November 18, 2018

২১৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন এই খেলোয়াড় !

স্পোর্টস ডেস্ক : খবরটি অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে। কিন্তু অলিম্পিকের ২১৬৮ বছরের পুরনো এক রেকর্ড ছুঁলেন মার্কিন ক্রীড়াবিদ মাইকেল ফেলপস। রিও অলিম্পিক গেমসের চতুর্থ দিন পুরুষদের ২০০ মিটার সাঁতারে শিরোপা কুড়ান যুক্তরাষ্ট্রের এ জীবন্ত কিংবদন্তি। অলিম্পিক ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত সাঁতারে ১২ স্বর্ণ পূর্ণ হলো মাইকেল ফেলপসের। এতে তার নাম উঠলো প্রাচীন ওই রেকর্ডে।

প্রাচীন ও আধুনিক অলিম্পিক গেমস মিলিয়ে ব্যক্তিগত ক্রীড়ায় সর্বাধিক ১২ স্বর্ণের গৌরব ছিল কেবল লিওনিদাসের। খ্রিস্টপূর্ব ২০০-তে টানা চার অলিম্পিকে পৃথক তিন ইভেন্টে ১২টি শিরোপা জেতেন গ্রিক দৌড়বিদ লিওনিদাস। প্রাচীন অলিম্পিকে লিওনিদাস শিরোপা জেতেন দ্য স্তাদিওন (স্প্রিন্ট), দ্য ডাইয়ুলোস (দূরপাল্লার দৌড়) ও হপলিতোদ্রোমোস (বর্ম গায়ে দৌড়) ইভেন্টে। তখন স্বর্ণপদকের প্রচলন ছিল না।

প্রাচীন গ্রিসে অলিম্পিক বিজয়ী খেলোয়াড়ের মাথায় উঠতো জলপাই পাতার মুকুট। আর এমন রেকর্ডে লিওনিদাসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ খোলা মাইকেল ফেলপসের। রিও অলিম্পিকসে ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ও ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে সুযোগ রয়েছে তার। আধুনিক অলিম্পিকসে ব্যক্তিগত অর্জনে বাকিদের পরিষ্কার ব্যবধানে পেছনে রেখেছেন ফেলপস।

উনিশ শতকের শুরুর দিকের মার্কিন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড তারকা রে ইউরির ঝুলিতে রয়েছে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮টি ব্যক্তিগত ইভেন্টের স্বর্ণপদক। রিও অলিম্পিকসের চতুর্থ দিনে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই সাঁতারে স্বর্ণ পদক কুড়ান ফেলপস। এতে ফেলপস ভেঙে অন্য একাধিক রেকর্ডও।

অলিম্পিকের পৃথক চার আসরে ব্যক্তিগত ইভেন্টের স্বর্ণপদকজয়ী প্রথম অ্যাথলেট তিনি। অলিম্পিকসে যার সাফল্যের শুরুটা ২০০৪ এথেন্স আসর থেকে। অলিম্পিক গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী সবচেয়ে বয়স্ক সাঁতারুও ৩১ বছর ২ মাসের মাইকেল ফেলপস। এতে তিনি ভেঙে দিলেন ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড। এতদিন রেকর্ডটি দখলে রেখেছিলেন ১৯২০ অলিম্পিকসে দ্বীপদেশ হাওয়াইয়ের তারকা ডিউক কাহানামোকু।

মধুর প্রতিশোধ
পুরুষ ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্ট শুরুর আগে আলোচনাটা ছিল ফেলপস ও শিরোপাধারী শাদ লে ক্লসকে নিয়ে। ২০০৪ ও ২০০৮ অলিম্পিকসে এই ইভেন্টের শিরোপা কুড়ান মাইকেল ফেলপসই। তবে লন্ডন অলিম্পিকসে ফেলপসকে টেক্কা দেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাঁতার তারকা লে ক্লস। আর এবারের ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইল ইভেন্টে রৌপ্যপদক জিতে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল ক্লসকে।

তবে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। পুরুষ ২০০ মিটার বাটারফ্লাই সাঁতারে বছরের সেরা টাইমিং নিয়ে রিওতে যান হাঙ্গেরির লাসলো সেহ। তবে এখানে সাঁতার শেষে লাসলোর অবস্থান ৭ নম্বরে।

পুত্র কোলে আবেগি ফেলপস
রিও-অলিম্পিকের চতুর্থ দিন মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি জিতলেন আরো দুই সোনা। অলিম্পিকে রেকর্ড ১৮ সোনা নিয়ে এবার রিও’তে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন সেটা গিয়ে দাঁড়ালো ২১ সোনাতে। অলিম্পিকে তার মোট পদক এখন ২৫। রিও-অলিম্পিকের প্রথম দিনই সোনা জিতে নিজেকে চেনান ফেলপস। যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু দলের সোনা জয়ে তিনি রাখে দারুণ অবদান। এবার ব্যক্তিগত ২০০ মিটার বাটারফ্লাইতে সোনা জেতেন তিনি। ফেলপস সময় নেন এক মিনিট ৫৩.৩৬ সেকেন্ড। এক মিনিট ৫৩.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে জাপানের তরুণ সাঁতারু মাসাকো সাকাই। এর ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন হাঙ্গেরির কেনদেরেসি। এই ইভেন্টে ২০০৪ ও ২০০৮ অলিম্পিকে সোনা জেতেন ফেলপস।

কিন্তু ২০১২ অলিম্পিকের ফেলপসকে হারিয়ে সোনা জেতেন দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যাড দে ক্লোস। কিন্তু এবার তিনি চতুর্থ হয়েছেন। ব্যক্তিগত এই সোনা জয়ের এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে যুক্তরাষ্ট্র দলের সঙ্গে ৪ক্ম২০০ ফ্রি স্টাইলে পুলে নামতে হয়। ক্লান্তি দূর হওয়ার আগেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। দলের সঙ্গেও দেখান দুর্দান্ত নৈপুণ্য। এই ইভেন্টে এই নিয়ে টানা চার অলিম্পিকে সোনা জিতলো যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিটিতে ছিলেন ফেলপস। এবার যুক্তরাষ্ট্র দল সোনা জিততে সময় নিয়েছে ৭ মিনিট ৩.১৩ সেকেন্ড। এই নিয়ে অলিম্পিকে ফেলপসের ঝুলিতে এখন ২১ সোনা, ২ রূপা ও ২ ব্রোঞ্জ- মোট ২৫ পদক। অথচ এই ফেলপস সাঁতার ছেড়ে দিয়েছিলেন।

২০১২-লন্ডন অলিম্পিকের পর তিনি অবসরের ঘোষণা দেন। এরপর নানা কাণ্ড করে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে ২০১৪ সালে ফেলপসকে গ্রেপ্তার করে বাল্টিমোর পুলিশ। এতে ফেলপসকে ১৮ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড দেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। আর যুক্তরাষ্ট্র সাঁতার ফেডারেশন ফেলপসকে দেন ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা।

ফেলপস বলেন, পুলিশ যখন তাকে গ্রেপ্তার করে তখন তার মনে যেতে ইচ্ছে করছিল। তবে ২০১৪ সালে ফের সাঁতারে ফেরার ঘোষণা দেন তিনি। এবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার আবেগ দেখা গেল তার মধ্যে। ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে সোনা জয়ের পর গ্যালারিতে ছুটে যান তিনি। কয়েক মাস আগে বাবা হয়েছেন তিনি। তার স্ত্রী গ্যালারিতে তখন সন্তান কোলে। চোখে জল টলমল করছে। ফেলপস ছুটে গিয়ে সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করে চুমু খেলেন। স্ত্রীকেও জড়িয়ে আদর করলেন। দুজনের চোখেই তখন জল।

Related posts