September 25, 2018

হুমায়ূনকে প্রয়াত বলতে নারাজ :শাওন

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালন করেন তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত।

উপন্যাসিক, চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেছেন, ‘আমি মানতেই পারি না যখন কোনো অনুষ্ঠানে বলা হয় আজ প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন। সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, কবি—এ ধরনের মহান মানুষ কখনো প্রয়াত হন না। আমি চাই না হুমায়ূন আহমেদের আগে প্রয়াত কথাটা বলা হোক।’ তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালন দাবি করেন।

গতকাল শুক্রবার গাজীপুরে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জন্মদিনের কেক কেটে শাওন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত তাঁর পাশে ছিল।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন যেভাবে ভাবি, আজকেও সেভাবেই ভাবছি। বিখ্যাত মানুষগুলোর ক্ষেত্রে যা হয়, জন্মদিন, মৃত্যুদিন, বিশেষ দিনগুলোতে খবরগুলো আমরা পাই। আমরা তাঁর খোঁজ করি, পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে কথা বলি। পরিবারের লোকজন কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তেই তাঁকে স্মরণ করে।’

শুক্রবার ছিল হুমায়ূন আহমেদের ৬৭তম জন্মদিন। এদিন নুহাশপল্লীতে তার ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়। এ সময় হুমায়ূন ভক্তরা ছাড়াও কণ্ঠশিল্পী এস আই টুটুল উপস্থিত ছিলেন।
১০ ফুট বাই সাত ফুট আকৃতির এ ম্যুরালটির নির্মাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অয়েল পেইন্টিং বিভাগ থেকে পাশ করা কুমিল্লার হাফিজ উদ্দিন বাবু। ঢাকার শাহবাগ এলাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ম্যুরাল, ধানমণ্ডিতে ভাষা সৈনিকদের ম্যুরাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনার ম্যুরাল, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও তিনি করেছেন বলে জানান বাবু।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টা ১মিনিটে ৩৬০টি মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমদের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
আমাদের নেত্রকোনা প্রতিনিধি ভজন দাস জানান, হুমায়ূন আহমেদের নিজ গ্রাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কতুবপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কুতুবপুরে নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত স্বপ্নের স্কুল ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’-এর চত্বরে হুমায়ূন বই মেলা। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন লেখকের চাচা অলতাফুর রহমান ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন।

ফরিদপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধি সঞ্জিব দাস জানান, একটু ভিন্ন পরিসরে এতিমখানার শিশুদের নিয়ে পালন করা হয় হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। সকালে টেপাখোলা সরকারি শিশু সদন শান্তিনিবাসে লেখককে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ, ছবি ও প্রবন্ধের প্রদর্শনী করা হয়।
আমাদের জামালপুর প্রতিনিধি শফিক জামান, হুমায়ূন ভক্তরা দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করে। এর অংশ হিসেবে সকালে বকুলতলা মোড় থেকে র‍্যালি হয়। পরে শহীদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধ্যাপক তারিকুল ফেরদৌস, ডা: এম এ তাহের, ফজলে রাব্বি সৌরভ, রিফাত ও আতিক।

Related posts