September 24, 2018

হাসিনা-মোদির সঙ্গে মঞ্চে মমতাও থাকছেন

uykfবাংলাদেশ ও ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর পাশে একই মঞ্চে যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকছেন, সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হলো। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথা জানান।

শ্রীপ্রিয়া অবশ্য আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিস্তা নিয়ে কোনো মীমাংসায় পোঁছানো এই সফরে সম্ভব হচ্ছে না।
শ্রীপ্রিয়া বলেন, শনিবার হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন, সেই আসরে মমতা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে খুলনা-কলকাতা বাস ও ট্রেন চলাচল এবং পার্বতীপুর-বিরল রেললাইন দিয়ে হাইস্পিড ডিজেল পাঠানোর কাজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুরু করা হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর পাশে ওই অনুষ্ঠানে মমতাও থাকবেন। এ ছাড়া পরের দিন রোববার হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যে নৈশভোজ দিচ্ছেন, মমতাকে সেখানেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
হায়দরাবাদ হাউসে উপস্থিত থাকা মমতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রীপ্রিয়া বলেন, এ নিয়ে আগাম কিছু বলা সাজে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা কখন কোথায় কী নিয়ে কথা বলবেন বা বলবেন না, তা আগাম বলা সম্ভব নয়।
আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা হলেও এ ধরনের উপস্থিতিতে নেতা-নেত্রীদের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটে যায়। সে কথা জানিয়ে সরকারের এক সূত্র আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, হাসিনার সঙ্গে মমতার সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। হাসিনাকে মমতা তাঁর বড় বোনের সম্মান দেন। মমতাকেও হাসিনা স্নেহ ও শ্রদ্ধা করেন। দুই নেত্রীর রসায়নও সুন্দর। এক ছাদের তলায় কিছু সময় থাকাকালীন তাঁদের মধ্যে যে গঠনমূলক কথা হবে না, তা কে বলতে পারে?
শ্রীপ্রিয়া অবশ্য আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিস্তা নিয়ে কোনো মীমাংসায় পোঁছানো এই সফরে সম্ভব হচ্ছে না। এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাধ্যবাধকতার বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ সফরের সময়েও তা তিনি বলেছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সম্মতি প্রয়োজন, যা এখনো আসেনি। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, মমতা যখন হাজির থাকছেন, তখন এ নিয়ে আলোচনা সম্ভব কি না। যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া অবশ্য এ নিয়ে কোনো জল্পনায় যেতে রাজি হননি।
শেখ হাসিনার সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা’ করে শ্রীপ্রিয়া শনিবার বলেন, এই সফরে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। মেয়াদ পাঁচ বছরের। একটিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় থাকছে, অন্যটি হবে ভারত থেকে সমরাস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়। এ জন্য বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ভারত দেবে। তিনি জানান, মোট ২০টির বেশি চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সই হবে। এগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিও রয়েছে। শ্রীপ্রিয়া বলেন, দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে আরও সীমান্ত হাট ও ল্যান্ড কাস্টমস খোলা হবে। সে জন্যও একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।

Related posts