November 19, 2018

হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামের কারণ এবং প্রতিকার

ঘামের

আমাদের অনেকেরই হাত ঘামার সমস্যা আছে। বারবার হাতের তালু মুছেও কোনো লাভ হয় না। আবার ভিজে যায়। কেনো হাতের তালু ঘামে তার নির্দিষ্ট কোনও কারণ না থাকলেও চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, অতিরিক্ত স্নায়ুবিক উত্তেজনার কারণে, শরীরে গ্লুকোজের স্বল্পতা থাকলে, ভিটামিনের অভাব থাকলে হাতের তালু ঘামে। আবার বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- পারকিনসন্স, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস থাকলেও ঘামতে পারে। অনেকের জেনেটিক কারণেও হাত-পা ঘামে।

তবে যে কারণেই হাতের তালু ঘামুক না কেনো তা কিভাবে প্রতিরোধ করবেন জেনে নিন।

কাঁচা লবণ খাবেন না
কাঁচা লবণ খাবেন না। রান্না করা তরকারির বাইরে পাতে লবণ খাওয়া বন্ধ করুন। রান্না করার সময়ই তরকারিতে লবণ পরিমাণমতো দিন। তাতে দেখবেন হাত ঘামা অনেকটাই কমে যাবে।

শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
বাইরে থেকে এসে হাত পায়ে শ্যাম্পু লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরিষ্কার করে শুকনো তোয়ালে দিয়ে হাত-পা মুছে ফেলতে হবে। পা ঘামার ক্ষেত্রে জুতায় পাউডার লাগিয়ে নিতে হবে এবং সুতির মোজা ব্যবহার করতে হবে। অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত এক ধরনের বিশেষ লোশন হাত-পায়ে ব্যবহার করুন, দেখবেন হাত-পা ঘামা কমে যাবে। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বেকিং সোডা ও বেবি পাউডার
হাতের তালুতে ঘাম হওয়া কমাতে বেকিং সোডা ও বেবি পাউডার বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে ১০ মিনিট হাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। বেকিং সোডার ক্ষারীয় উপাদান তালুর ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে হাত শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বেবি পাউডার দুর্গন্ধ দূর করতে কাজ করে।

টমেটোর রস
টমেটোর রস ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এটি ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে আর ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একবার টমেটোর রস পান করুন। এক সপ্তাহ পর খেয়াল করবেন তালুতে ঘাম হওয়া কমে গেছে। সাধারণত খনিজ বা ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ঘাম বেশি হয়। আর টমেটোতে আছে পটাশিয়াম ও ম্যাগনিসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। তাই নিয়মিত টমেটোর রস পান করলে হাতের তালু থাকবে সতেজ ও শুষ্ক।

জিঙ্ক
জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ যা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া ঘাম এবং দুর্গন্ধ রোধ করতে জিঙ্ক বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে সহায়ক খাবার হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শে দিনে ৩০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ট্যাবলেট খেতে পারেন। অথবা প্রতিদিন সকালে জিঙ্ক অক্সাইড পাউডার হাতের তালু ঘষলেও উপকার পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কপার-সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুললে চলবে না, কারণ জিঙ্ক শরীরে কপারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

রোজমেরি
রোজমেরি একটি ভেষজ উপাদান। যা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কার্যকর‌ভাবে প্রভাব ফেলে। আর স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘামের পরিমাণও কম হয়। তাছাড়া রোজমেরি হালকা সেডাটিভ হিসেবেও পরিচিত। সাধারণত উত্তেজিত হলেই ঘাম বেশি হয়। তাই ঘামের সমস্যা কমাতে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

রোজমেরি ইসেনশল অয়েল সঙ্গে রাখতে পারেন। হাত ঘামা শুরু হলেই এই তেলের গন্ধ নিন, কাজে দেবে। বিশেষ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে নার্ভের অস্ত্রোপচার করেও হাত-পা ঘামা কমানো যায়।

Related posts