November 16, 2018

১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী!


হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে আসছেন ১৯ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ত দেবেন তিনি। এবারের অধিবেশেনের শ্লোগান, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য : আমাদের বিশ্বকে এগিয়ে নিতে সংঘবদ্ধ চাপ’। ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের নেতারা জাতিসংঘের এ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে সাইড-বৈঠকেও মিলিত হবেন। বাংলাদেশের বক্তব্য কবে উপস্থাপিত হবে সেটি এখনও নির্দ্ধারিত হয়নি।

তবে ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কোন এক সময় এটি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা জানান, এর আগে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে যতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে সে আলোকে (ওয়াটার এ্যান্ড সেনিটেশন বিষয়ে) ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন শেখ হাসিনা। এ বৈঠকের হোস্ট হচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। একইদিন ২০ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত ‘লিডার্স সামিট অন গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস’ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে আবস্থানের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে জাতিসংঘের কর্মসূচির ওপর। এজন্যে আরো কদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে, বিগত কয়েক বছরের মত এবারও শেখ হাসিনা জাতিসংঘ ফোরামে বিশেষভাবে সমাদৃত হবেন। দারিদ্র বিমোচন, জঙ্গিবাদ দমনসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের স্বীকৃতি মিলবে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে-এমন আভাসও পাওয়া গেছে জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে।এবারের শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি পিটার থমসন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ গুরুত্বপূর্র্ণ অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সাথে।

ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় আওয়ামী লীগের নয়া কমিটি গঠন নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগে আলোচনা তুঙ্গে। একইসাথে নিউইয়র্ক স্টেট এবং সিটি কমিটির শীর্ষ ৩ কর্মকর্তার নামও ঘোষণা করতে পারেন সংগঠনের সভানেত্রী-এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি মেয়াদউত্তীর্ণ। এরজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঢাকায় তদ্বির করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী এবং সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর। তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের কর্মীরাও সংগঠনকে উজ্জ্বীবিত করতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। ড. সিদ্দিকুর রহমানকে চেয়ারপার্সন করে প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়টিও শোনা যাচ্ছে। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এ সময়ে একজন নারীকেও মূল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। আমেরিকা-বাংলাদেশ এলাইন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, যুক্তরাষ্ট্র্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. নূরন্নবী, ইউএস সেনসাস ব্যুরোর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ড. মনসুর খন্দকার, বাকসুর সাবেক জিএস ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, ফার্মাসিস্ট আকতার হোসেনের নাম রয়েছে সভাপতির তালিকায়। সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় ঢাকায় অবস্থানরত এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী নিজাম চৌধুরীর নাম রয়েছে (যদি তিনি ঢাকার পরিবর্তে নিউইয়র্কে অবস্থানে সম্মত হন)।

এ পদে আরো রয়েছেন বর্তমানের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি ওসমান গনি,সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিলন,ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগর সভাপতি রফিক পারভেজ । নানা হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানে।

নেতৃত্ব নির্বাচনে আর্থিক বল, সংগঠনের জন্যে সময় দেয়ার মানসিকতা এবং মূলধারার সাথে সম্পর্ক ছাড়াও সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে-এসব দিক বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় বিশেষ দুয়েকটি অঞ্চলকেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে এসব পদে। ১/১১ পরবর্তী সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনার সফরসঙ্গি হওয়া লোকজনকে নেতৃত্বে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে এবারও।

Related posts