September 23, 2018

২০১৫: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কলঙ্কতীলক ‘১৪৬ ক্রসফায়ার’

বছর শেষে আবারো আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব মতে, ২০১৫ সালে ক্রসফায়ারে মারা গেছে ১৪৬ জন। আর আইনশঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের। অর্থাৎ আইনের রক্ষকদের হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ১৯২। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে আটক করা হয়েছে ৫৫ জনকে এখনো তা স্বীকার করেনি সরকারের কোনো বাহিনী।

বৃহস্পতিবার আসকের বাৎসরিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও আসকের নিজস্ব সূত্রের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এইসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী এ বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে পাঁচজন ফিরে এলেও লাশ পাওয়া গেছে আটজনের, আর সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিভিন্ন বাহিনীর হাতে হেফাজতে থাকা ও ক্রসফায়ারে ১৯২ জনের মধ্যে কোন বাহিনীর হাতে কত জন নিহত হয়েছে তার একটি বিস্তারিত তালিকা দিয়েছে আসক।

ক্রসফায়ারে মৃত্যু: র‍্যাবের ক্রসফায়ারে ৫০ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ৭০ জন, র‍্যাব ও বিজিবির ক্রসফায়ারে একজন, র‍্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারে একজন, বিজিবির ক্রসফায়ারে একজন, আনসারের ক্রসফায়ারে একজন, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ক্রসফায়ারে ১৪ জন, যৌথ বাহিনীর ক্রসফায়ারে দুজন ও সেনাবাহিনীর ক্রসফায়ারে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু: পুলিশের নির্যাতনে সাতজন, গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে একজন, র‍্যাবের নির্যাতনে দুজন ও বিজিবির নির্যাতনে একজন মারা গেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পুলিশের গুলিতে ২৫ জন, গোয়েন্দা পুলিশের গুলিতে একজন ও বিজিবির গুলিতে দুজন মারা গেছেন। এ ছাড়া থানা হাজতে আত্মহত্যা করেছেন তিনজন, পুলিশ হেফাজতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং র‍্যাব হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর কারা হেফাজতে ৬৯ জন ও গণপিটুনিতে ১৩৫ জন মারা গেছেন।

রাজনৈতিক সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা: এ বছর সারা দেশে ৮৬৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন ১৫৩ জন আর আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৩১৮ জন।

আর প্রতিবেদনটিতে নারী নির্যাতন চিত্রে দেখা যায়, ২০১৫ সালে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ৩৫ জন নারী, এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ১০ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাঁচ নারী ও একজন পুরুষ খুন হয়েছেন। এছাড়া ৩০৪ জন নারী-পুরুষ হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।

গ্রাম্য সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১২ জন নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৯৮ জন।

যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ১৮৭ জন নারীকে আর যৌতুকের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৭৩ জন নারী, এর মধ্যে ২৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৫৪ জন। এই বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৫২ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬০ জনকে।

এছাড়া এ বছর ৬৩ জন গৃহপরিচারিকা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের পর মারা গেছেন সাতজন, রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের।

সংখ্যালঘু নির্যাতন: এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০৪টি বাসস্থান ও ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং ২১৩টি প্রতিমা, পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬০ জন।

সীমান্ত হত্যা: ২০১৫ সালে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩২ জন। নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, আহত হয়েছেন ৭৩ জন। অপহরণের শিকার হয়েছেন ৫৯ জন। আর অপহরণের পর বিজিবির মধ্যস্থতায় ফিরে এসেছেন ৩১ জন।বা.মে.

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts