September 22, 2018

২০০ টাকার বাটখারার জন্য মিন্টু খুন; রহস্য উন্মোচন

7

শিপলু জামান ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ  ২০০ টাকা মূল্যের একটি বাটখারার জন্য খুন হতে হয়েছে ঝিনাইদহের বারোবাজার ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিন্টু বিশ্বাসকে মাত্র ২০০ টাকা মূল্যের একটি বাটখারার জন্য খুন হতে হয়েছে ঝিনাইদহের বারোবাজার ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিন্টু বিশ্বাসকে। গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। এ সকল লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে এসেছে মিন্টু হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক যশোরের আন্দোলপোতা গ্রামের সিফাতুল্লাহর পুত্র আকবার বিশ্বাসের জবানবন্দি থেকে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেন।

জবানবন্দিতে আকবার বিশ্বাস জানিয়েছেন, মিন্টু সন্ত্রাসি ছিল। ভাই আব্দুল মান্নানের মাধ্যমে তার জন্য কাফনের কাপড় কিনে রাখতে বলেছিল। তাছাড়া আকবার বিশ্বাসের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাও দাবি করে। তিনি ১৭/১৮ হাজার টাকা দেন। এরপরও খুশি ছিল না মিন্টু। যে কারনে মিন্টুর প্রতি আকবার বিশ্বাসের আক্রোশ ছিল। এরপর বাটখারা নিয়ে দ্বন্দের পর বারোবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি অশোক মজুমদার যখন মিন্টুকে মেরে ফেলার কথা বলে তখন তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, মাত্র ২ শত টাকা মুল্যের পাঁচ কেজি ওজনের একটি বাটখারা হারিয়ে ফেলেছিল মিন্টু বিশ্বাস আর তার ভাই টিপু বিশ্বাস। এই বাটখারা ফেরত চাওয়া নিয়ে বচসা হয় খোকন ঘোষের সঙ্গে। খোকন ঘোষ বিচার দেন অশোক মজুমদারের কাছে। অশোক মজুমদার এই কথা শুনে তাদের কয়েকজনকে ডেকে পাঠান। রাতে নিজ বাড়ির পাশে বৈঠক বসিয়ে সিদ্ধান্ত দেন মিন্টুকে মেরে ফেলতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণস্বারা গ্রামের মাঠে নিজ পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার সময় খুন হন একই গ্রামের মিন্টু বিশ্বাস। মিন্টু বিশ্বাস বারোবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই ঘটনায় মিন্টুর ছোট ভাই টিপু বিশ্বাস বাদি হয়ে ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলায় তিনি ১৮ জনকে আসামী করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করার জন্য কালীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করে বাড়ি ছেড়ে স্ব-পরিবারে বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ছোট ভাই টিপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তারা এখন তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রায়ই মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে এলাকায় যেতে পারছেন না। বাকি আসামীগুলো ধরা না পড়া পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না বলে জানান টিপু বিশ্বাস।

অন্যথায় তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। টিপু বিশ্বাস আরো বলেন, অশোক মজুমদারের সঙ্গে জমি কেনাবেচা নিয়ে তাদের একটা বিরোধ ছিল। তিনি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, তারা এই হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে পেরেছেন। এখন চেষ্টা চলছে হত্যাকারিদের গ্রেপ্তারের। আশা করছেন আসামিরা গ্রেপ্তার হবে এবং হত্যার বিচার হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts