September 19, 2018

১ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২দিন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ট্রাস্কফোর্সের ব্যাপক প্রস্তুতি

chandpur Jatka-Elish

এ কে আজাদ, চাঁদপুর : জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আগামী ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২দিন নদীতে মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

২২দিনের এ অভিযানে এসব এলাকায় মাছ আহরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন সম্পূণরূূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত চাঁদপুর জেলা ট্রাস্কফোর্স ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে।

গত কয়েক বছর জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় ইলিশের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের কয়েকটি অভয়াশ্রমের মধ্যে চাঁদপুরের ১শ’ কিলোমিটার এলাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতমধ্যে জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সভা, সমাবেশ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এলাকায়-এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ট্রাস্কফোর্স কমিটির বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সভা গুলোতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেছেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু হবে। বিগত বছর গুলোর চাইতে এ বছর আরোও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। মা ইলিশ রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বর্তমান সরকার এই ইলিশের নামেই চাঁদপুরকে ব্যান্ডিং জেলা হিসাবে ঘোষণা করেছে। যদি আমরা চাঁদপুরবাসী মা ইলিশ রক্ষা করতে না পারি। তাহলে আমাদের ইলিশের নামের ব্যান্ডিং জেলার কোনো মূল্য থাকবে না।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মো. মাসুদ হোসেনের পরিচালনায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, যে সকল এলাকাগুলোতে জেলেরা বেশি নদীতে নামে সেই সকল এলাকাগুলো কে চিহ্নিত করে প্রশাসনের নজরধারী বাড়ানো হবে। কোনো জেলে নদীতে নামতে পারবে না। যদি কোনো জেলে মাছ ধরতে নদীতে যায়, তাহলে তাদের সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। সেই ব্যক্তির জেল হবে, জামিন পাবে না এবং জব্দ করা জাল ও নৌকা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে। মা ইলিশ রক্ষায় পুলিশ, চেয়ারম্যান, মেম্বার যেই হোক। কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সুধু তাই নয় যাদের প্ররোচনায় জেলেরা মাছ ধরতে যাবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘১ তারিখের আগে মা ইলিশ রক্ষায় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সভা সমাবেশ করে আপনারা প্রচার-প্রচারণা করবেন। চর এলাকায় কিছু কিছু স্থানে অসাধু জেলেরা কারেন্ট জাল ফেলার চেষ্টা করে। সে স্থানগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি রাখতে হবে। অভায়াশ্রম চলাকালিন সময়ে নদীতে মাছ ধরার নৌকাগুলোকে জব্দ করে আইনাগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া অভায়াশ্রম চলাকালীন সময়ে যদি কোন বরফ কল মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা মৎস কর্মকর্তা একা কাজ করলে হবে না। অন্য কর্মকর্তাদেরও কাজ করতে হবে। মৎস কর্মকর্তারা ম্যাজিস্টেটদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবেন। তিনি মা ইলিশ রক্ষায় সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন।

Related posts