November 17, 2018

২৫ এপ্রিল এদিনে প্রান হারিয়েছিল ৫২ জন!

কামাল উদ্দিন টগর নওগাঁ প্রতিনিধি: গত ২৫ এপ্রিল,রাণীনগর গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা গ্রামে গণহত্যা চালায়। নিরস্ত্র-নিরপরাধ মুক্তিকামি গ্রামবাসীর উপর চালিয়ে ছিল হত্যা, নারী নির্যাতন, লুটপাত, অগ্নিসংযোগের মত বর্বর হামলা। আর এ হামলায় পাকিস্তানীদের হাতে এক সাথে প্রান হারিয়েছিল ৫২ জন মুক্তিকামি গ্রামবাসী ।

এই দিনটি  আতাইকুলা গ্রাম বাসির কাছে এক স্মরণীয় দিন। ২৫ এপ্রিল রাণীনগরে যেমন শোকের ছায়া নেমে আসে তেমনি এই দিনটিকে নিয়ে এলাকাবাসি  গর্ব বোধও করেন।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ০৭ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে  রাণীনগর উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরে মিরাট ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী আতাইকুলা পালপাড়া গ্রাম। গ্রামবাসির অপরাধ ছিল তারা মুক্তিযোদ্ধকে সমর্থন করে অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে এদেশকে রক্ষা করার জন্য। ১৯৭১ সালে ২৫ এপ্রিল হানাদার খানসেনা ২’শতাধিক পাক-বাহিনীর নরপশুর দল ওই দিন সকাল অনুমান ৯ টার দিকে আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামেরপূবর্ দিকে কুজাইল বাজারে অবস্থান নেয়। এর পর পূর্ব পরিকল্পনা মত পাকিস্তানের পতাকা হাতে নিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নদী পার হয়ে আতাইকুলা গ্রাম ঘিরে ফেলে।

অবস্থা বেগতিক দেখে ওই গ্রামের কিছু লোক বাড়ি-ঘর ফেলে রেখে নারী-পুরুষ যুবক-যুবতীরা যে যার মতো পালানোর চেষ্ঠা করে। কিন্তু  পাক-হানাদার বাহিনীর স্থাণীয় রাজাকার আলবদররা তাদেরকে বাঁধা দেয়। এর পর পালপাড়া গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যগেশ্বর পালের বৈঠকখানার আঙ্গিনায়  একত্রিত করে। শুরু হয় পাক-সেনাদের বর্বরতা নির্যাতন। সারা দিন ধরে চলে ঘরে ঘরে হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষন অগ্নিসংযোগসহ মর্মস্পর্শী নির্যাতন। সারা দিনের নিমর্ম অত্যাচারে গ্রামের বাতাস ভারি হয়ে আসে।

যার যা কিছূ টাকা-কড়ি, সোনা-দানা সহ সব কিছু তুলে দিলেও শেষ পর্যন্ত তাদের মন গলাতে পারেনি গ্রামবাসি। দিনের শেষ বিকেলে বৈঠকখানার আঙ্গিনায় বন্দীদের ওপর চালালো উপর্যুপরি মেশিনগানের ব্রাশফায়ার। গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় নিরীহ গ্রামবাসিদের। ঘটনাস্থলে শহীদ হন শ্রী গবিন্দ্রনাথ চরন পাল (৩৫), জগেনন্দ্রনাথ (৪০), শুরেশ্বর পাল (৪১),তার পুত্র প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল (২৫), শুনিল কুমার পালসহ  ৫২টি তাজা প্রান।

ঘটনাক্রমে ওইদিন গুরত্বর আহত অবস্থায় প্রানে রক্ষাপায়, শ্রী সুনীল চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল ।  তাদের আকুতি শেষ মূর্হূতে হলেও শহীদদের  স্বীকৃতি গণকবরটি সংরক্ষন ও বীরঙ্গনাদের তালিকা করে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি জানান।

শহীদ পরিবারের সদস্য গৌতম পাল জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচী গ্রহণ না করলেও আমরা পারিবারিক ভাবেই সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদের স্মৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, গীতাপাঠ ও প্রসাদ বিতরণ করে থাকি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts