November 19, 2018

১২ এপ্রিল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

428
ঢাকাঃ  দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ মো. আমিনুল ইসলাম সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ দিন ঠিক করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, বুধবার মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে না পারায় এবং মামলাটিতে হাইকোর্টের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার রিট খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন থাকায় তার পক্ষে সময় আবেদন করা হয়। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে ১২ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে এই মামলায় গত বছরের ৩১ নভেম্বর বিচারিক আদালতে হাইকোটের নির্দেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিন্ম আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। গত বছরের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিচার্জ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় স্থায়ী জামিন পান বেগম জিয়া। নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে খালেদার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই দিনে আরেকটি মামলা করেছিল দুদক। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাইকোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেয়।

মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও আরো ১০ জন আসামি রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা হলেন- সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের প্রাক্তন সচিব মো. শফিউর রহমান, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts