September 24, 2018

২য় সাবমেরিন ক্যাবল ষ্টেশন যে পর্যায়ে এখন

বরিশাল থেকে সাইয়েদ কাজল: দেশের সর্ববৃহৎ এবং দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ষ্টেশনটি  নভেম্বর মাসে চালু হবার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ও বৈরি হাওয়ার কারনে আরও দু মাস সময় লাগবে বলে সংস্লিষ্ট সূত্তে জানা গেছে। তবে এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইউরোপ থেকে সিংঙ্গাপুর হয়ে আসা সঞ্চালন লাইন সংযুক্তির জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের নিচ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া শ্রীলংকা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫০০০ দীর্ঘ ক্যাবল লাইনের সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পথে। কুয়াকাটার ষ্টেশন থেকে মাত্র সাড়ে নয় কিলোমিটার দুরত্বে উপকূলের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে আসা লাইনটির সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ করেই চালু করা হবে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ষ্টেশনটি।
প্রসঙ্গত যে ২০১৩সালে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা লতা চাপালী ইউনিয়নের আমখোলা গ্রামে প্রায় ১০একর জমির উপর ছয়শত ষাট কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ শরু হয়। যা চলতি নভেম্বর মাসে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈরী হাওয়ার কারণে আগামী ২০১৭সালে ফেব্রুয়ারী মাসে এই সাবমেরিনটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়। ঐ সূত্রে জানায় বৈরী হাওয়ার কারণে ক্যাবল সংযোগের চূড়ান্ত কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে এই চলতি মাসে এর কাজ শুরু হবে।
দেশের এই দ্বিতীয় সাবমেরিক ক্যাবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনের মাধ্যমে এক হাজার পাঁচশত জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সুবিধা সহ নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে সংযুক্ত হবে দেশ। কক্সবাজারে প্রথম স্থাপিত সাবমেরিন ষ্টেশনের চেয়ে আটগুন ক্ষমতাসম্পন্ন হবে এই সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনটি। সাবমেরিক ক্যাবল টেলিযোগাযোগ বিভাগের আ লিক প্রকল্প পরিচালক সাংবাদিকদের জানান বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। ক্রমেই এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শুধু কক্সবাজারে সাবমেরিন দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সাবমেরিন দিয়ে গ্রাহকরা প্রায়ই নেট সুবিধা থেকে বি ত হচ্ছে। এছাড়া কক্সবাজার-এ নির্মিত ২০০ জিবিপিএস ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম সাবমেরিন ষ্টেশনটি মেয়াদকাল প্রায় শেষের দিকে। ফলে দেশে এই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সাবমেরিন ক্যাবল ষ্টেশনটি চালু হলে গোটা দেশে নিরবিচ্ছিন্ন নেট সরবরাহ করা হবে।
আজ থেকে ইলিশ ধরা শুরু:  ২২দিনে দুঃস্থ জেলেরা ভিজিএফ-এর সহায়তা পায়নি।
গত ১২ই অক্টোবর থেকে ২রা নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখায় সরকার দুস্থ জেলে পরিবারদের খাদ্য সহায়তায় কর্মসূচির আওতায় চার বরাদ্ধ করা হলেও বরিশাল বিভাগের দুস্থ জেলেদের ভাগ্যে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন চাল জোটেনি। আজ বৃহষ্পতিবার থেকে সরকারী নিষেধ তুলে নেওয়া হলে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। গত ২২দিন অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটিয়ে।
এই জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের কে এবং ইউপি চেয়ারম্যানরা মৎস কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন বলে জেলেরা অভিযোগ করেন। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী (বিশেষ ভিজিএফ) চাল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে তিন হাজার পাঁচশত পচিশজন নির্বাচিত জেলেদের মধ্য থেকে ১হাজার আটশত জেলের জন্য ২ কেজি করে চাল বরাদ্ধ করা হলেও তা মৎস্য বিভাগ বিতরণ করতে পারেনি জেলেদের মাঝে। মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান চেয়ারম্যানদের সমন্বয় ও গাফিলতির কারণে তারা এই চাল বিতরণ করতে পারেনি। এ ছাড়া যথাসময়ে উপজেলায় চাল বিতরণ কার্যক্রমের নির্দেশনা না আসায় এই তালিকা তৈরীতে বিলম্বিত হওয়ায় প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য পেশার লোকদের অন্তভূক্তি হওয়ায় চাল বিতরণে জটিলতা দেখা দেয়।
কেদারপুর ও চাঁদপুর গ্রামের জেলে আক্কাস আলী জানায় গত ২২দিন পর্যন্ত যে কি কষ্টে ছিলাম তা আমনেগো বুঝাইতে পারমু না। হুনছিলাম সরকার আমাগো এই ২২দিনে ২০কেজি কইরা চাউল দিবো। কিন্তু মোরা এক কেজিও চাউল পাই নাই। চেয়ারম্যানরা জানায় মোগো ইউনিয়নে চাউল বরাদ্ধ হয় নাই।
উপকূলীয় অ ল বরগুনা পাথরঘাটা আমতলী তালতলী সাত হাজার জেলেরাও এই খাদ্য কর্মসূচী থেকে বি ত হয়। ঝালকাঠী জেলার ৪৬৫৮জন জেলেদের বিপরীতে ১৪৬০জন জেলেকে ২০কেজি চাল বরাদ্ধ করা হলেও তারা আজ পর্যন্ত কোন চাল পায়নি। ঝালকাঠী মৎস্য বিভাগ জানায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে দুস্থ জেলেদের তালিকা তৈরী করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের কে বলা হলেও তারা আজ পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ তালিকা দেয়নি।
গত ৩১শে অক্টোবর উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক আহমেদ ২রা নভেম্বর-এর মধ্যে জেলেদের ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের তাগিদ দিলেও আজ পর্যন্ত কোন জেলেরা চাল পায়নি বলে জেলেরা জানান।
বানারীপাড়ায় মন্দির ভাংচুর
আজ বৃহষ্পতিবার সকালে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বন্ধর বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী হরী ঠাকুরের মন্দিরে দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। বানারীপাড়া থানা পুলিশ জানায় ভোর ৬টার দিকে একদল দুষ্কৃতিকারী মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমা দূর্গাদেবী সহ প্রায় ১১টি ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতারের অভিযান চলছে। মন্দির এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।

 

Related posts