November 20, 2018

১১২ প্রাণ কেড়ে শেষ হলো ভোট!

ঢাকাঃ  তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত সময় প্রায় সাড়ে তিন মাস। এর মধ্যে সহিংসতায় নিহত ১১২ জন, আহত কয়েক হাজার। ছয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এই হলো চিত্র। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়েছে। সে কারণে নির্বাচনের আগেই ব্যাপক সংঘাত, সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এর আগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। এরশাদের শাসনামলে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রাণ হারায় অন্তত ৮০ জন।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত ছয় ধাপে ভোট নেওয়া হয়েছে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নে। ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, জোর করে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় সর্বশেষ ষষ্ঠ ধাপের ভোটগ্রহণের দিন ১৫টি জেলায় সহিংসতা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন ৩৩১ জন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ আছেন ২১ জন।

এর মধ্যে নোয়াখালীতে গুলিতে নিহত হয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। ফেনীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন সদস্য প্রার্থীর এক সমর্থক। ময়মনসিংহে সংঘর্ষের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। সুনামগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন একজন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। চার হাজার ২৭৫টি ইউনিয়নে ছয় ধাপে নির্বাচন করার কথা বলা হয়। ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১২, ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ৬৩৯, ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ৬১৫, ৭ মে চতুর্থ ধাপে ৭০৩ ও ২৮ মে পঞ্চম ধাপে ৭১৭ ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। ষষ্ঠ তথা শেষ ধাপে ভোট হয়েছে ৬৯৮টি ইউনিয়নে।

আগের পাঁচটি ধাপের ভোটের আগে ও পরে নিহত হয়েছেন ১০৭ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পঞ্চম ধাপে। এই ধাপের ভোটের দিন ১৬ জন মারা গেছেন। এরপর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা প্রথম ধাপে ১০ জন। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচনের দিন নিহত হন আটজন। তৃতীয় ধাপে সহিংসতা ছিল কম। এই ধাপে নিহতের সংখ্যা এক। চতুর্থ ধাপে প্রাণ হারান ছয়জন। সব মিলিয়ে ছয় ধাপে কেবল নির্বাচনের দিন নিহত হয়েছেন ৪৫ জন। এ ছাড়া ভোটের আগে ও পরে মারা গেছেন ৬৭ জন। মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে কোন্দলই বেশির ভাগ সহিংসতার কারণ বলে জানা গেছে।

বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

শেষ ধাপে সহিংসতায় চারজন নিহতঃ  নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নে সহিংসতায় গুলিতে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম ইয়াছিন আরাফাত (২০)। তিনি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি ভেলানগর গ্রামে। এ ঘটনায় মেম্বার পদপ্রার্থীসহ আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন। বিভিন্নভাবে আহত ২৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে ভেলানগর মোহাম্মদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মেম্বার প্রার্থী বাচ্চু ও কামালের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে ছাত্রলীগ নেতা আরাফাতসহ অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর মধ্যে আরাফাতকে উদ্ধার করে ঢাকা পাঠানো হলে বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকালে ভেলানগর মোহাম্মদিয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রের বাইরে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগকর্মী ইয়াছিন আরাফাতকে গুলি ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। চিকিৎসার জন্যে তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে মৃত্যু হয় তাঁর।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন নামনুর হোসেন স্বপন (২৩)। ইউনিয়নের চর ভৈরব হাজার তোফায়েল আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। স্বপন ওই এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহিরাগত ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক অস্ত্র নিয়ে ওই কেন্দ্রের সামনে যায় এবং গুলি ছুড়তে থাকে। কেন্দ্রের ভেতর থেকেও পাল্টা গুলি ছোড়া হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে স্বপন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে পুলিশসহ আরো ১২ জন আহত হয়েছে। সোনাগাজী থানার ওসি মো. হুমায়ূন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় মৃত্যু হয়েছে মো. শাহজাহান (৫২) নামের এক ব্যক্তি। তিনি ওই ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টায় দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শাহজাহান সংজ্ঞা হারান। তাঁকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিক মাহমুদ বলেন, শাহজাহান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর শরীরে আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম কোহিনুর আলম (১৮)। এ ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বেকইঝোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পাইকরহাটি ইউনিয়নের বেকইঝোরা ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনাকালে বাইরে মেম্বার প্রার্থী সৈয়দ শামছুল হক এবং তৌফিক মিয়ার লোকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন মেম্বার পদপ্রার্থী সৈয়দ শামছুল হকের ছেলে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে মারা যান কোহিনুর আলম।

কেন্দ্র দখল, হামলা-সংঘর্ষে আরো ৩৩১ জন আহতঃ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চর ভৈরব হাজি তোফায়েল আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে পুলিশ, আনসার সদস্য ও পোলিং এজেন্টসহ ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দু-তিনজন গুলিবিদ্ধ। মতিগঞ্জ কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে একজন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় ভোটকেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শাহরাস্তির মেহার উত্তর ইউনিয়নের দেবীপুর ভোটকেন্দ্রে তিন চেয়ারম্যানপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে বিএনপির চেয়ারম্যানপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম রনিসহ ২০ জন আহত হয়েছে। টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের আলীপুর ভোটকেন্দ্রে দুই দফা সংঘর্ষে আহত হয়েছে আরো ১০ জন।

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানা এলাকার দোসাইদ একে স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আহত হয় ১০ জন। জাল ভোট দেওয়ার সময় সাভারের বিরুলিয়ার কমলাপুরের ভবানীপুর এলাকায় একজন সদস্য প্রার্থীর ১০ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১২ জন। একই ইউনিয়নের নিদিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দলের ‘বিদ্রোহী’ (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছে। সালটিয়া ইউনিয়নের পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩০ জন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি করে। গুলিতে আহত হয়েছে তিনজন। নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাতলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ৪৫ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। ওই সময় অসতর্কতার কারণে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আশুগঞ্জের বিওসি ঘাট এলাকায় শত শত লোক সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আহত হয়েছে ২০ জন। নাওঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পারিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও দলটির ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ছয়জন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফাইমা বেগমের ভাই মাসুদ রানা ওরফে রঞ্জু। তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেন্দ্রে ঢুকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা জোর করে ব্যালটে সিল মারতে গেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হরিপুর ইউনিয়নের বেলপাড়া কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির সময় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দেশীয় অস্ত্রসহ ছয় যুবককে আটক করেছে। উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভেতর থেকে তাদের আটক করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, ভাটরা ও ভোলাকোট ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর লোকজনের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল ও পেড়িয়া ইউনিয়নে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের গুলি ও সহিংসতায় ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া কেন্দ্রগুলোয় ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ চৌহালীর ঘোরজান ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী রমজান আলী ও বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আটজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের জামুরিয়া ইউনিয়নে  দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের দেহুন্দা ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। আহতদের কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে ব্যালট ছিনতাইকারীদের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে  বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেরপুর শ্রীবরদীর রাণীশিমূল, গোসাইপুর, ভেলুয়া তাতিহাটি ইউনিয়নে পৃথক সংঘর্ষে ২১ জন আহত হয়েছে। আহতদের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার কে গাতী ও মেদনী ইউনিয়নে পুলিশের লাঠিপেটায় শিক্ষক, গৃহবধূ ও শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া মদনপুর ইউনিয়নে নরেন্দ্র নগর কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় একজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নে সহিংসতায় সদস্য প্রার্থীসহ আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিভিন্নভাবে আহত ২৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ছয়টি ইউনিয়নে সহিংসতায় ১৩ জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলি ও দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মিঠানালা ইউনিয়নে দুই মেম্বার পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আট কেন্দ্র স্থগিত, ৩৪ প্রার্থীর ভোট বর্জনঃ

বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ব্যালট পেপারে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ভুল ছাপা হওয়ায় কেন্দ্রগুলো স্থগিত করা হয়। সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাথালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নে ১৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ ও কমলনগর ইউনিয়নের সাতটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়। গফরগাঁও নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাতলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

মাদারীপুর শিবচরের সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন মৃধা ভোট বর্জন করেছেন। একই অভিযোগে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নির্বাচন বর্জন করেন। গাইবান্ধা সাঘাটার কামালেরপাড়া ইউনিয়নে কারচুপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী মতলুবর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন। নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে কেন্দ্র দখলের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান স্বপন ও অশ্বদিয়া ইউনিয়নে আবদুল্লাহ আল ফারুক নির্বাচন বর্জন ঘোষণা দেন।

নরসিংদীর পলাশ ও মনোহরদীতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র চার প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। নড়াইল লোহাগড়ার কোটাকোল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। পাবনা সদর ও চাটমোহরে চার প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। সাভারের বিরুলিয়া, পাথালিয়া ও ভাকুর্তা ইউনিয়নে তিন বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। চট্টগ্রাম মিরসরাই বিএনপি প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন।

পঞ্চম ধাপে আহত একজনের মৃত্যুঃ  পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের দিন পাবনার ঈশ্বরদীতে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত সিরাজুল ইসলাম কালু (৪০) গতকাল মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার বাবুলচারা গ্রামের মৃত গেদু শাহর ছেলে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বিমান কুমার দাশ জানান, সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বুথের ভেতর ঢুকে ব্যালট ছিনতাই নিয়ে দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালেরকন্ঠ

Related posts