November 21, 2018

২১ আগষ্ট দলীয় ভাবে পালন না করায় আক্ষেপ ওমর ফারুকের

ঢাকা থেকেঃ ২১ই আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ও নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে সংবাদ চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন-২১শে আগষ্টের হামলার সাথে বিএনপি ও তার সহযোগীরা জড়িত এটি আজ ধ্র“ব সত্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তারা যে একশন নিয়ে নেত্রীকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে জনগণ সেটি প্রতিহত করেছে। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ছিলেন। কিন্তু কাউকে তারা সেটি বিশ্বাস করাতে পারেনি। বিএনপি জামায়েত যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে, সেটি আজ ধ্রুব সত্য।

তিনি বলেন, কি কারনে ২১শে আগষ্টের হামলা? কারন তারা ২১টা বছর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ও স্বাধীনতার ইতিহাস সুপরিকল্পিত ভাবে উচ্চারণ করতে দেয়নি। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনাই ছিলেন সেদিনের হামলার টর্গেট। সেদিন জনসভাস্থলে স্বাভাবিক সিকিউরিটি ছিল না। বিরোধী দলীয় নেত্রী যেখানে বক্তব্য দিবেন আশেপাশের বাড়ির ছাদে পুলিশ ছিলনা। বোমা হামলার পর যারা আহতদের সেবা করছে তাদের উপর হামলা করেছে। এমনকি পার্লামেন্টে এটি নিয়ে আলোচনা করতে দিলেন না এই খালেদা ও তার স্পিকার। যুবলীগের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন- পৃথিবীতে যত যুব সংগঠন আছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সর্বশ্রেষ্ঠ যুব সংগঠন। যুবলীগ আজ ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে সুসংগঠিত, যার বেনিফিশিয়ারী আমি নিজেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি বলেন-২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়া তারেক রহমান জড়িত এটা কি নতুনভাবে প্রমান করতে হবে ? ঐ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে লাল নিশান দিয়ে ছিলাম। খালেদা জিয়া সব মুছে ফেলেছিল। এই আগষ্ট মাসেই জঙ্গীরা ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় একযোগে পাঁচ শতাধিক বোমা বিষ্ফোরন ঘটিয়েছিল।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন- সবাই ২১আগষ্ট পালন করি। আমার কাছে দুঃখ লাগে এখনো ২১ আগষ্ট দলীয় ভাবে পালন করা হয় না। ২১ আগষ্টকে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন-বিরোধী দলে থাকলে রাজপথে মিছিল করতে হবে, যারা পুলিশের নির্মম প্রহার বরণ করতে পারবে, যারা গ্রেপ্তার হতে পারবেন তারা’ই হবে নেতা।

রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণে স্বঃস্ফুর্তভাবে নিয়োজিত মানবিক কাজ। এটার বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায় না। আমি মন্ত্রী হব, এমপি হব, এমন আশা করলে সেই আশার নাম রাজনীতি নয়। তিনি আরো বলেন- জিয়াউর রহমান রাজনীতিজীবি তৈরী করেছিলেন। রাজনীতি করলে বুঝি কোটি টাকার মালিক হওয়া যাবে। সেই রাজনীতিজীবীরা এখন মাঠে আসবে না কিন্তু আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ, সংসদের ৯০ ভাগ রাজনীতিবিদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন- দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করার জন্য’ই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নতুন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ষড়যন্ত্রকে রুখতে যুবলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সজাগ থাকতে হবে।

ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এর সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, আনোয়ারুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, আসাদুল হক আসাদ, ফারুক হোসেন তুহিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শ্যামল কুমার রায়, কেন্দ্রীয় নেতা রওশন জামির রানা, মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপন, আনোয়ার ইকবাল সান্টু, মোঃ হারুন অর রশিদ, নাজমুল হোসেন টুটুল, মোরসালিন আহমেদ, খোরশেদ আলম মাসুদ, যুগ্ম-সম্পাদক জাফর আহমেদ রানা, ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বকুল, গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু, মাকসুদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল মারুফ, ঢাকা মহানগর উত্তর সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ।

Related posts