November 21, 2018

১২ লাখেরও বেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে থাকছে

ষ্টাফ রিপোর্টার:  শুধুমাত্র সার্কভুক্ত ৬ দেশের প্রায় সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে থাকছে। ওইসব দেশের বৈধভাবে নাগরিক থাকছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩শ ৬৬ জন। আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ওই ৬ দেশের নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৪।

সার্কভক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাগরিক হচ্ছে ভারতের এবং কম হচ্ছে মালদ্বীপের। ভারতের পর পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুট্টান। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, অবৈধ এসব বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অনেকেরই বর্তমানে ওয়ার্ক পারমিট নেই এবং ভিসার মেয়াদও শেষ। এরপরও তারা বিভিন্ন ব্যবসা ও চাকরি করছে। অনেকেই বাংলাদেশি জাল পাসপোর্ট এবং জাল ন্যাশনাল আইডি কার্ডও ব্যবহার করছে। কেউ কেউ বাংলাদেশের ভোটারও হয়েছে। এসব বিদেশি নাগরিকের সিংহভাগই ঢাকায় বসবাস করেন। এদেশের শ্রমবাজারের একটি অংশ দখল করে আছে। তারা বিভিন্নভাবে আয় করে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই নিজ নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। ফলে একদিকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ এবং অন্যদিকে আর্থিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এরমধ্যে বৈধ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭ এবং অবৈধ প্রায় ১০ লাখেরও বেশি। পাকিস্তানের নাগরিক ৫৪ হাজার ৩শ ৭, বৈধ ২৪ হাজার ৩শ ৭ এবং অবৈধ প্রায় ৩০ হাজার। নেপালের নাগরিক ২৭ হাজার ৬, বৈধ ১২হাজার ২শ ৪০ এবং অবৈধ প্রায় ১৫ হাজার। শ্রীলংকার ৮ হাজার ৫শ ২৩, বৈধ ৫ হাজার ২৩ এবং প্রায় অবৈধ ১০ হাজার। ভুট্টানের ২০ হাজার ৫৬, বৈধ ১৬ হাজার ৭ এবং প্রায় অবৈধ ৪ হাজার এবং মালদ্বীপের ১৭ হাজার ৩২, বৈধ ৮ হাজার ৩২, বাকী প্রায় ৯ হাজার অবৈধ।

বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের লোকবলও বেশি। ভারতীয় নাগকিরদের মধ্যে বেশির ভাগই গার্মেন্টস, ক্লিনিক্যাল, সিমেন্ট এবং ইপিজেড ব্যবসায় জড়িত। প্রায় শতাধিক গার্মেন্টসের মালিক ভারতীয় নাগরিক। আর তাদের মালিকানায় রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক ফ্ল্যাটবাড়ী। এছাড়া ইপিজেডের সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান, নার্সিং এবং এনজিওতে কেউ কেউ কর্মরত রয়েছে।

পাকিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে সিংহভাগই গার্মেন্টস, কাপড় এবং চামড়া জাতীয় ব্যবসায় জড়িত। নেপালের নাগরিকদের মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্র। এরা ডাক্তারী বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এদেশে এসেছে। কেউ কেউ পাস করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। ভুটানের নাগরিকদের মধ্যে বেশির ভাগই গ্যাস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শ্রীলংকার নাগরিকরা ব্যবসা ও পেশায় নিয়োজিত। আর মালদ্বীপের নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই ডিপ্লোমা নার্সিং পেশায় জড়িত। এছাড়া মালদ্বীপের বেশকিছু নার্সিংÑএ অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রী রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসব নাগরিক চোরাপথে অর্থাৎ অবৈধভাবে নিজ নিজ দেশে যাতায়াতও করছেন। বর্ডার গার্ড এবং পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক শ্রেণির সদস্যের সঙ্গে দুর্নীতি এবং সখ্যতার কারণে অবৈধভাবে থাকা এসব নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অবৈধভাবে অবস্থানকারী নাগরিকদের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে একটি সংস্থা বেশ তৎপর রয়েছে।

Related posts