September 26, 2018

১/১১’র সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, যাকে আজীবন বইতে হবে সেই বেদনা

রাকেশ রহমান: একজন নিরপেক্ষ লোক যদি নেতা যাচাই করতে চায় তাহলে সে কি কিরবে…? তাহলে সেই লোককে অবশ্যই নেতাদের সম্পর্কে জানতে হবে, নেতাদের ইতিহাস পড়তে হবে। শুধু ইতিহাস পড়লেই হবেনা… এখন যুগ অনেক উন্নত, ইচ্ছে করলেই আমরা দেখতে পারবো আমাদের প্রিয় নেতাদের ভিডিও, সাক্ষাৎকার, বিভিন্ন আলোচনা ইত্যাদি। আমরা সাধারন জনগণরা সহজে ইচ্ছে হলেও জাতীয় নেতাদের সরাসরি দেখতে বা তাদের কথা শুনতে পারি না। তাদেরকে পাওয়া অনেক কঠিন।

আর যারা তাদের সামনে যান তথা অনুষ্ঠানের কাছাকাছি থাকেন তারাও প্রিয় নেতাদের আলোচনা ছাড়া একান্ত মেশার সুযোগ পান না। তাই জনসাধারন ও যারা নেতাদের আলোচনা কাছাকাছি থেকে শুনেন তাদের ঐ নেতা সম্পর্কে একই ধ্যান-ধারনা হয়। তবে যদি আমরা যারা তৃণমূল তারা নেতাকে চিনতে, জানতে চাই তাহলে ভালভাবে লক্ষ্য করে মন দিয়ে তাদের সাক্ষাৎকার, বিভিন্ন আলোচনা, ভিডিও চিত্র দেখি শুনি তাহলে তার সম্পর্কে আমাদের ধারনা পরিষ্কার হবে। আসুন একটু কষ্ট করে পড়ে নেই তারেক রহমানের একটি একান্ত সাক্ষাৎকার ও কিছু টা জেনে নেই তার চিন্তা ভাবনা ও কষ্ট । “২০১০ সালে লন্ডনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে শওকত মাহমুদের একান্ত সাক্ষাৎকার” “কেন আমার ওপর এই অমানুষিক নির্যাতন হলো? কত তদন্তই তো হলো; কিছুই তো প্রমাণ হলো না। অথচ অত্যাচারের কারণে সারা জীবন আমাকে পঙ্গুত্ব আর অসহ্য বেদনা বয়ে বেড়াতে হবে।” অবর্ণনীয় এক আবেগ বুকে চেপে অনেকটা স্বগতোক্তির মতোই বললেন তারেক রহমান ! “আমার বাবা জিয়াউর রহমান গ্রাম-গঞ্জে অবিরাম হেঁটে হেঁটে মানুষের মাঝে থাকার রাজনীতি করতেন। আমিও শুরু করেছিলাম সেই হাঁটা ৷

বলুন তো, কেন ওরা আমার মেরুদণ্ড ভেঙে আমাকে স্থবির করতে চেয়েছিল? সেই হাঁটা, সেই রাজনীতি বন্ধ করতে?” উল্টো আমার দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বিষন্ন ,অভিমানী তারেক রহমান ! ১/১১’র আমলে সবচাইতে বেশি নির্যাতিত রাজনীতিক, যাকে আজীবন বইতে হবে সেই বেদনা ! বেদনার্ত অতীতকে খুঁড়ে তুলতে, স্মরণে আনতে বিমর্ষ তারেকের বেশ অনীহা ! তবু আমার সন্ধানী জিজ্ঞাসায় বললেন, “২০০৭-এর ৩১ ডিসেম্বর রিমান্ডে থাকাকালে আমার ওপর নানা রকমের দৈহিক নির্যাতন করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল অনেক উপর থেকে বার বার ফেলে দেয়া ! অসহ্য যন্ত্রণায় আমি কুঁকড়ে উঠেছি ! কিন্তু ওইসব অফিসারের বিন্দুমাত্র মায়া-দয়া হয়নি। ওদের দায়িত্ব ছিল আমাকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় আমি কারাগারে। কোনো ডাক্তার নেই। চিকিৎসা হয়নি। প্রতিটি দিন কেটেছে নারকীয় যন্ত্রণায় ! একজন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, গ্রেফতার চলতে পারে ! কিন্তু নির্যাতন করার, শরীরের অঙ্গ বিকল করার, মানবাধিকার পদদলিত করার অধিকার সভ্যতার কোথায় আছে?” সামরিক শাসনামলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া শরীরি নিপীড়নে মৃতপ্রায় তারেক রহমান ২০০৮-এর জানুয়ারি আদালতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছিলেন ! বললেন, “জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চোখ বেঁধে (২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা) আমাকে নিগৃহীত করা হয়েছে।

আমি একজন রাজনীতিবিদ ! কোনো সন্ত্রাসী নই। এর আগে আমার চিকিৎসার জন্য আদালত নির্দেশ দিলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রিমান্ডে আবার নির্যাতন হলে আমি বাঁচব না।” অথচ সবার মনে আছে, ডিজিএফআই’র মিডিয়া-পেষণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তারা সেদিন মিডিয়ায় বার বার দাবি করেছিলেন, তারেক রহমানকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি ! কিন্তু জাতি দেখেছে, ডাক্তাররা রিপোর্ট দিয়েছেন, অমানবিক নিগ্রহে তারেক নিশ্চল ! স্বল্পাহারী তারেক রহমান ডাল দিয়ে ভাত খেতে খেতে বলছিলেন, “আমাকে নিয়ে তদন্তকারীরা যে সিরিয়াসলি তদন্ত করেছে, তা মনে হয় না ! চারশ’ স্যুটকেস ডলার ভরে সৌদি আরবে পাচারের অভিযোগ তুললে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, একটি ডিসি-১০ বিমানের কার্গোহোলে কত স্যুটকেস আঁটে বা একজন যাত্রী অত স্যুটকেস কীভাবে নিয়ে যেতে পারে—সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা আছে কিনা। এরপর তারা আর সে বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করেনি। সরকারব্যবস্থা বা রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ওইসব বিপথগামী অফিসার স্রেফ আক্রোশের বশে আমাকে নির্যাতন করেছে। তদন্তকারীদের কিছু জ্ঞান তো থাকতে হয় !

আমাকে নিঃসাড় করে দেয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য !” ওইসব তদন্তকারী ওরফে নির্যাতকদের চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তারেক ‘না’ সূচক মাথা নাড়লেন ! বাংলাদেশের বর্তমান শাসন নিয়ে কথা উঠতেই হাসতে হাসতে বললেন, “বাংলাদেশে তো এখন হাওয়া ভবন নেই,তারেক রহমান নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশে কি দুর্নীতি-অনিয়ম-সিন্ডিকেট বাণিজ্য-কমিশন সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে? কত কিছুই না তখন লেখা হয়েছে। মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছে ! খোঁজ নিয়ে দেখুন, বাংলাদেশের রাজনীতির মানদণ্ডে একজন রাজনীতিক যা করে থাকেন, আমি তার সীমা কখনও অতিক্রম করিনি !” জিজ্ঞেস করি ,”আপনার সঙ্গে অনেকে ছিল, কারও কারও দুষ্কর্মের দায় আপনার উপর পড়েছে বলে মনে হয়?” “হতে পারে কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করেছেন ! কিন্তু যখনই আমার নলেজে এসেছে, ব্যবস্থা নিয়েছি ! আমি মূলত দলের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছি ! দুঃস্থদের সাহায্য করেছি !” তরুণ এই রাজনীতিকের কণ্ঠে স্মৃতি জাগল ! “বাংলাদেশ নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছি ! বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারের একটা রূপকল্পের পাশাপাশি দেশকে সবল, স্বনির্ভর করার স্বপ্ন—দুটিই একসঙ্গে কাজ করেছে। আমি ব্যাপক জরিপের মধ্য দিয়ে চিহ্নিত করেছিলাম, দেশের কোন থানায় কোথায় এক বিঘার বেশি জমিতে কত ফলের বাগান আছে, মাছের চাষ হচ্ছে ! সেসব কৃষক বা উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা,দুঃস্থ, কর্মহীনদের উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করার ছক বানিয়েছিলাম ! রাসায়নিক সার আমাদের জমির উর্বর শক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে ! তাই দেশীয় পদ্ধতির সার ব্যবহার, শিল্প, বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায়সমূহ চিহ্নিত ও বাস্তবায়ন করার বিষয়গুলো আমার কম্পিউটারে সবসময় থাকত ! খাল কাটার বিষয়ে বিশদ পরিকল্পনা বানিয়েছিলাম ! শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রেখে সেচে ব্যবহার, বন্যার সময় পানি নিষ্কাশন, শহীদ জিয়ার দেশ-জাগানো কর্মসূচিগুলোর পুনরুজ্জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে ছিলাম ! কাজও শুরু হয়েছিল !”

একনাগাড়ে কথাগুলো বলেই তারেক বুঝলেন, প্রশ্নকারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা উত্থাপনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। যে প্রশ্নটি ব্যাপক মানুষের ! “ওই পর্বই কি শেষ পর্ব? দেশে আর ফিরবেন না? রাজনীতি আর করবেন না? স্বপ্নের রূপায়ণ কি থেমে থাকবে?” একনাগাড়ে আমার ওইসব জিজ্ঞাসায় কিছুক্ষণ চুপ রইলেন ! হাত টাওয়েলে বারকয়েক হাত মুছলেন ! হৃদয়াবেগের বিহ্বলতা ছড়িয়ে পড়ল ! হাসিতে আড়াল করতে চাইলেও পরোক্ষ বিস্তৃত অভিমান ! “কেন যাব বলুন তো শওকত ভাই ! জিয়া পরিবার আর কত নির্যাতন সইবে? আমার বাবা দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিলেন। আম্মা আমাদের নিয়ে কত কষ্ট করেছেন ! বেগম খালেদা জিয়া দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু গ্রেফতার, নির্যাতন,হামলা, মামলা, বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ নানা ষড়যন্ত্র তাকে সইতে হয়েছে এবং হচ্ছে ! আমার ভাই কোকো অসুস্থ, বিদেশে, মামলায় পড়েছে ! আমি, আমার পরিবার নিয়ে বিদেশে ! এখানে না এলে বাঁচতাম কিনা জানি না ! আম্মা বাংলাদেশে একা, পরিবারের সঙ্গ-বঞ্চিত !দেশ ও দলের কাজে ব্যস্ত ! এটা কি স্বাভাবিক অবস্থা? আমার জন্যে, কোকোর জন্যে আমাদের ছেলেমেয়েরাই বা কেন সাফার করবে???” তেমনই তারেক রহমান সম্পর্কে আমাদের জানতে হলে তবে মানুষের কথায় কান না দিয়ে সরাসরি আপনাদের তার সম্পর্কে পড়তে হবে তার ইউটুব লিংক থেকে ভিডিও বের করে শুনতে হবে বার বার মনোযোগ দিয়ে। তাহলে বক্তবের ভিতরে যে কথা নিহিত রয়েছে তা আমরা বুঝতে পারবো, তা না হলেও কাছাকাছি নিরপেক্ষ জ্ঞানী লোকের মাধ্যমে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। কারন আমরা জানি তারেক রহমান একজন উচ্চ ও আন্তর্জাতিক মানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার প্রীতিটি আলোচনার তাৎপর্য রয়েছে। এবার আমি আমাদের এই প্রিয় ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে কয়েকভাবে বিশ্লেষন করে উপস্থাপন করবো।

যাতে সকল জনসাধারনের তার সম্পর্কে বুঝতে, চিনতে, জানতে ধ্যান-ধারনা করতে সহজ হয়। প্রথমে আমি চলে যাব তারেক রহমান সাহেবের বেড়ে উঠা পরিবেশ পরিবার সমাজ সম্পর্কে। তিনি বেড়ে উঠেছেন বাংলাদেশের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় বাবার অনুশাসনে। আমরা জানি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যথেষ্ট মিতব্যয়ী ছিলেন এবং বিলাসিতা একেবারেই করতেন না যার বহু নমুনাও আমরা জানি ও শুনেছি। এরকম আদর্শের শিক্ষাই দিয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান তার পরিবারকেও। যেহেতু তারেক রহমান সেই পরিবারের একটি অংশ সেহেতু তিনিও সেই শিক্ষাই শিক্ষিত। বাবা মারা যাওয়ার পর তারেক রহমান সাহেব চরম একটা আঘাত পান কিশোর অবস্থায় হয়ে যান পিতৃহীন। যাই দেখেছেন শিখেছেন বাবার কাছ থেকে তাই নিয়ে মায়ের পাশে দাঁড়ান শুধু দাঁড়ানোই না বরং ছায়ারমত মাকে তথা দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বত্র, সবসময় সংঙ্গ দিয়েছেন দেশ ও জাতির পাশে দাঁড়াতে সেই বয়স থেকেই। আমাদের দেশে একটি কথা আছে, “লোকে বলে পিতৃহীন সন্তান মানুষ হয় না” কখনো কখনো এই কথাটি ভুল প্রমানিত হয়। আমি নিজেই তার একটি উদাহরণ। যাননি দেশের বাহিরে কোন বিলাসিতা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে তথাকথিত অশুভ মহলের সন্তানদের মতো বরং পড়াশুনা করেছেন দেশেই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মতো।

দেশের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাতেই বড় হয়েছেন। দেশের ছেলে দেশেই থাকবে এটাই তো বড় সার্থকতা। সাধারণত বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের ছেলেমেয়েদেরকে দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উচ্চ শিক্ষার নাম করে বিদেশী ডিগ্রী ক্রয় করতে। আর তারেক রহমান তিনি তো বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও একটা বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রীর ছেলে তার উপর আবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পেক্ষাপটে তার জীবনের যথেষ্ট হুমকি থাকা সত্বেও তিনি দেশেই ছিলেন। আমরা অনেকেই জানি আমাদের দেশের এম পি, মন্ত্রীদের সন্তানদের কুকীর্তি আকাশ ছোঁয়া সেখানে তারেক রহমান তার জীবন অতিবাহিত করেছেন সুশৃঙ্খলভাবে। কখনো কোন রাস্তায় মদ্য পান করে তাকে উশৃঙ্খলভাবে কখনও কোনদিনও দেখাও যায়নি এমন খবর শুনাও যাইনি। আমরা অনেকেই অহেতু সমালোচনা করি, না জেনেও বলি তবে বলবেন তথ্য প্রমানসহ। বরং তারেক রহমান সাহেব সম্পর্কে যতক্ষানী জানি বুঝি তা হচ্ছে উনি ধীর স্থির, চিন্তাশীল, দার্শনিক, ধার্মিক এবং আল্লাহ্‌র প্রদত্ত যথেষ্ট জ্ঞান উনার আছে যার প্রতিফলক পড়বে ইনশাআল্লাহ্ আমাদের দেশ ও জাতির উপর। তাই অশুভমহল চায় তারেক রহমানের মানব অধিকার বলতে কিছু থাকবেনা ও রাজনীতিতে যেন তারেক রহমান না আসতে পারে সেই চেষ্টাই তারা করে যাচ্ছে।

লেখক, রাকেশ রহমান,

প্রেসিডিয়াম সদস্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি।

( মুক্তমত লেখকের নিজস্ব মতামত, এতে আমাদের প্রকাশনা নীতির বহিঃ প্রকাশ ঘটে না )

Related posts