November 14, 2018

২১৫ পৌরসভা টার্গেট আ.লীগের

সারাদেশের ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে অন্তত ২১৫টিতে দলীয় মেয়র চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে এবার পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্ষমতাসীনদের ভেতরে চাওয়ার মাত্রা বেড়েছে। এর কম পৌরসভা হলে দলের ও সরকারের ‘ইমেজ’ নিয়ে কথা উঠতে পারে এ আশঙ্কা থেকে বেশি পৌরসভায় বিজয়ের টার্গেট নিয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, ২০০টি প্রায় নিশ্চিত হয়েই আছে। টার্গেট পূরণে বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে মাত্র ১৫টি পৌরসভা নিয়ে। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে একেবারেই শূন্যের কোঠায়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস প্রবল হয়েছে। তাই টার্গেট পূরণে সফল হবে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। এসব তথ্য জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
ইতিমধ্যে দুইশটি পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে এ বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হলেও টার্গেট অনুযায়ী বাকি ১৫টি পৌরসভায় কীভাবে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। তাই বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত ৩৪ পৌরসভা নিয়ে বাড়তি কাজ নিয়ে ব্যস্ত ক্ষমতাসীনরা।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, টার্গেট বেশি কারণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার কাজও বেশি করেছে। আর এর মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছে তারা। এদিকে বেশি পৌরসভায় জয়ের লক্ষ্যে দলের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে- এমন আভাসও মিলেছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে।
সূত্র জানায়, বেশি পৌরসভায় জেতার পেছনে আওয়ামী লীগের অন্যতম কারণ হল সরকার ও দলের ভাবমূর্তি বিতর্কমুক্ত রাখা, নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির সমালোচনার পাত্র না হওয়া ও দলীয় নেতাকর্মীর মনোবল চাঙ্গা রাখা। আওয়ামী লীগ মনে করে নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসে কোনওভাবেই চিড় ধরানো যাবে না।
নির্বাচন দেখভালের দায়িত্বে থাকা দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, চট্টগ্রামের রাউজান, সাতকানিয়া, সীতাকুন্ড, গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ, নীলফামারীর জলঢাকা, গাজীপুরের ত্রিশাল, রাজাবাড়ীর পাংশা, নাটোরের লালপুর, মেহেরপুরের গাংনী, নোয়াখালীর হাতিয়া, নড়াইল, ফেনীর সোনাগাজী, নরসিংদী, সাতক্ষিরা, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, কালাই ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি পৌরসভা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে আওয়ামী লীগ। এসব পৌরসভা দুটি কারণে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে ক্ষমতাসীনরা। এর অন্যতম এসব পৌরসভা জামায়াত অধ্যুষিত, দ্বিতীয় কারণ এসব পৌরসভায় দলের অভ্যন্তরীণ জটিলতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সম্পাদকমণ্ডলীর দুজন নেতা বলেন, দল ক্ষমতায় তাই সব জায়গায় ‘ছোট ছোট বঙ্গবন্ধু ও ছোট ছোট শেখ হাসিনা জন্ম নিয়েছে’। তারাই মূলত সমস্যা তৈরি করছে।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, ২০০টি পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বাকি ১৫টি পৌরসভায় বাড়তি ‘এফোর্ট’ দিতে পারলে টার্গেট পূরণে সফল হবে ক্ষমতাসীনরা। তাদের মতে, বেশির ভাগ পৌরসভায় দলের প্রার্থীর অবস্থান ভালো। ১৫টি আসনে অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে টার্গেট পূরণে খানিকটা বেগ পেতে হবে। তবে দলের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে টার্গেট পূরণে। তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ ঝামেলা নিরসন করতে পারলে দুশ্চিন্তামুক্ত হবে তারা। শিগগিরই অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলেন, টার্গেট পূরণ করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাদের কাছে ‘ফ্যাক্টর’ নয়। ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ জটিলতা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, সাত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট আমাদের কাছে দিয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে দুইশটি পৌরসভায় আমাদের প্রার্থীর অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত। বাকী পৌরসভাগুলোতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা আমাদের প্রার্থীর পক্ষে নয়। তাই এসব পৌরসভাগুলোতে বাড়তি কাজ করার কৌশল গ্রহণ করেছি আমরা। আশাকরি নির্বাচনের আগে এসব সমস্যা কাটিয়ে তুলতে পারব।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। তিনি বলেন, আমাদের একটি জরিপ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে- প্রায় সব পৌরসভায় আমাদের প্রার্থীর অবস্থান সুদৃঢ়। কিছু জায়গায় অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকার কারণে লক্ষ্য পূরণে আমাদের কিছু বেগ পেতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগেই এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আমরা মনে করি।

অপর সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর অবস্থা খুবই ভালো। যেখানে আমাদের প্রার্থী দুর্বল সেখানে আভন্তরীণ সমস্যার কারণে। তিনি বলেন, আমি মনে করি শিগগিরই তা কেটে যাবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts