December 11, 2018

১৩ বিএসএফকে আটক করেছিল নেপাল!

বিএসএফ সদস্য

ভারতের ১৩জন সীমান্তরক্ষীকে রবিবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে আটক করেছিল নেপালি পুলিশ। তবে তাদের বেশ কয়েকঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ভারত বলেছে, চোরাকারবারিদের ধাওয়া করতে গিয়ে ওই জওয়ানরা ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে গিয়েছিলো। খবর বিবিসি বাংলার।

দু’দেশের মধ্যে দিনভর আলোচনার পর ওই জওয়ানরা শেষ পর্যন্ত বিকেলে মুক্তি পেয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নেপাল ও ভারতের সম্পর্কে যে ক্রমশ অবনতি ঘটছে, তা এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল।

নেপালের মদহেশি জনজাতির বিক্ষোভ আর অবরোধ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে যে ভারত-নেপাল সীমান্ত উত্তেজনা চলছে– ভারতের দিকে সেই সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে আছে সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি।

এদিন সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ নেপাল লাগোয়া বিহারের কিষেণগঞ্জ জেলার ওই বাহিনীর বারো নম্বর ব্যাটেলিয়নের একদল জওয়ান ডিজেল পাচারকারীদের পিছু ধাওয়া করে। আর তখনই তারা ভুলবশত নেপালের ভেতর ঢুকে পড়েন বলে এসএসবি জানায়।

বাহিনীর আইজি (অপারেশনস) দীপক কুমার জানান, ‘ডিজেল স্মাগলারদের পিছু ধাওয়া করে দুজন জওয়ান নিজেদের রাইফেল সঙ্গীদের কাছে জমা রেখে তাদের ধরতে ছুট লাগান। আর তখনই তারা ভুল করে নেপালের ভেতর ঢুকে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ওই দুই নিরস্ত্র জওয়ানকে ঘিরে ফেলেন এবং নেপাল পুলিশের হাতে তুলে দেন।’

‘এদিকে সঙ্গীদের কী হয়েছে জানতে বাকি ১১জন জওয়ানও একটু পরে সেখানে গেলে তাদেরও আটকে দেওয়া হয় – এসএসবির মোট ১৩জন সদস্যকেই নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্স বা এপিএফের চৌকিতে বসিয়ে রাখা হয়।’

এদিকে ভারতের আধাসেনাদের নেপালের ভেতর আটকে রাখা হয়েছে, দিল্লিতে এই খবর আসতেই হুলুস্থূল পড়ে যায়। এসএসবি-র মহাপরিচালক বিডি শর্মা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সঙ্গে সঙ্গে নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মুক্তির দাবি জানায়।

দুদেশের মধ্যে দিনভর আলোচনার শেষে বিকেলে ১৩জন সীমান্তরক্ষী অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পান। কিন্তু এসএসবি ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছে তা নিয়ে প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করে নেপাল।

দিল্লিতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত দীপ কুমার উপাধ্যায় বলেন, ‘এসএসবি যাদের ধাওয়া করেছিল বলে বলছে তারা চোরাকারবারি ছিল কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তারা এলাকার গরীব লোক বা স্থানীয় কৃষকও হতে পারে। কারণ আপনারা জানেন ওই এলাকায় ডিজেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চরম সঙ্কট চলছে। তাছাড়া আমাদের পুলিশ কিন্তু ওই জওয়ানদের আটকে রাখেনি– বরং গ্রামবাসীদের ক্ষোভ থেকে তাদের বাঁচাতেই উদ্ধার করে এনেছিল।’

নেপালের অভিযোগ, মদহেশিদের বিক্ষোভে প্রচ্ছন্ন মদত দিয়ে ভারতই আসলে কাঠমান্ডুর বিরুদ্ধে অঘোষিত অবরোধ চালাচ্ছে– আর জ্বালানি তেল থেকে লবণ-চাল-গম না-পেয়ে সাধারণ নেপালিরা ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন। অবরোধের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও সংবিধানে মদহেশিদের স্বার্থরক্ষার দাবিতে ভারত অবশ্য তাদের সমর্থন আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।

নেপালে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত দেব মুখার্জিও বিবিসিকে বলেছেন, নেপালের সংবিধানে মদহেশিরা যেভাবে উপেক্ষিত হয়েছেন, তাতে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিতই ছিল।বিবিসি বাংলা

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts