September 24, 2018

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে আজ

ঢাকাঃ  জাতীয় সংসদে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে আজ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বাজেট পেশ করবেন।

বাজেটের আকার তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এবারের বাজেটে অবকাঠামো ও উন্নয়ন  প্রাধান্য পেতে পারে বলে গতকাল বুধবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বাংলাদেশের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “৩ কোটি ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট আসছে কিন্তু উন্নয়ন চাহিদার প্রেক্ষাপটে এটা যে খুব বড় তা কিন্তু নয়।”

এদিকে, বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থাৎ দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা জোগাড়ের দায়িত্ব পড়ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। সংস্থাটি হিসাব করে দেখেছে, নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দিনে আদায় করতে হবে প্রায় ৫৫৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। গত জুনে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ অঙ্ককে বলেছিলেন উচ্চাভিলাষী। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে নতুন বাজেট উপস্থাপন করছেন তাতে এনবিআরকে চলতি বছরের চেয়ে ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি আদায় করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড়তি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাজেট বক্তৃতায় নানা পরিকল্পনার কথা বলবেন অর্থমন্ত্রী। এনবিআরের জন্য দেবেন কিছু নির্দেশনা। নতুন কর আরোপের চেয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে বলবেন রাজস্ব কর্মকর্তাদের। শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে সংরক্ষণমূলক শুল্ক ক্ষেত্রবিশেষে ১ শতাংশ কমানো এবং বেশ কিছু পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন। পাশাপাশি দেশি শিল্পপণ্যকে অসম প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচানোর পদক্ষেপও ঘোষণা করবেন তিনি।

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত হবে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর)। এর পরই থাকবে আয়কর, সবচেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়েছে শুল্ক খাতে। ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন ২০১২ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের দায় রয়েছে সরকারের। তবে ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে এ আইনের কিছু ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রী আগেই দিয়ে রেখেছেন। প্যাকেজ ভ্যাট বন্ধ করে সব ক্ষেত্রে সমান অর্থাৎ ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল এনবিআরের।

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সে অবস্থান থেকে সরে এসে আগামী অর্থবছরেও প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখছে সরকার। অনলাইনে ভ্যাট এবং ইসিআর (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার) মেশিন ব্যবহারে বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। পুরনো পদ্ধতিতেই (ম্যানুয়াল) ভ্যাট পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে। তবে এবার ভ্যাট পরিশোধে ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

জানা গেছে, প্রায় দ্বিগুণ হারে প্যাকেজ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে আগামী বাজেটে। ভ্যাট আইন ২০১২ অনুসারে ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এতে পাড়ার মোড়ের ছোট্ট দোকানদার, গ্রামের ছোট্ট ব্যবসায়ীও ভ্যাটের আওতায় আসছে। সীমিত দু-একটি ক্ষেত্র ছাড়া উৎপাদন, সেবা এবং ব্যবসা পর্যায়ের অধিকাংশে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। এতে বেশ কিছু পণ্য ও সেবার দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়বে।

ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে অন্যতম শর্ত পূরণে বর্তমানে তিনটি সেবা কোডের বিপরীতে থাকা দেড় শতাধিক জরুরি পণ্য ছাড়া সব পণ্যে আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ভ্যাট আইন অনুসারে আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ লাইনের ৯১.৮ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের আওতামুক্ত রাখতে সম্পূরক শুল্কের স্তর ১৬টি থেকে ৯টিতে আনা হচ্ছে।

ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকাই থাকছে এবারও। তৈরি পোশাক খাতে করপোরেট কর কমছে। তবে এ খাতে উেস কর কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে।

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে নয়—এমন মন্তব্য বিভিন্ন সময়ে করলেও চাপে পড়েই চলতিবারের মতো নতুন অর্থবছরেও অপ্রদর্শিত অর্থ সম্পর্কিত ধারাটি বহাল থাকছে। তবে নির্ধারিত হারে জরিমানাসহ বকেয়া কর পরিশোধ করেই কেবল ওই অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে।

করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এনবিআর সফলতা দেখাতে না পারলেও অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় করদাতার সংখ্যা বাড়াতে দপ্তর সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনবিআরকে তৃণমূলে পৌঁছানোর কথা বলবেন। সম্পদশালীদের ওপর নজর থাকবে আগামী দিনেও। দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সারচার্জ হিসাবে বাড়তি অর্থ দিতে হবে।

অটোমেশনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিতে স্বচ্ছতা আনার বিষয়টি বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করবেন অর্থমন্ত্রী। আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক কমানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেবেন। এতে স্থানীয় যেসব শিল্প ক্ষতির মুখে পড়তে পারে তাদের জন্য কিছু সুবিধা ঘোষণা করবেন তিনি। কর অবকাশ সুবিধা কিছুটা কমালেও বহাল থাকবে। রপ্তানিমুখী শিল্পে মূলধনী যন্ত্রপাতিতে রাজস্ব ছাড় থাকছে। অনেক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হবে।

সুষম ও পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়নে গুরুত্ব দিয়ে কারখানা নির্মাণ, বয়লার নির্মাণ, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি আমদানি, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে শিল্পায়ন না করলে শাস্তি হিসেবে ভ্যাটের সঙ্গে সারচার্জের নামে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে কারখানা কর্তৃপক্ষকে।

শুল্কস্তর সমন্বয় করা হচ্ছে নতুন বাজেটে। চলতি অর্থবছরে আমদানি পর্যায়ে শুল্কের ০, ১, ২, ৫, ১০, ২৫-এর স্তর পরিবর্তন করে আসছে বারে থাকছে ০, ১, ৫, ১০, ১৫, ২৫। রাজস্ব আদায়ের অন্যতম খাত বিড়ি-সিগারেট-তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার নিরুৎসাহ করতে নতুন পদ্ধতিতে রাজস্ব বাড়ানো হচ্ছে। তামাক তৈরির যন্ত্রে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে। বিলাসবহুল হোটেল ও হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যেও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে।

আমদানি করা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সব ধরনের মোটরসাইকেলে রাজস্ব ছাড় থাকছে। টায়ার আমদানিতেও শুল্ক কমাবেন অর্থমন্ত্রী।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২ জুন ২০১৬

Related posts