September 21, 2018

হায় সাকিব! হায়!!

বিশ্ব্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান

স্পোর্টস ডেস্কঃ     সাকিব আল হাসান কেবল একজন বিশ্ব্বসেরা অলরাউন্ডারই নন, কোটি তরুণের আদর্শ। মাঠে দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান আর দুরন্ত বোলার। কঠিন অধ্যবসায়ে আজ দেশসেরা খেলোয়াড় মাগুরার এই বাঁহাতি। কিন্তু নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণে বারবার হেরে যাচ্ছেন সাকিব। তুচ্ছ ঘটনায় জন্ম দিচ্ছেন বিতর্কের, হচ্ছেন দণ্ডিত। ২০১৫ অনেকটা নির্বিঘ্নেই পার হচ্ছিলেন। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত পারলেন না বিতর্কমুক্ত থাকতে। নিষিদ্ধ হলেন সাকিব আল হাসান। খেলতে পারলেন না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) একটি ম্যাচ। বৃহস্পতিবার সিলেটে সুপার স্টার্সের বিপক্ষে ১৩তম ওভারের সময় একটি আউটের আবদনে সাড়া না দেয়াতে আম্পয়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন রংপুরে অধিনায়ক সাকিব। তাকে সেই সময় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহিদ ও তানভীর আহমেদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করতে দেখা যায়। পরে আম্পায়ারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাতেই সাকিব আল হাসানকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও অন্য অরেকটি ঘটনায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ম্যাচ রেফারি সেলিম সাহেদ। এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে গতকাল সাকিব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেনি।

সাকিব ছাড়া তার দল ব্যাট করতে নেমে বিপিএল’র এই আসরে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর ৮২ রানে গুটিয়ে যায়। পরে ভিক্টোরিয়া ৯ উইকেটের জয়ও তুলে নেয়। এর আগে ২০১৪তে সাকিব শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে ক্যামেরার সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। যে কারণে সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২টি ও পরে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। এরপর আরও বড় শাস্তির মুখোমুখি হন গত বছর জুলাই মাসে। জুনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে ড্রেসিং রুম ছেড়ে গিয়ে কয়েকজন তরুণকে পেটান তিনি। এর পরপরই বিসিবি’র এনওসি (অনাপত্তি পত্র) ছাড়াই সিপিএল খেলতে চলে গেলে তাকে প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে অবশ্য অপরাধ মেনে নিয়ে ক্ষমা চাইলে তার সেই শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে তিন মাস করা হয়।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিলেট সুপার স্টার্সের ইনিংস চলার সময় এই দুই ঘটনা ঘটে। থিসারা পেরেরার করা ১৩ম ওভারের শেষ বলে মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদন করে রংপুর। বল গ্লাভসবন্দি করেই উৎসব শুরু করেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিঠুন। জোরালো আবেদন করেন বোলার থিসারা। তবে আম্পায়ার তানভীর আহমেদ রংপুরের সেই আবেদন সাড়া দেননি। তখন আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে রেগে কিছু বলতে দেখা যায় রংপুর অধিনায়ককে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় অন্য আম্পায়ার শরফুদ্দৌলাকে।’ এই ঘটনাতেই আবারও একবার শাস্তির মুখোমুখি হলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

সেই ম্যাচে সিলেটকে ৬ রানে হারিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে সাকিব বলেন, ‘মাঝেমধ্যে এ রকম হয়ে থাকে। আমি আসলে ওটা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’ সাকিব ম্যাচ রেফারির দেয়া শাস্তি মেনে নেয়ায় এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts