November 15, 2018

হিজাব পরা ছাত্রীকে অপমানঃ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়

ঢাকাঃ  হিজাব পরে ক্লাসে আসার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় পেজে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি ও বহিষ্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আজিজুর রহমান ক্লাসে থেকে ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার দশ মিনিটের ভিডিও ইউটিওয়েবে গতকাল প্রকাশ পেয়েছে। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই শিক্ষককে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শোনা গেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে ওই ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার সময় তার সহপাঠীরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী আজিজুরের ক্লাস বর্জন করে। এদিকে এই ঘটানাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফেইসবুকে একটি ইভেন্টও খোলা হয়েছে ঘটনাটির বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য।

তবে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও গত বছর হিজাব পরে ক্লাসে আসাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাবিলা ইকবালকে মানসিক লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছে এমন ঘটনা গণমাধ্যামে প্রকাশ পায়। সেই সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমলোচানার মুখে পড়ে ছিল ওই শিক্ষক। ফেইসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পবিবারে শিক্ষার্থীরা যে পোস্টগুলো করেছে তা থেকে কয়েক তুলে দেওয়া হলো-রেজানুল রাজা নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ঢাবির ভর্তি নির্দেশিকায় কোথাও লেখা নেই যে, এখানে ক্লাস করতে হলে বোরকা, হিজাব খুলে ক্লাস করতে হবে!! সুতরাং আজিজুর রহমানদের মত অসুস্থ মানসিকতার মানুষদের জন্য ঢাবির মেয়েরা বিভিন্ন লাঞ্ছনার শিকার……………!!

কে হিজাব/বোরকা পরবে আর কে টি শার্ট জিন্স পরবে এটা নিতান্তই যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার ! তামান্না ইসলাম শেফা নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, বাংলার মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজিজ স্যারের মত ইসলাম বিদ্বেষী শিক্ষক থাকা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা হয়। সুতরাং কে কোন পোশাক পরবে তা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। দুপুরে ভিডিওটি দেখলাম যেখানে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে বলছেন বোরকা পরার অপরাধে। ভাবতে লজ্জা লাগছে এমন শিক্ষকও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন, যিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে এভাবে আচরণ করেন, যার অপরাধ ‘হিজাব’ পরা। অন্যদিকে এটাও ভেবে গর্ব হচ্ছে এমন শিক্ষার্থীও আছেন যিনি এমন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারে এবং নিজের সহপাঠীর পাশে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আজিজুর রহমান গত মঙ্গলবার হিজাব পরার কারণে বিভাগের শ্রেণীকক্ষে থেকে শিক্ষার্থীকে বের করে দেয় এমন অভিযোগ উঠে। ছাত্রীটি প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও আজিজুর রহমান তার নাম ডাকেন না এবং উপস্থিতিও দেন না। সর্বশেষ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ক্লাসেও একই ঘটনা ঘটায় ছাত্রীটি দাঁড়িয়ে তার হাজিরা দেওয়া জন্য স্যারকে অনুরোধ করে। ড. আজিজুর রহমান তাকে হিজাব খুলে ক্লাসে আসলে হাজিরা দেয়া হবে বলে জানিয়ে দেন এবং বলেন, তুমি কি ছাত্র না ছাত্রী সেটা কিভাবে বুঝবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার আইডেনটিটি কি? এর পর ওই ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

উৎসঃ   ইনকিলাব
দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৮ এপ্রিল ২০১৬

Related posts