুৎফর রহমান মনোজ, আবু বকরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ন্যাপ সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন,
দেশ ব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের উত্থান ঐক্যবদ্ধ ও সামাজিক ভাবে প্রতিহত করতে হবে। তিনি বলেন দেশে গনতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে জামায়াত শিবিরসহ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ন্যাপ সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য পুরোহিত হত্যা ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করে দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে নলডাঙ্গা সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে পুজা দিতে যাওয়ার সময় মহিষা ভাগাড় বিলে নিয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃসংশভাবে হত্যা করে। উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষারভাগাড় বিলে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ওরফে নন্দকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আনন্দ গোপাল সদর উপজেলার কোরতিপাড়া গ্রামের মৃত সত্য গোপালের ছেলে।

এ হত্যাকান্ডের পর আইএস এর নামে দায় স্বীকার করা হয়। ঘটনার পর দিন ভারতীয় দুতাবাসির দুই কর্মকর্তা নিহতর বাড়িতে আসেন। এ ছাড়া সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতিনিধি দল নিহতর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে কোরাতিপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন।

তাছাড়া ১৪.০৬.২০১৬ ইং মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোঃ নাসিম ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু নিহত পুরোহিতের বাড়িতে আসবেন। সেখানে তারা এক শান্তি সমাবেশে যোগদান করবেন বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৩ মে ২০১৬

Related posts