September 22, 2018

২ ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ !

পৃথক দুটি জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানে জনতা ব্যাংকের জিএম ও কৃষি ব্যাংকের বরখাস্তকৃত মুখ্য কর্মকর্তাসহ ব্যাংক দুটির ৭ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে হলমার্ক কেলেঙ্কারির নন-ফান্ডেড অংশের আড়াই হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে জনতা ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে এবং কৃষি ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে ব্যাংকটির তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলীর নেতৃত্বাধিন একটি অনুসন্ধানী টিম। অপরদিকে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এম রফিকুল ইসলাম।

জনতা ব্যাংক করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আব্দুছ ছালাম আজাদসহ যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন, একই শাখার ডিজিএম এস এম আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ডিজিএম আজমুল হক ও এজিএম মো. ফায়েজুর রহমান ভূঁইয়া।

অপরদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাময়িক বরখাস্তকৃত মুখ্য কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেনসহ যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন, সাভার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্তকৃত) মাফতুন আহমদ, আরেক সাবেক ব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্তকৃত) বীরেন দাস এবং ব্যাংকের গ্রাহক মনো প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্ত্বাধিকারী একেএমএ বাশার।

দুদক সূত্র জানায়, হলমার্কের নন-ফান্ডেড অংশে ৩৭টি ব্যাংকের ১২০টি শাখায় হলমার্ক নগদ এক হাজার ৫৩৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভিযোগ অনুসন্ধান করতেছে দুদক। নন-ফান্ডেড অংশের জালিয়াতিতে আক্রান্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি সাতটি, বেসরকারি ২৫টি ও বিদেশি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে। এ সব ব্যাংকর সঙ্গে হলমার্ক সুতা, তুলা, ফেব্রিক্স এবং এক্সেসরিজ সরবরাহ করেছে মর্মে জালিয়াতি করা হয়েছে। সরকারি সাত ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, কৃষি, সোনালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বেসরকারি ২৫টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— প্রিমিয়ার, ব্র্যাক, ন্যাশনাল, ইউসিবিএল, ওয়ান, সিটি, উত্তরা, প্রাইম, ইসলামী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল, যমুনা, শাহজালাল, আল-আরাফা, সাউথইস্ট, এনসিসি, এসআইবিএল, এক্সিম, আইএফআইসি, ট্রাস্ট ব্যাংক, পূবালী, ডাচ্-বাংলা, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এবি ব্যাংক। আর বিদেশি ৫টি ব্যাংকের মধ্যে রেয়েছে— স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেড ও এইচএসবিসি ব্যাংক লিমিটেড।

এই অভিযোগের সংঙ্গে জনতা ব্যাংকের ওইসব কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় আজ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র আরো জানায়, ১৯৯০ সালের ১০ জুলাই কৃষি ব্যাংকের জোনাল কার্যালয় থেকে মনো প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক এ কে এম এ বাশার ও মিসেস হোসনে আরা তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ লাখ টাকা ঋণ নেয়। ওই ঋণ বিধি মোতাবেক পরিশোধ করার পর পরই ২০১০ সালের ২১ জুন তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বন্ধকী সম্পদের বিপরীতে ৬ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে কৃষি ব্যাংক সাভার শাখা। পরবর্তীতে সাভার শাখার প্রস্তাবে পণ্য বন্ধকী বাবদ মঞ্জুরীকৃত ২ কোটি টাকার বিপরীতে কৃষি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের বৈদেশিক বানিজ্য বিভাগে মাদার এলসি খোলে আসামীরা। এরপর বেশ কয়েকধাপে ও ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে ফান্ডেড ও নন ফান্ডেড মিলিয়ে ১৫৭টি ডেবিট এডভাইসের সমপরিমাণ মোট ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করে, যা ২০১৫ সালের ৩০জুন পর্য্ন্ত সুদাসলসহ মোট ৬৩ কোটি ৪৩ টাকা হয়।

এভাবে জিজ্ঞাসবাদকৃত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ১৫৭টি ডেবিট অ্যাডভাইসের বিপরীতে ফান্ডেড-ননফান্ডেড মিলিয়ে মোট ৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করে। যা ব্যাংকটির বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। কৃষি ব্যাংকের মুখ্য কর্মকর্তা মো. শাহ-আলম সাভার মডেল থানায় বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর তা তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। আর তদন্ত স্বার্থেই ওইসব আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts